Saturday, June 8, 2024

"লেফট বিহাইন্ড সিন্ড্রোম"

 খুব মজার একটা জার্নাল পড়লাম সেদিন (আসলে খুঁজছিলাম অন্যকিছু ঢুকে গেছি এই মাঝে; ধান ভানতে শিবের গীত গাওয়া এবং শোনার অভ্যাস অনেকদিনের!)

মজার বলছি এই কারনে যে আমরা কোন জার্নাল বা সায়েন্টিফিক পেপাপ লেখার চিন্তা করতেই ভাবি, "কি নিয়ে লিখি"? "শক্তপোক্ত" বিষয় পাইনা! তাক লাগানো কিছুই পাইনা! অথচ এই জার্নাল একেবারেই সাধারণভাবে লেখা, বিষয় "সার্জারি করতে গিয়ে আমাদের ইন্সট্রুমেন্ট এর লেফট বিহাইন্ড"! এখানে অবশ্য অথর একজন প্লাস্টিক সার্জন বলে প্লাস্টিক সার্জারিকে ফোকাস করা হয়েছে।

জার্নালের শুরুটা এমন সিডনির কোন এক পুরাতন হাসপাতাল রিনোভেট করার সময় উঁচু কাঠের সিলিং এ খুঁজে পাওয়া গেল একটা "স্কালপেল" ( নাম bistoury; এই জিনিস এখানকার স্কালপেলের একেবারে আদি ফরমেট!)।

Scalpel কোত্থেকে আসলো!?

এই প্রশ্নের সমাধান খুঁজতে হাজির করানো হল প্রবীণ এক নার্সকে, যিনি চাকুরী শেষ করে তখনো নার্স কোয়ার্টারে থাকেন। তার সূত্র ধরেই আবিষ্কার হল "একজন "বদরাগী" সার্জন ১৯২০ এর কোন একদিন সার্জারি করতে গিয়ে রাগে তার স্কালপেল ছুড়ে দিয়েছিলেন দিগ্বিদিক এবং ম্যাজিকের মত সেটা ভ্যানিশ! (এখনকার সার্জনরা কিন্তু এই ট্যাগ থেকে সরে আসছেন! তারা "বদরাগী" থেকে এখন "কুল" হচ্ছেন! তবে এই আলোচনা অন্য কোনদিন!)

"ইন্স্ট্রুমেন্ট কাউন্ট" করার ব্যাপারটা যে দরকারি ছিল সেটার আলোচনা এখান থেকেই শুরু! (এখানে অবশ্যই একটা ব্যাপার লক্ষণীয় ওরা ডকুমেন্টেশনকে কতটা গুরুত্ব দেয়! আর এত "আজাইরা" সময়ই বা পায় কোথায়!?)

"লেফট বিহাইন্ড" বা পেছনে ফেলা আসা! আমরা কতকিছুই না পেছনে ফেলে আসি, পেছনে "ফেলে আসা স্মৃতি", "ফেলা আসা শৈশব" কত গান কবিতা আর আবেগের গল্প। কিন্তু সার্জন হিসেবে "ফেলে আসা" ব্যাপারটা মোটেই কোমল আবেগের ব্যাপার না! একজন সার্জনের জন্যে, পুরো টিমের জন্যে "বি-ভী-ষি-কা"! বিভীষিকা শব্দটা আসলে নাইটমেয়ারের সঠিক বাংলা হল কিনা জানিনা; তবে যদি কোন সার্জন বা কাছের কেউ এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে থাকেন তবে তিনি বুঝবেন শব্দটার জোর কতখানি!

সার্জন "পিছনে ফেলে" আসেন নন আবজরর্বেবল সুতা/ wire, mesh, ইমপ্ল্যান্ট, আর্টিফিসিয়াল গ্রাফট, বিভিন্ন ধরনের ক্লিপ এইসব। রুটিন অপারেটিভ প্রসিডিওরে প্লাস্টিক সার্জন হিসেবে আমরা রেখে আসি "প্রচুর পরিমাণে" ভাস্কুলার ক্লিপ, (অবশ্যই বেশ ছোট; রেড এন্ড খুব অল্প পরিমানে ব্লু; তবে রেডিও-ওপেক এবং ভবিষ্যতে MRI করতে ঝামেলা করেনা), আর রেখে আসি সিলিকন (ব্রেস্ট ইমপ্লাণ্ট একটা বড় অংশ হলেও অন্যান্য চিন, নাসাল ইমপ্ল্যান্টও এই কাতারে পড়ে), এছাড়া ইমপ্ল্যান্ট হিসেবে বিভিন্ন মিনি প্লেট স্ক্রু থাকে (অরবিট, চিন, ফিঙ্গার ইত্যাদি), Mesh (Prolene or Vipro), কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রসথেসিস হিসেবে PEEK, Bone cement এগুলো। এমন নানাবিধ foreign material পেছনে ফেলে আসতে হয়, কখনো সাময়িক কখনো স্থায়ীভাবে।

এগুলো "ঠিকঠাক রেখে আসতে পারলে" তো আসলে আমরা খুব খুশীই থাকি। বিপত্তি বাধে হচ্ছে যা রেখে আসতে চাইনা তেমন কিছু রয়ে গেলে। যেহেতু বড় ক্যাভিটি হিসেবে অ্যাবডোমেন আমরা অবডোমিনাল রিকন্সট্রাকশন না হলে খুলি না তাই সঙ্গত কারণেই জেনারেল সার্জারির চাইতে আমাদের ডিসিপ্লিনে এই ক্যাভিটিতে রেখে আসার ঘটনা কম ঘটে!

"কম" বলছি একটু "সহজাত যুক্তিপূর্ন ভাবনা" থেকে; যদিও আসলে সায়েন্টিফিক কথা বলতে গেলে এইসব কম বেশি টাইপের কথা খুবই দুর্বল! সবল হচ্ছে সরাসরি ডাটা, এভিডেন্স! ব্যাপার হচ্ছে আমাদের দেশে তো কোন সার্জারিরই এমন "লেফট বিহাইন্ড" ডাটা নাই তবে সারা পৃথিবীতে আলাদা করে প্লাস্টিক সার্জারির কোন ডাটাও নাই! অন্তত আমি খুঁজে পাইনি।

তবে অভারঅল সার্জারির যে ডাটা আছে তা থেকে দেখা যায় খোদ "কান্ট্রি অফ এক্সিলেন্স" আমেরিকাতেই প্রতি ১৫০০ সার্জারির একটাতে এমন রেখে আসার ঘটনা ঘটেছে! যেখানে একেবারে সাম্প্রতিক ডাটা অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ায় সংখ্যাটা লাখে ৭.৬ জন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা রেখে আসেন গজ; এই সংখ্যাটা শতকরা ৫০ ভাগের আশেপাশে! এছাড়া মপ, নিডল, ইন্সট্রুমেন্ট, এমন অনেক কিছুই এই তালিকায় আছে! আমাদের প্লাস্টিক সার্জারি করতে গিয়ে আমি নিজের অভিজ্ঞতা: এবডোমেনে মপ, mesh ইন্টেস্টেইনএর ভেতর (ইন্টেস্টেইন পার্শিয়ালি ফাংশনাল!), রাইনোপ্লাষ্টি রোগীর নাকের ভেতর আস্ত স্যালাইন ব্যাগের টুকরা, স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা রোগীর হাঁটুর ভাঁজে ত্রিশ বছরের পুরোনো ইটের টুকরো, কত কি! (এবং অবশ্যই কোন ক্ষেত্রেই "কে করেছে" সেটার পেছনে ছুটিনি বা "সোরগোল জমাইনি"! রোগীকে রিয়েক্ট করতে দেওয়ার তো প্রশ্নই আসেনা!)

এসবের মাঝে যাদের কাজগুলোই সুক্ষ্ণ যেমন চক্ষু সার্জারি বা আমাদের মাইক্রোসার্জারি তাদের ছোট্ট ইন্সট্রুমেন্ট হারানোর পর খুঁজে না পাওয়ার ব্যাপার তো আছেই। অনেকসময় এইসব কেইসে "লস্ট" ঘোষণা দিয়ে বসতে হয়! কয়েকদিন আগে পায়ের সার্জারিতে এক ভাস্কুলার ক্ল্যাম্প খুঁজতে আমাদের পুরো ওটি কমপ্লেক্স-এর স্পরাইল স্ক্যানিং করিয়ে ফেলার অবস্থা!

এগুলো বন্ধ করার উপায় কি?

- আসলে "বন্ধ" করার উপায় নাই! ব্যাপারটা অদ্ভুত শোনালেও সত্যি তাই। "বন্ধ" মানে হল "স্টপ"; ফুল স্টপ - মানে "আগামীকাল থেকে যত অপারেশন হবে সারা দুনিয়ায় তাতে কোথাও কেউ গজ, মপ, ইন্সট্রুমেন্ট রেখে আসবে না" এমন বাস্তবতা সম্ভব নয়। এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নাই সে যতই যাই কিছু করা হোক! "হিউম্যান এরর" হবেই!

তার মানে যেটা করতে হবে এটাকে সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে!

আচ্ছা তার আগে চিন্তা করা যাক এগুলো কেন হয়!

এগুলো কেন হয়?

গবেষণা করে যেসব কারণ পাওয়া গেছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে: - সার্জনের অন্যমনস্কতা/ তাড়াহুড়া করা: দুটো বা ততোধিক সার্জিক্যাল টিম কাজ করলে ইন্সট্রুমেন্টের দায়বদ্ধতার জায়গাটা কমে যায়। এই দল ভাবে ও গুণে নেবে, আরেকদল ভাবে আগের ইন্সট্রুমেন্ট সব সরিয়ে ফেলা ঝামেলা।

- অপারেশনের আগে এবং পরে ঠিকঠাক মতো "সার্জিক্যাল টুলস" না গোনা।

- এবং "ব্যাড সার্জিক্যাল প্রাক্টিস"! (গুড সার্জিক্যাল প্রাক্টিস কি সেটাই অবশ্য পরে বলা হয়েছে!)


তাহলে প্রতিরোধের উপায় কি? (কমিয়ে আনার উপায় কি বললে আসলে বেশি ভালো হয়!)

অপারেশন রুমে কিছু প্র্যাকটিস করা যেতে পারে। যেমন:

- আধুনিক সার্জিক্যাল মেথড ব্যবহার: রেডিওঅপেক গজ আবিষ্কার হয় ১৯২৯ সালে এবং গজের মধ্যে রেডিওঅপেক থ্রেড দেওয়ার চল আসতে লেগে যায় ১৯৪৪!

- দুই বা ততোধিক টিম কাজ করলে এক টিমের কাজ শেষ হলে অন্য টিম সার্জিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট গুছিয়ে যাবে গুনে যাবে; তাতে যতই দেরী বা অতিরিক্ত ইফোর্ট লাগুক।

- যেসব ড্রেইন টিউব বা টুলস হারিয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে এসব ক্ষেত্রে রেডিওঅপেক ট্যাগ ব্যবহার করা।

- সার্জারি শুরুর আগে ও শেষ হবার পরে ফাইনাল ইন্সট্রুমেন্ট, গজ, মপ কাউন্ট করা।

- কোন কোন ক্ষেত্রে সন্দেহ হলে সার্জারি করার পরপরই সার্জারি করা অংশের এক্সরে করে ফেলা।

- সার্জিক্যাল টিমের সবাইকে দায়িত্ব পূর্ণ আচরণ করা: এটি খুবই দরকারি! ১৯৪৯ সালে আমেরিকাতে একটা ইন্টারেস্টিং রায় আছে যেখানে "ক্যাপ্টেন অফ দা শীপ" হিসেবে সার্জনকেই সব দায়ভার দিয়ে দেওয়া হয়েছিল (সম্ভবত "যত দোষ সার্জন ঘোষ" এই ধারণার সূত্রপাত এই ঐতিহাসিক রায়!) তবে আধুনিক সার্জারি সেই কনসেপ্ট থেকে বেরিয়ে এসেছে। এখানে প্রত্যেকটা টিম মেম্বারের আলাদা দায়িত্ব এবং কর্তব্য আছে। সম্প্রতি ২০২৩ সালে "অস্ট্রেলিয়ান কলেজ অফ পেরি-অপারেটিভ নার্সিং" সারেকুলেটিং নার্সদের ও স্ক্রাব নার্সদের একটি নির্দেশনা দিয়েছে যার মূল বক্তব্যে দায়ভার অনেকটাই নার্সদের দিকে! সেখানে জোর দিয়ে বলা আছে ন্যূনতম দুইবার গুনতে হবে এবং অপারেশনের যত ওয়েস্ট বা আবর্জনা হবে এটা অপারেশন রুমেই রাখতে হবে! ফট করে ফেলে দেওয়া যাবে না!

- সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ ও কমিউনিকেশন স্কিল: পারস্পরিক শ্রদ্ধার যেমন দরকার আছে তেমনি ব্যাপারটা যেন এমন থাকে যে খুব বড় সার্জনকেও নার্স বলতে পারে "স্যার আমার ইন্সট্রুমেন্ট আবার গুনতে হবে"! " You have to stop the procedure and I will make sure that everything is counted right"! (এটা বলার মত স্মার্টনেস আমাদের "দুই একটা বেসরকারি হাসপাতাল ছাড়া" প্রায় কোন নার্সেরই নাই)। ওটি নার্সদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ পার্ট হিসেবে বলা হয়েছে, যেটা আমরা আসলে অতটা গুরুত্ব দেই না। আমাদের নার্সরা অত দক্ষ বা স্মার্ট থাকেনা সুতরাং আমাদের ক্ষেত্রে যিনি এসিস্ট থাকবেন তার দায়িত্ব অনেক বেশি বেড়ে যায়!

- মাইনর প্রসিডিওর বলে কোন প্রসিডিউরকে ছোট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ছোট কেইসগুলো করতে গিয়েই সমস্যা বেশি হয়!

- কিছু টুলস যেমন গজ বা মপগুলোকে মুড়িয়ে তৈরি করা যেন কোনো ফাইবার বের হয় না আসে। (এই ব্যাপারটা একেবারে ওটিতে কাজ করা সার্জন ধরতে পারবেন) সাধারণত কিছু প্রাইভেট হসপিটালে এত সুন্দর বানানো গজ/ মপ পাওয়া যায়।

- ছোট করে মানতে চাইলে WHO এর বা সোসাইটি অনুযায়ী নিজেদের মত মডিফাই করে (ঠিকঠাক মডিফাই করতে পারলে এইটা আরও বেশি কার্যকর) "সার্জিক্যাল সেফটি চেকলিস্ট" ফলো করা: আলদা একটি গবেষণা অনুযায়ী এটা করলেই মোটামুটি ৫০% ক্ষেত্রে এইসব ঘটনা এড়ানো যায়!

এসব অনেক কথাই বলা হল, এগুলো মানলে ঘটনা অবশ্যই কমানো যায়। তবে শেষ কথা হচ্ছে একটা টিম হিসেবে কাজ করা এবং "তাড়াহুড়া" না করা, "সময়ের মূল্য দিয়ে" "সময় নিয়ে" স্টেপ বাই স্টেপ কাজ করা।

শেষ করি জার্নালের শেষ লাইন দিয়ে: "The price of freedom is eternal vigilance"!


(কেউ যদি জার্নাল পড়তে চান লিংক:https://ajops.com/article/115366-the-left-behind-syndrome-surgical-equipment-errors-in-plastic-surgery?fbclid=IwZXh0bgNhZW0CMTEAAR0yFBO4Rov6XRklrZBz1Ia5goQc7SihNeeR_U80HkvJvqVryIyI4Fa9sR8_aem_AVL7mCR0YosaebZp9eejHPOgrl_QCmpYhJZHteBaw6qjqvmfmiod2qmqmozEVf9qZU5YYF5DBcRlwGGtSzHhpHwE )

০৭/০৬/২০২৪

Friday, October 13, 2023

শাহাবুদ্দীনের আঁকা


আমি চিত্রশিল্পীদের আঁকা "ভালো বুঝিনা"!

কেন লোকজন ভ্যান গগাকে নিয়ে এত "মাতে"; কেন দালির "অদ্ভুত" ছবি এত জনপ্রিয়!

অবশ্য এইগুলো যে কিছুটা "আরোপিত" সেইটা তো ঠিকই; "সময়" একটা জিনিসকে ভালো বলছে, বাহবা দিচ্ছে; তারমানে ব্যাপারটা "সেই"!

যদিও আমার আসলে যেইটা দেখে বুঝি সেই ছবি ভালো লাগে; ভিঞ্চির ছবির ডিটেইল আর ওর পেছনের নকশা, বিজ্ঞান এইগুলা "সহজ বোধে" আসে আর কি!

সেদিন সুযোগ পেয়ে ভাবলাম কন্যাকে নিয়ে আমাদের অধুনা সময়ের সবচে আলোচিত চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিনের কাজ দেখে আসি।

আমি ইতং বিতিং বুঝানোর কারণে মেয়ের মনে হয়েছে খুব মজার কিছু দেখতে যাচ্ছে! যদিও এইসব ছবি ঠিক শিশুদের ছবিও না; স্বাভাবিকভাবেই সে বলেছে "উইয়ার্ড", "বোরিং"; "আঁকা ভালো হয়নাই"! 🤣 আমি এটাই খুশি!


তবে আমার একটা নিরীক্ষণ হচ্ছে শিল্পী এস এম সুলতানের মত এই শিল্পীরও পেশীবহুল মানুষে উদ্যম আর শক্তি খোঁজার প্রয়াস আছে। সুলতানের যেমন নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই পেশী শক্তির অধিকারী তেমনি শাহাবুদ্দিনের ছবিতে সবাই পেশী কথা বলছে!


অথচ শিল্পী দুজনই নিজেরা ছিলেন হার জিরজিরে দেহের অধিকারী!!

এইটা "প্রকৃতির খেল" নাকি নিজেরা পেশিহীন হওয়ায় শিল্পীর "মনের খেদ- এর প্রকাশ"; নাকি নেহায়েত "শিল্লের তাড়নায়" সেটা আমি জানিনা!

ছবির সংখ্যা কম না তবে আরো আছে হয়ত কোথাও কোথায় ছড়িয়ে; প্রায় সবই বিভিন্ন সংগ্রহ থেকে ধার করে আনা।

শুনেছিলাম সুলতানের শত শত ছবি "রাখার জায়গায় অভাবে" বৃষ্টি রোদে নষ্ট হয়েছে! আমাদের ছবি দেখার পুরোটা সময়ে আমরা বাপ বেটি দুজনেই ছিলাম, বাকি দর্শনার্থী কেউ ছিলনা! এ থেকেই বোঝা যায় আমাদের শিল্প নিয়ে "বোধ"!


১১/১০/২০২৩

Saturday, March 19, 2022

আমাদের মিল্কি ওয়ে

বছর পাঁচেক আগের ছবি।

যখন আমি আমার উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে কাজ করি।
যখন ইলেকট্রিসিটি চলে যায় আমি হুড়মুড় করে ছাদে ওঠার চেষ্টা করি, আশেপাশে যতক্ষণ আলো না জ্বলে আঁধার থাকে সেই সময়টা কাজে লাগানোর চেষ্টা; "লাইট পলিউশান" এড়ানোর চেষ্টা আর কি!

সবসময় আকাশ পরিষ্কার পাই না, বেশিরভাগ সময় মেঘ থাকে বা চাঁদের আলো থাকে! কোয়ার্টারের ছাদে ওঠাও একটা হ্যাপা, সেখানে রাজ্যের আগাছা; ঠিকঠাক ইনফিনিটি ফোকাস করতে করতেই মাঝে মাঝে সামনের কোয়ার্টারে তীব্র আলো জ্বলে ওঠে, লং এক্সপোজারে ছবি নষ্ট হয়; আমি ট্রাইপড গুটিয়ে চলে আসি! সব সুবিধামত পেয়ে গেলেও কয়েক মিনিটের ছবিতে নয়েজ কমে না; শুধুমাত্র ম্যানুয়াল শাটার চাপব না বলে ইতোং বিতোং করে ফোনকে শাটার বাটন বানাই; তাও মনের মত ছবি পাইনা; আমার চাওয়া অনেক কিন্তু ক্যামেরা হচ্ছে ক্যানন ১২০০ (যারা ছবি তোলেন তারা জানেন এইটা একদম এন্ট্রি কোয়ালিটি ক্যামেরা)!

তাও আমি দমে যাই না, 'মিল্কি ওয়ে" - আমাদের ছায়াপথের ছবি তুলব! লক্ষ কোটি নক্ষত্রের আমাদের ছায়াপথ! যে আলো ছবিতে ধরেছি তার অনেক নক্ষত্র আদতে এখন নাই; কোন কোনটা আরও হাজার বছর আগেই আলো দিয়ে মরে গেছে! সেই শেষ আলোটা ক্যামেরায় ধরব! কী উত্তেজনা! ছাদের ঘুট ঘুট শুনে প্রথমদিকে Monimul Habib ভাই চলে আসতেন, পরে উনিও অভ্যস্ত হয়ে গেলেন; ছাদের একটা চাবি আমার কাছে থাকত।

এইসব ছেলেমানুষী করতে গিয়ে যা কিছু ছবি তুলেছিলাম সেগুলো এখন আমাকে অসম্ভব আনন্দ দেয়!

যেদিন মস্ত চাঁদ ওঠে, গরমে হালকা বাতাসে আমার ছোট্ট মেয়েকে ঘাড়ে নিয়ে চাঁদ দেখাই, চাঁদের গান শোনাই, কি সব আবোল তাবোল ওকে শোনাচ্ছি শুনে লোকে হাসে, ভাবে স্যারের মাথায় হালকা সিট আছে!

কী পরাবাস্তব সময়!

সেই এক সময়ের সাক্ষী আমার কোয়ার্টারের মাথার ওপর আমাদের ছায়াপথ!

#milkyway
#canon1200d

Saturday, December 11, 2021

মলিন মানে কি!?

প্রতিদিন আমার মেয়েটা শুধু খেলা আর খেলা নিয়ে থাকে!
এই বন্দী করোনা কালে শিশুদের অনেক অভ্যেস তৈরি হবার সুযোগই নাই! সবাই বাক্সে বন্দী!

হাসপাতাল থেকে ফিরে দেখি দৌড়াদৌড়ি করে ঘেমে, কোথায় কোথায় কালি লাগিয়ে, পানি না খেয়ে একটু ডিহাইড্রেড। বললাম
- মা! তোমাকে এমন মলিন দেখাচ্ছে কেন?
- মলিন! মানে?
- মলিন মানে বুঝতে পারলে না!?
- উহু
- আচ্ছা দাড়াও তোমাকে একটা গান শোনাই!
- গান?
- হুম! এই গানটা হচ্ছে নজরুল সঙ্গীত! আমাদের জাতীয় কবি লিখেছেন! যে যে গান লেখে আর সুর দেয় সেই গানটা তার হয়ে যায়। এই মনে কর রবীন্দ্রনাথ যেসব গান লিখে সুর দিয়েছে সেগুলো হচ্ছে রবীন্দ্র সংগীত। তুমি যদি কোন লিখে, সুর দিয়ে কোন গান বানাও সেই গান হবে সাম্মি সঙ্গীত!
- (😁)
- তো গানটা শোন, .... মলিন হয়েছে ঘুমে চোখেরও কাজল... নহে নহে প্রিয় এ নয় আঁখি জল!
- কি বুঝলে!?
- 🙄
- আচ্ছা শোন নহে মানে না, নহে নহে মানে দুইবার না বলেছে। প্রিয় মানে পছন্দের কেউ। আর আঁখি মানে... চোখ! বাংলায় কিছু কিছু জিনিসের অনেক নাম আছে যেমন, আখি মানে চোখ, আবার চোখ মানে তো চোখ; চোখের আরও একটা নাম আছে, নেত্র! এই নামে আবার একটা জায়গায় নাম আছে; নেত্রকোনা! মানে চোখের কোনা! মজা না!?
- 😁 চোখের কোনা!
- আবার মনে কর এই যে তুমি মাকে বল মাম; আবার মা! দুটো মানেই তো মা তাইনা? এমন আরও অনেক শব্দ আছে যার মানেও মা! এবার বল জল মানে কি?
- কি?
- জল মানে হচ্ছে পানি! এটাও পানির আরেকটা নাম! যেমন পানির আরেকটা নাম বারি!
- এতগুলো নাম কেন?
- আসলে যারা কবিতা লেখে, এই যে আমাদের জাতীয় কবির মত এরা তো অনেক জ্ঞানী! অনেক জানে! ওরা একটা কিছুর অনেক নাম জানে আর সেগুলো দিয়ে সুন্দর সুন্দর কবিতা লেখে! বুঝলে?
- হুম
- তো ... মলিন হয়েছে ঘুম চোখের কাজল... শুনে তোমার কি মনে হল?
- 🙄
- আচ্ছা মনে কর, কেউ চোখে কাজল দিয়েছে, তোমার মত ছোট বাবু! চোখে কাজল চকচক করছে! তারপর সে ঘুমিয়ে গেল! তারপর ঘুম থেকে উঠলে সেই কাজল কি আগের মত থাকবে? বিছানা বালিশ লেগে চোখে কেমন মুছে যাবে না? আর যদি বাবুটা কান্নাকাটি করে তাহলে তো কাজল মুছে ওর গালেই লেগে যাবে! ভাব একবার ব্যাপারটা!
- এইবার বুজলে মলিন মানে কি? (সামান্য শব্দ মলিন বোঝানোর জন্যে একটু বেশীই হয়ে গেল!)
- হুম! (মলিন শব্দটা এত্ত কঠিন!!)
- আচ্ছা জানো এই গানটা কবি নজরুল কেন লিখেছে?
- কেন? (উৎসাহী!)
- কারণ কবিরা তো অনেক জ্ঞানী হয়! কবি নজরুল জানতো একদিন পৃথিবীতে একটা ছোট বাবু আসবে আর সে একদিন তার বাবাকে জিজ্ঞেস করবে মলিন মানে কি; তাই মলিন মানে কি সেই ছোট্ট বাবুকে বোঝানোর জন্য কবি এই গান লিখেছেন!
- সত্যি! আমাদের জাতীয় কবি আমার জন্যে এই গান লিখেছে?
- অবশ্যই! তোমার দাদাভাই তো জাতীয় কবি না, দাদাভাই তোমার জন্যে একটা কবিতা লিখেছে না?
- হুম লিখেছে!
- তো! দাদাভাই একটা কবিতা লিখলে জাতীয় কবি তোমার জন্যে একটা গান লিখবে না!?
- সে আগে থেকেই জানতো আমার কথা!?
- অবশ্যই! বললাম না কবিরা খুব জ্ঞানী হয়! তারা অনেক পড়ে আর ভাবে! পড়ে বলে তারা অনেক জানে আর ভাবে বলে তারা অনেক লিখতে পারে! দেখনা দাদাভাই অনেক ভেবে ভেবে একটা কবিতা লেখে!
- মাম! সত্যিই কি জাতীয় কবি আমার জন্যে এটা লিখেছে!
- তুমি মামকে জিজ্ঞেস করছ কেন!? বাবা অবশ্যই তোমার সাথে মিথ্যে বলছে না!
- এবার বুঝলে মলিন মানে কি?
- ❤️

২৭/০৪/২০২১

Tuesday, September 29, 2020

পাকিস্তান না!

- মা! আমাদের কোথাও বেড়াতে যাওয়া দরকার। কোথায় যাওয়া যায় বলতো?

- আমরা পাহাড়ে যেতে পারি!

- পাহাড়ে!?

- হুম... আর চাইলে মরুভূমিতেও যেতে পারি!

- মরুভূমি! সেটা তো অনেক দূর! আমাদের দেশে তো মরুভূমি নাই!

- তাহলে কোথায় আছে? কোন দেশে আছে?

- এই মনে কর, আফ্রিকা!

- তাহলে আফ্রিকা যাব।

- আফ্রিকা তো অনেক দূর!

- তাহলে কাছে কোন দেশে আছে?

- এই মনে কর পাকিস্তান!

- না না বাবা! পাকিস্তান যাবনা! পাকিস্তান না!

- কেন বাবা!? (তড়িৎ পাকিস্তান না যাবার সিদ্ধান্ত নেবার কারণ বুঝলাম না!)

- জাননা! পাকিস্তানের মানুষ যে বাংলাদেশী মানুষদের মেরে ফেলে!


২৯/০৯/২০২০

Monday, September 28, 2020

what মানে কি?

আমি সাম্মিকে একটু পড়াশোনা শিখাচ্ছিলাম! বিষয় ইংরেজি!

বিভিন্ন শব্দের অর্থ জিজ্ঞেস করতে করতে বললামঃ
- বলতো মা!৷ What মানে কি?
- What মানে "চমকে যাওয়া"! 
- 😅😅😆


২৬/০৯/২০২০ 

Monday, September 7, 2020

রাস্তায় কুকুর থাকবে কি থাকবে না!?

এখন এমন ঘোষণা হয়েছে যে সিটি কর্পোরেশন কুকুর নিধন করবে! শহুরে কুকুর আর থাকবে না! অনেকেই বলেছেন কুকুর থাকবে কি থাকবে না তাতে তাদের নাগরিক জীবনের কিছু এদিক সেদিক হবে না!
তবে আমার ক্ষেত্রে এটি ভিন্ন!

রাস্তায় কুকুর না থাকলে আমার যে ভয়ানক সমস্যাটা হবে সেইটা হচ্ছে রাস্তায় বের হলেই আমি আর আমার মেয়ে কুকুর খুঁজি! সেই "দগ" বয়স থেকে সে এখন এই "কুকুর" পর্যন্ত আমি মেয়েকে নিয়ে কুকুর দেখি। তারা একা কেন থাকে, ওদের মাম কোথায়, রাগ করে ওরা চিৎকার করছে, গাড়িতে থাকলে ওরা আমাদের থেকে "পিছিয়ে যায়" এগুলোই আমাদের বিষয়! 

এখন অবস্থা এমন আমি রাস্তায় একা হাঁটলেও মেয়ের সমান আগ্রহ নিয়ে কুকুর দেখি। 

তাই আমার জন্য বিরাট সমস্যা!

০৭/০৯/২০২০

Friday, July 31, 2020

কোটি কোটি এবং কোটি

খবর: করোনা বিডি অ্যাপ বানাতে খরচ পাঁচ কোটি! 

৫ কোটি!

আমরা দেশের মানুষ এখন মোটামুটি কোটি ছাড়া হিসেবে করিনা! 

কোটি ছাড়া কথা হবেনা! 

এই দেশ আজ সবাইকে কোটিতে মাপে; তাই দেশে তৈরি হচ্ছে শুধু কোটিপতি!

আমার বেতন কত?
আমি বলব ০.০০৫ কোটি! 

আজ ছয় বছর চিকিৎসক হিসেবে সরকারি চাকুরী করবার পর এই বেতনে এসে দাঁড়িয়েছি! এই করোনা কালে কোন কোন সরকারী চাকুরে কতদিন অফিস করেছেন, কে ফ্রন্টলাইন ব্যাক লাইন দেখেছেন সে হিসেবে আমি যাচ্ছিনা (কেউ একজন ফেসবুকে লিখেছিলেন তিনি সাড়ে তিনমাস পর তার অফিসে ঢুকেছেন!), আমি অন্যান্য বৈষম্যের কথা বলছি না, শুধু বলতে চাই এই কয়েকমাস আমি নিয়মিত অফিস করেছি, আমার মত প্রায় সব চিকিৎসক! নিজের পরিবারকে ঝুঁকিতে ফেলেছি, আক্রান্ত হয়েছি! 

কিন্তু বিমিনয়ে কেউ একটু ইতিবাচক কথাও বলেনি! রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বারবার অবহেলিত আমাদের চিকিৎসকেরা! 

আমি লিখে দিতে পারি এই মহামারীর পর এই দেশ থেকে চিকিৎসক হিসেবে দেশত্যাগের পরিমাণ কয়েকগুন বেড়ে যাবে! সবচাইতে ঝুঁকিতে থেকে, বিনা প্রণোদনায়, বিনা বাক্যব্যয়ে যারা কাজ করতে রাজি থাকেন তাদের চাহিদা বাইরের বিশ্বে বেশি হবে এইটাই স্বাভাবিক! 

আজ পর্যন্ত খুব অল্প সংখ্যক মানসম্পন্ন প্রকৌশলীকে এই দেশ ধরে রাখতে পেরেছে সেই স্রোতে এইবার "আরও পরিশ্রমী ও দক্ষতর জনবল"; চিকিৎসকেরা যুক্ত হবেন। আরেকটু প্রতিযোগিতা করলেই তারা বাইরের পৃথিবীতে সর্বোচ্চ সম্মান নিয়ে বাঁচবেন!

এই দেশে যারা কোটির হিসেব করেন তারা কি কখনো হিসেব করেন কত কোটি মেধাবী দেশ ছেড়ে গেল! 

যারা এই দেশটাকে সত্যিকার অর্থেই কিছু দিতে পারত তাদেরকে দেশ সেই সুযোগ দিচ্ছে না! তারা কেন তাদের উজাড় করে দেশকে দেবেন!? তারপরেও দিয়েছেন, মৃত্যুর মিছিলে চিকিৎসক ও তাদের পরিবারের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে! কে তার খবর রাখে!

এই করোনা কলে এই দেশের সাধারণ চিকিৎসকেরা যে আত্মত্যাগ করেছেন তাতে তাদের জাতীয় বীর ঘোষণা করে আক্ষরিক অর্থেই "মাথায় তুলে নাচা উচিত"! 

ছোটবেলায় পড়েছিলাম "যে দেশে গুণের সমাদর নেই সেই দেশে গুণী জন্মাতে পারে না"!

এই কথাটা যারা পড়েছেন, মনে রেখেছেন তারা আজ দেশে অনাহুত, আর যারা ভুলে গেছেন বা পড়েননি তারা আজ এত উচুতে যে তাদের ধরা ছোয়া তো দূরে, ঠিকঠাক দেখাও যায়না! 

সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী! 
আবার "কোটি"! 

৩১/০৭/২০২০

Wednesday, July 1, 2020

বাবা, সাম্মি আর ল্যাপটপ

আমার কন্যা আমাকে ল্যাপটপের সামনে এতটাই বসে থাকতে দেখে যে আরও দেড় বছর আগে যখন তাকে শিখাচ্ছি, বলত মা নামের নাম কি? মাম কি করে? বাবার নাম কি? বাবা কি করে?
সব যায়যায় ঠিকঠাক থাকলেও বাবা কি করে?
তার বাবা নাকি লাত্যপ চালায়!
মাম দকতের, হসপিটালে যায় আর বাবা ল্যাত্বপ চালায়! 😥

কোয়েকদিন আগে হঠাৎ করে সে বলছে:
আচ্ছা বাবা! আমার ল্যাপটপে মুভি হিয়না কেন?
(আগের দিন তাকে নিয়ে "ভূতের মুভি" দেখেছি! বুলবুল!)

তবে আমি তাকে আশ্বস্ত করেছি, বাবার ল্যাপটপ বেশি ভালো না, বড়; দুষ্টু কারেন্ট লাগে, ওজন - নিয়ে খেলতে কষ্ট হয়! 

আমার মেয়ে বলেছে তার ল্যাপটপ বাবারটার চাইতে ভালো; পিংক কালারের, অনেকগুলো বাটন, ওয়ান টু বলে, এবিসি বলে, গানও গায়, আবার অনেকগুলো ছবিও আছে! শুধু বাবার ল্যাপটপের মত "মুভি" হয়না!

তবে বাবা যেন কান্নাকাটি না করে! সে বড় হলে বাবাকে তার মত একটা ভালো ল্যাপটপ কিনে দেবে! 

০১/০৭/২০২০

Monday, May 25, 2020

বই পর্যালোচনা: বুয়েটকাল - শাকুর মজিদ

বইটি স্থপতি শাকুর মজিদের লেখা। তার বুয়েটের সময় নিয়ে মাঝে মাঝেই তিনি বিভিন্ন স্মৃতিচারণমূলক লেখা লিখতে হয়েছে বিভিন্ন অ্যালামনাই এর জন্যে, সেসব লেখার একটা সংকলন করে এই বই। তাকে ব্যক্তি হিসেবে বেশ গোছানো অবস্থায় আবিষ্কার করি এই বই পড়ে, অন্তত এই মাত্রার একটা বই প্রকাশ করতে পারার জন্যে হলেও।

১৯৮৫ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত তিনি বুয়েটে পড়েছেন। এমনিতেই স্থাপত্যে কোর্স ৫ বছরের, যেখানে অন্যসব কৌশল ৪ বছরের; তার উপর লেখালেখি, সাংবাদিকতা এগুলো নিয়ে ব্যাস্ত থেকে এক বছর পিছিয়ে গেছেন। সামরিক সরকারের যাঁতাকলে পড়েও আরও কিছু সময় সেই সময়ের সব ছাত্রদেরই নষ্ট হয়েছে। এতকিছুর পরেও তিনি জীবনে একজন সফল মানুষ, আর সফল মানুষের জীবনকথা পড়তে ভালোই লাগে। সেগুলোর ভাষাও হয় আশাজাগানিয়া।

দারুণ সহজ ভঙ্গিতে সাবলীল লেখা, পড়তে বেশ আনন্দ হয়েছে। নিজে বুয়েট আর্কিতে পড়ার সুযোগ পেয়ে পরে মেডিকেলে পড়েছি কিন্তু আমি নিজেকে এখনো আবিষ্কার করি "আর্কি মেটেরিয়াল" হিসেবে! আমি এখনো আঁকতে, কিছু লিখতে পছন্দ করি, ছবি তুলতে পছন্দ করি, এইসব কাজ ঠিক ডাক্তারদের সাথে যায়না; মানে এই বাউন্ডূলে স্বভাব। সেজন্যে হয়তো এই লেখা পড়ে কিছুটা আলাদা ভালোলাগা কাজ করেছে।

বইয়ে সেই সময়ের কিছু আভাস পাওয়া যায়। একটা সামরিক শাসনে চলা দেশের অবস্থা, একটা প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে চলেছে সেটা আচ করা যায়। প্রলংকারী ঘূর্ণিঝড়ে ত্রাণ দেয়া, সেইসময়ের ঢাকাকে আবিষ্কার করা, সমকালীন রাজনীতি এসবের চিত্র উঠে এসেছে লেখায়। তবে সবকিছু ছাপিয়ে উঠে আসে লেখকের নিজের বুয়েট এ থাকাকালীন সময়টুকু। তার টিউশনি করে চলা, সাংবাদিকতা, স্বচ্ছলতার বিলাসিতা আবার অন্যদিকে শারীরিক অসুস্থতা আর জীবন সংগ্রাম। সহপাঠী হিসেবে এখনকার খ্যাতনামা অনেককেই আবিষ্কার করি তার লেখায়। ছবিতোলায় তার দারূণ অর্জন মোহিত করে আবার বুয়েটে তার সাইকেল "পংখীরাজ" আর তাতে করে সহপাঠিনীদের সাইকেল ড্রাইভিং কোর্স করানো রোমাঞ্চ জাগায়।

প্রতিটি ছাত্রের জন্যই তার শিক্ষাজীবন এক অনন্য সময়, সেই সময়ে যদি সাংবাদিকতা, লেখালিখি, ছবি তোলা, আয়োজনের দায়িত্বে এগুলোকে সাথে করে চলা যায় তবে সেই সময় হলে ওঠে সত্যিকারের জীবন্ত। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ ও তাই দারুণ সুখপাঠ্য!

১৪/০৫/২০২০

Saturday, May 23, 2020

সাম্মি নামাঃ ঘ তো কেমন বুড়ো!

সাম্মিকে মাম পড়াচ্ছে...
একটা বর্ণ মেলানোর খেলা আছে বইতে, এরপর কি হবে সেই বর্ণ কি সেটা খুঁজে পেতে হবে।

ক, খ, গ এর পর ঘ এর বেলা আসতেই
সাম্মি বলে উঠলোঃ
 - ঘ তো কেমন বুড়ো!

(একটা বর্ণ যে বুড়ো দেখাতে পারে সেটা শিশুরা ছাড়া বোধকরি কেউ ভাবতে পারেনা বা ভাবার ব্যাপারটা হারিয়ে ফেলে!)

২৩/০৫/২০২০ 

Friday, May 22, 2020

সাম্মি - বাবার কথোপকথন

দুরন্ত টিভিতে মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শেখ মুজিবের জীবিনের ছোট ছোট ঘটনা কিছু ছবির সাথে দেখাচ্ছিল। এটা বেশ কয়েকটা চ্যানেলেই দেখায়, তবে দুরন্ততে প্রায়ই দেখায়। অবশ্য আমাদের বাসার দুরন্ত ছাড়া কিছু চলছে না বলে হয়ত বাকি চ্যানেলে বেশী দেখায় না কম দেখায় সেটা বলা যাচ্ছেনা।

- বাবা! রাজনীতি কি?
- ম... রাজনীতি হচ্ছে "রাজার নীতি"!
- মানে?
- এই মনে কর একটা দেশে রাজা থাকে না। সেই রাজাটা তার দেশকে চালানোর জন্য, দেশের ভালো করার জন্য কিছু নিয়ম থাকে... এই যেমন দুষ্টুদের সাজা দিবে, যারা ভালো তাদের পুরষ্কার দিবে, রাস্তাঘাট সুন্দর করে বানাবে, প্রজাদের যেন কষ্ট না হয় সেই ব্যবস্থা করবে, ছোটদের জন্য স্কুল বানাবে... রাজার এইসব করার নিয়ম মানেই রাজনীতি!

(কিছুমাত্র দেরী না করে... )
- এইসব করলে জেলে যেতে হয়!?
- না! কেন? এই কথা কেন মনে হল!?
- তাহলে বঙ্গবন্ধু এইসব করত না?
- হ্যাঁ করত তো!
- তাহলে বঙ্গবন্ধুকে জেলে যেতে হয়েছিল কেন!?

(ঐ টিভির জের...!)

কি করে যে বলি বঙ্গবন্ধুকে কেন জেলে যেতে হয়েছিল!?
কি করে বলি যে আমরাই তাকে মেরে ফেলেছিলাম রে মা!

২২/০৫/২০২০

সাম্মির মেশিন আবিষ্কার

আজকে সে একটা মেশিন আবিষ্কার করেছে। দরজার পাশে ঝোলানো মশারি খাটানোর সুতার সাথে একটা খালি কোকের বোতল আর সেই সুতা দরজার ছিটকিনির সাথে বেঁধে তৈরী হয়েছে তার মেশিন! (এই মুহুর্তে সে তার মেশিনের ছবি তুলছে দাদাভাই আর দাদুকে দেখানোর জন্য)

মেশিনের কাজ হচ্ছে প্রায় বন্ধ করে তার ফাক দিয়ে সে তার চিরুনি এগিয়ে দেবে, ওপাশ থেকে কেউ সেটা ধরে নাড়াবে আর তখন তার বোলত নড়বে (যেটা বাতাসে এমনিতেই নড়ছিল), তাতে করে যে চিরুনি নাড়াচ্ছিল তার "ওয়েট" বোঝা যাবে!!

এই প্রকৃয়ায় সে মাত্রই তার দাদাভাইয়ের "ওয়েট" বের করেছে!

সেটা হচ্ছে ছয়!

ছয় কি সেটা অবশ্য জানা যায়নাই!

একটু আগে সে তার যন্ত্রের মান দিয়েছে! "ইউ এস পি"!!
এইটাই তার যন্ত্রের নাম!
(আমি জিজ্ঞেস করলাম,
- মা এইটার মানে কি?
- তুমিই বল! তুমি তো সব জানো! তোমার তো অনেক বুদ্ধি!)

২২/০৫/২০২০

Thursday, May 21, 2020

করোনা, আমফান আর আমাদের আস্ফালন

মানুষ পুরো পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনেছে। সবকিছু আজ আংগুলের ডগায়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এখন উন্নতির শিখরে। মানুষের অহংকার আর দম্ভের শেষ নাই।

সেই মানুষ আজ সামান্য ভাইরাসের কাছে অসহায়। কেউ কি ভেবেছিল এই আধুনিক যুগে, এই বিজ্ঞানের জয়জয়কার অবস্থায় একটা সামান্য ভাইরাস পুরো পৃথিবীর সব সেরা শক্তিকে, সেরা বুদ্ধিকে, সেরা ব্যবস্থাকেও অসহায় করে দেবে।

যে বাতাস আমাদের প্রাণ জুড়ায়, বায়ুসমুদ্রে ডুবে থেকে যে বাতাস থেকে অকক্সিজেন পাই আজ সে বাতাসকেই ভয় পাচ্ছি! ছেঁকে শ্বাস নিচ্ছি!

সেই সামান্য বাতাসই যখন জোরে বইছে তখন এই ঢাকায় শক্ত দালানে বসে ভীত হচ্ছি!

অথচ এই বাতাস আসছে আরও ৪০০ কিলোমিটার দূর থেকে যেখানে মানুষ আছে, আর তারাও সবাই এমন ইটের দালানে নেই; অনেকের হয়ত ঠুনকো টিনের চাল!

এই বাতাস বয়ে আসছে সমুদ্রের ওপর দিয়ে, বিশাল জলরাশিকে সে উন্মত্ত করে তুলেছে! এতটাই তার শক্তি যে, সে সেই বিশাল জলরাশিকে সাগরতীরের ওপর দিয়ে ১২-১৪ ফুট পর্যন্ত উচ্চতা নিয়ে আছড়ে পড়তে পারে!

এসবকিছুর পরেও কি আমরা মানুষেরা বুঝব না যে, আমরা কতটা অসহায়! কতটা ক্ষুদ্র! কতটা সীমিত আমাদের শক্তি!

আর এরপরেও কি আমরা এইসব মহাশক্তির প্রতি অনুগত হব না! সেই সর্বশক্তির প্রতি নতমস্তক হব না!? এখনো কি আমরা পৃথিবীতে দম্ভ করে বেড়াবো!?

২১/০৫/২০২০

Friday, May 8, 2020

আমিই কি তবে ভুল !?

যবে থেকে একটু বুদ্ধিশুদ্ধি হইছে; হালকা বুঝতে শিখছি, শুধু মনে হয়: "নাহ্, এইটা তো হবার কথা না... এমন তো নিয়ম না... সত্যিকারের আলোর পথ তো এইটা না...!"

বারবার সত্য মনে হয় কবিতার এই লাইনগুলো:
"আমি জানি সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে!"
" অদ্ভুত উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ!"

তারপরেও তো দেশ টিকে আছে, থাকে, থাকছে...
সবাই যে যার মত ভালই আছে, বেঁচে আছে, ফুর্তি করছে, জীবনকে "ইঞ্জয়" করছে...

কষ্ট পাচ্ছি শুধু আমি আমার "চিন্তা" নিয়ে!

তবে কি আমিই ভুল?

নাকি আমার নতুন পরিচয় নেবার সময় হয়েছে..."বুদ্ধিজীবী"! 🤣

For god sake hold your "love" and let me "use my tongue"!

০৮/০৫/২০২০

Friday, February 14, 2020

আমার বসন্ত ১৪২৬

চারিদিকে বসন্তের আগমনী ধ্বনি! 
ঋতুরাজ বসন্ত!
আহা! আজি এ বসন্তে, কত ফুল ফোটে! কত বাঁশি বাজে! কত পাখি গায়!
বসন্ত এসে গেছে...

গুটি বসন্ত নাকি জল বসন্ত এসেছে সে প্রশ্ন করবেন না মশাই বসন্ত তো এসে গেছে!

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, একটু "মুখবই"(facebook) খোলা না রাখলে,  দৈনিক প্রত্রিকার বাংলা তারিখ না দেখলে বা "তোমরা বলে না দিলে" বুঝতেই পারতাম না যে "বসন্ত" এসেছে! অনেকে আবার বাংলা ক্যালেন্ডার আর দিন ক্ষণের ব্যবচ্ছেদ-এর ব্যাপারটা জানেন না;  ফলে আগের মতই "১৪ তারিখের আগের দিন" মানে গতকাল পালন করে বসে আছেন! 

আমার ছোট্ট মেয়ের কিছু পছন্দের গান আছে। তার ভেতর "ফাগুনের মোহনায়" আর "বসন্ত এসে গেছে" এগুলো আছে।  একদিন সাম্মি বাবাকে প্রশ্নই করে ফেলল: 
: বাবা! বসন্ত এসে গেছে; বসন্ত আসলে কি হয়?
(আমি মনে মনে খুশি! যাক একটা বেসিক প্রশ্ন হয়েছে! কিছুটা "natural rules & order" বুঝিয়ে দিই!)
বললাম: এই যে গানে বলেছে না! আহা আজি এ বসন্তে..  বসন্ত আসলে চারিদিকে অনেক রঙিন ফুল ফোটে!  অনেক পাখি সেই ফুল দেখে আনন্দে গান গায়! শীত পালাই পালাই করে আর সবার মনে খুব আনন্দ হয়!

কিন্তু আমি জানি এগুলো বলেও ওকে সত্যিকারের বসন্তের ব্যাপারটা বোঝানো যাচ্ছে না! 

যেমন ছোটবেলায় ক্লাস ওয়ানের সম্ভবত একটা বই ছিল; "আমার বই"; সেখানে সব ঋতুর নাম ছিল আর নামের পাশেই একটা "ক্যারেক্টারিস্টিক" ছবি। সেখানে গ্রীষ্মকালে ফেটে যাওয়া মাটি আর আম কাঁঠালের ছবি, বর্ষায় ঘন বরষা সাথে ব্যাঙের ডাক, শরতে সাদা কাশফুলের ওপরে পরিষ্কার নীল আকাশে সাদা সাদা শুভ্র মেঘ, শীতকালে খেজুর গাছে হাড়ি, হেমন্ত সম্ভবত পালতোলা নৌকার ছবি ছিল। আর বসন্তের ছবিতে গাছে গাছে পাখি, বনে বনে ফুল বোঝাতে একটা বনের মাঝে  কোন এক বালক মনের সুখে দাঁড়িয়ে আছে, চারদিকে ফুল ফুটেছে আর গাছের ডালে পাখি বসে আছে! 

আমি বললাম: তুমিতো চারিদিকে অনেক গাছ দেখতে পাচ্ছো না। অনেক গাছ থাকলে তুমি দেখতে পেতে চারিদিকে অনেক ফুল ফুটেছে! তখনই বুঝে ফেলতে বসন্ত এসে গেছে! আর অনেক পাখির ডাক শুনতে! 

ইট কংক্রিটের শহরে তার "দুইমাত্র" জানালাই যেখানে কয়েকমাস ধরে দেয়ালে এসে আটকে গেছে সেখানে ফুল সে দেখেনা এটা সত্যি কিন্তু "পাখির ডাকের" কথা উঠতেই সে বলে উঠলো:
: না আমিতো পাখির ডাক শুনেছি! এই যে সকালবেলা অনেক পাখি ডাকাডাকি করে! চড়ুই পাখি! তারপর কাক!...

পাখিদের সারিতে দ্বিতীয় নামটাই "কাক"!

এইট কংক্রিটের জঞ্জালে বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য পাখি প্রথম নামটাইতো কাক হবার কথা ছিল! তারা প্রকৃতির অন্য কোনো অনুষঙ্গ দেখুক না দেখুক আকাশ দখলে নেতা প্রচুর কাক আর রাস্তা দখলে নেয়া কুকুর; এদুটো প্রাণীকে তারা দেখবেই! এরাও "প্রকৃতির সন্তান", আমার এদের উপর কোন বিদ্বেষ নেই কিন্তু সেই "প্রকৃতি" কোথায়!? 

চারিদিকে বসন্তের যে পালন আর এখন ১৪ ফেব্রুয়ারির  সাথে বাসন্তী রঙ মিলে যাওয়ার কারণে, ঋতুরাজ বসন্তের ব্যাপারটার ঢাকা পড়ে যাবে হয়ত অন্য রঙে! আমাদের শিশুরা, কিশোর-কিশোরীরা বড় হয়ে উঠবে বসন্ত মানে "ভালোবাসার সময়" ভেবে! 

আমি আমার শিশুকে, আমাদের শিশুদের একটা সত্যিকারের বসন্ত দেখতে পারলাম না! এ আমার বড় আফসোস! এখন আমি আকাশ দেখতে পাইনা কিন্তু আমি আকাশ দেখেছি, আমি জানি "আমার এক মস্ত আকাশ আছে" কিন্তু আমার শিশু তো জনলোই না ওর আকাশ, ওর বসন্ত, ওর ফুল আর পাখিদের আমরা চুরি করে ফেলেছি! ওরা আর কোনদিন সেটা খুঁজে পাবেনা! ওরা জানবেই না ওদের কি হারিয়ে গেছে, খুঁজবে কেন!?

যাক এসব কথা। চারিদিকে কত রঙ, রঙ থেকে রঙ্গ! আমিই শুধু হাহাকার খুঁজি!

রবি বাবুকে স্মরণ করি:
সুখে ছিল যারা, সুখে থাক তারা, সুখেরই বসন্তে সুখী হোক ধরা। 

১৪/০২/২০২০

Sunday, January 5, 2020

মেয়ের প্রথম স্কুলে যাওয়া

আজ প্রথম সাম্মি সোনা স্কুলে গিয়েছে! 
সকালে উঠতেই পারছিলনা, তার মা অসম্ভব ধৈর্য নিয়ে তাকে উঠিয়েছে, খাইয়েছে, স্কুল ড্রেস পরিয়ে স্কুলে নিয়ে গিয়েছে। আজকে সে ছুটি নিয়েছিল, আমিও বাসায় ছিলাম তার সাথে স্কুলে যাবার জন্য। মাও ছিল সাথে। প্রথম স্কুলের দিনে সে ছিল গম্ভীর! 
 
হাসো মা!
বলার পর একটুখানি হেসেছিল! 
বাকি পুরোটা সময় সে ছিল খুব গম্ভীর! 

বাসায় এসে যখন তাকে তার মা বলল: "সাম্মি তো অনেক সাহসী বেবী! মা তো ভেবেছিল সাম্মি কান্নাকাটি করবে!"
মেয়ে বলে কি: "আমার অবশ্য একটু একটু কান্না পাচ্ছিল!"

সে কেদেই ফেলত, তার "পার্সোনালিটি"র কারণে পারেনাই। মাম তাকে বলেছে "কাদে বোকা বেবিরা"! আর সাম্মি তো বোকা বেবী না! সাহসী বেবী! 

Sunday, December 15, 2019

বুক রিভিউ: নির্বাসন - হুমায়ূন আহমেদ

এই বইটা হুমায়ূন আহমেদ তার প্রিয়তমা স্ত্রী গুলতেকিনের জন্যে লিখেছিলেন এবং তাকে উৎসর্গ করেছিলেন। যদিও উৎসর্গ পত্রখানির দেখা পেলাম না!

বইটিতে জরী নামের একটি মেয়ে এবং তার চাচাতো ভাই আনিসের একটি "এ লস্ট গেম" এর বর্ণনা আছে।

অসম্ভব মায়াময় করে লেখা একটা বই। কেন যেন আমার এখন হ্ন হ্ন করে কান্না পাচ্ছে! কেন যে পাচ্ছে আমি তা নিজেও জানিনা। হয়তো আমার নিজের মেয়ের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে এই নাইট ডিউটি করতে এসে!

এখানে কিছু অমীমাংসিত গল্প আছে যেগুলো পাঠককে নিজের মত করে সাজিয়ে নিতে হয়। আবার হুমায়ূনের অন্যান্য বইয়ের মত ছোট ছোট চরিত্রের সংখ্যাও অনেক, তাদের নিয়ে খুব বেশি কাজও করা হয়নি। তাই অনেকটুকুই অজানা থেকে যায়। অনেক বইয়ের মত এই বইটাও শেষ হয়েছে একটা বিষাদ দিয়ে। এমন গল্পের সমাপ্তি হুমায়ূনের অনেক গল্পেই আছে। খুব পরিচিত মনে হয়। কোথাও এমন পড়েছি পড়েছি মনে হয়।

কিছু চরিত্র আছে বড় চাচা; জিনি বিসমিল্লাহ্‌  খানের সানাই শোনেন; চান তার ছোট ভাতিজির বিয়েতে সকাল থেকেই সানাই বাজুক। জরীর বিয়ে; দুই বোন জরী পরীর মাঝে জরী ছোট। যদিও জরী ভালোবাসতো আনিসকে। কিন্তু যুদ্ধের পর গুলি লেগে আনিস বিছানাবন্দী হয়ে গেলে সেই হিসেব মেলে না। জরীর বিয়ে ঠিক হয় কলেজের শিক্ষকের সাথে! (এখানে এই নাম না দেয়া চরিত্র চিত্রন করতে গিয়ে হুমায়ুন আহমেদ নিজেকে বসিয়েছিলেন বলে পড়তে গিয়ে মনে হল!) যদিও  বড় চাচা জরী আনিসের কথা জানতে পেরে এই বিয়ে একবার ভেঙে  দিয়েছিলেন কিন্তু আবারো নিয়তি জরীকে এই পাত্রের সাথেই বেধে দেয়। যদিও এসবের কারণ কিছু খোলসা করে দেননি লেখক।

শেষদিকে কেনই বা জরীর মা আনিসের মাকে চিনতে চান না। "আতর বৌ" কেন এ বাড়ি ছেড়ে অন্যের হাত ধরে চলে গিয়েছিল সেসবের পরিষ্কার মীমাংসা হয়না। পাঠকের অবারিত সুযোগ আছে নিজের মত করে ভেবে নেবার।

পুরো গল্পজুড়ে একটা হাহাকার ধরে রাখার চেষ্টা ছিল। কেন জরীর ছোটবেলার "সবচেয়ে সুন্দরী' এবং বেতারে গানকরা বান্ধবী কনক উদাস হয়ে যায় তার সৌন্দর্যের প্রশংসায় তা পাঠককে ভাবায়। আনিসের হাহাকার বেদনা পাঠককে ভাবায়। জরীর চলে যাওয়া এমনকি পুরো বাড়িটার এখনা বৃদ্ধ দশার মাঝেও হাহাকার তৈরির চেষ্টা আছে।

০৪/০৯/২০১৯

Sunday, November 3, 2019

সাম্মির প্রথম জি এ

আজ আমার মেয়েটা আবার থুতনি কেটে ফেলেছে!
তাকে জেনারেল এনেসথেসিয়া দিয়ে সেলাই দেয়া য়েছে।

সে জ্ঞান ফেরার পর ক্যানূলা সাইটে ব্যান্ডেজ দেখে বলছে:

- আমার তো হতে ব্যাথা পাইনি, তাহলে হতে ব্যান্ডেজ কেন!?
- তাইতো!? 
- তাহলে তোমরা মানা করনি কেন!?

03/11/2019

Wednesday, October 16, 2019

সাম্মির খেলা

কাল রাতে আমার মেয়ে আমাকে বলছে:
- বাবা আসো আমরা বন্ধু বন্ধু খেলি!
- সেটা কিভাবে খেলতে হয় মা!?
- তুমি বাবা হবে আর আমি হব বাবার বন্ধু!

ভাবলাম, বেশ ভালো খেলা! মেয়ে নিজেই বাবার বন্ধু হতে চায়!
আমি বললাম:
- আচ্ছা ঠিক আছে!
মেয়ে আমার:
- তুই কেমন আছিস রে!? (সে "বাবার বন্ধু" হয়েছে! সত্যিকারের বাবার বন্ধু; তো বন্ধুর সাথে তো তুই তুকারি করাই যায়! বন্ধুকে কি আর তুমি আপনি বলে!?)
😆😆😆

১৫/১০/২০১৯