Showing posts with label ঢাকা. Show all posts
Showing posts with label ঢাকা. Show all posts

Monday, September 7, 2020

রাস্তায় কুকুর থাকবে কি থাকবে না!?

এখন এমন ঘোষণা হয়েছে যে সিটি কর্পোরেশন কুকুর নিধন করবে! শহুরে কুকুর আর থাকবে না! অনেকেই বলেছেন কুকুর থাকবে কি থাকবে না তাতে তাদের নাগরিক জীবনের কিছু এদিক সেদিক হবে না!
তবে আমার ক্ষেত্রে এটি ভিন্ন!

রাস্তায় কুকুর না থাকলে আমার যে ভয়ানক সমস্যাটা হবে সেইটা হচ্ছে রাস্তায় বের হলেই আমি আর আমার মেয়ে কুকুর খুঁজি! সেই "দগ" বয়স থেকে সে এখন এই "কুকুর" পর্যন্ত আমি মেয়েকে নিয়ে কুকুর দেখি। তারা একা কেন থাকে, ওদের মাম কোথায়, রাগ করে ওরা চিৎকার করছে, গাড়িতে থাকলে ওরা আমাদের থেকে "পিছিয়ে যায়" এগুলোই আমাদের বিষয়! 

এখন অবস্থা এমন আমি রাস্তায় একা হাঁটলেও মেয়ের সমান আগ্রহ নিয়ে কুকুর দেখি। 

তাই আমার জন্য বিরাট সমস্যা!

০৭/০৯/২০২০

Saturday, April 6, 2019

লবণ কম হইছিল

আজকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক মহিলা ওয়ার্ডে যখন নার্স কোন এক রোগীর আত্মীয়কে বলছিল "সরকার তো অনেক করছে, এখন আপনারাও কিছু করেন রোগীর জন্য"! (উল্লেখ্য রোগীর কাছে maicopore ছিলনা এবং নার্সদের কাছেও না থাকায় কিনতে বলা হয়।

পাশ থেকে অন্য রোগীর পুরুষ অ্যাটেনডেন্ট বলছে: "সরকারেরই তো সব দেয়ার কথা!""

মানুষের আসলে চাওয়ার সীমা নাই!
এই বাঙালিকে সন্তুষ্ট করা খুব মুশকিল!

এ দেশের মানুষকে নিজের কলিজা কেটে খাওয়ালেও বলবে : "লবণ কম হইছিল"!

০৬/০৪/২০১৯

Thursday, May 31, 2018

Pro levels রিক্সাওয়ালা

আজ ঢাকা মেডিকেলে আসলাম বরিশালের একজন একেবারে pro elvele রিক্সাওয়ালার রিক্সায়!

রাতে ঘুমাতে দেরী হয়ে গিয়েছিল, শেষ রাতে একেবারে শেষ মুহুর্তে সেহরি করেছি। সকালে উঠেছি ঠিক সময়েই, কিন্তু বাইরে তুমুল বৃষ্টি! আকাশ কালো করে ঝম ঝম বৃষ্টি! ঘুম লাগা চোখে তাকিয়ে দেখি রাস্তায় টাখনু পানি, যার মানে হচ্ছে চৌরাস্তায় যেতে হলে আমাকে হাফ-লেগ পানি মাড়াতেই হবে। কিন্তু এই বৃষ্টিতে কেমন করে বেরোই। 

এদিকে মেয়েটাও উঠে গেছে! ওর সাথে কিছুক্ষণ বৃষ্টি দেখে কখন যেন আবার কাত শুয়ে পড়েছি!

যখন উঠেছি পরে দেখি বৃষ্টি এক্টূ থেকেছে কিন্তু বেজে গেছে সাড়ে নয়! মানে আমাদের মর্নিং সেশন মিস হয়ে গেল! আমাদের ইউনিটের প্রেজেন্টেশন ছিল আজ।

বাসা থেকে তড়িঘড়ি করে বের হয়ে রাস্তায় নেমে পাচ্ছিনা কোন রিক্সা। ওরাও ছুটি নিয়েছে আজ! অন্যরাস্তা ধরে চৌরাস্তায় এসেই মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার অবস্থা! কোন বাস নাই যাবার মত, কিন্তু এক সমুদ্র মানুষ! বুঝলাম একটু বেশী ঘুমিয়ে ফেলেছি।

ভাবলাম একটা উবার মটো বা পাঠাও মটো নেই। পরে ভেবে দেখলাম এই কাদা-পানির দিনে আমার গা-পা সবই যাবে। তার উপর আবার যেকোন সময় বৃষ্টি হতে পারে! আর নাও পাওয়া যেতে পারে এই পিক টাইমে। 

রিক্সা খোঁজা শুরু করলাম। সেখানেও বিপত্তি। কেউ ডিএমসি যাবেনা! 

বলতে বলতে এক রিক্সা পেলাম, উনি ১০০ এর এক পয়সা কমে যাবেন না। তাই সই... উঠে বসলাম।

সায়েদাবাদ গিয়েই দেখি জ্যাম। রিক্সা বামে ঘুরে গেল! অনেক রাস্তা ঘুরে আবার সেই দয়াগঞ্জ মোড়ে। ভাবলাম এবার বোধহয় টুকাটুলির দিকে যাবে, কিন্তু রিক্সাওয়ালা বলে ঐদিকে জ্যাম। সে সোজা ধোলাইখালের দিকে। ধোলাইখালের ইংলিশ রোডও যখন ক্রস করে গেল তখন বুঝলাম গুলিস্তান এভয়েড করছে, পরে ঢুকল এক গলিতে নাজিরাবাজার! কিছুদুর যাবার পর সে হঠাত করে ইউ টার্ন নিচ্ছে, আমি কিছু বলার আগেই দেখি দুরে রিক্সার জ্যাম। সে এইবার ঘুরে যে কোন রাস্তায় গেল আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না, বোঝার সময় ছিলনা, কোথাও হাটু সমান পানি, কোথাও কোমর সমান। একবার রিক্সায় পানিই উঠে গেল, সে তবু রিক্সা টেনে চলছে আর আমি গ্যাট হয়ে বসেই আছি। পুরান ঢাকার রাস্তার যে এত "কোথাও উচু - কোথাও নীচু - বন্ধুর" অবস্থা সেটা পানি না জমলে বুঝতেই পারতাম না! মধ্যবয়সী এক লোক আমাকে টেনে নিয়ে যেতে চাইছে ডিএমসির দরজায়, সে তার নিজের অভিজ্ঞতায় নতুন রাস্তা ঠিকই বের করছে কিন্তু রাস্তাতো নিজেই ঠিক নেই! অবশেষে পুরান ঢাকার ভাঙ্গাচোরা রাস্তায় এসে তার মুখে হতাশার শব্দ শোনা গেলঃ কেন যে এসেছিল এইদিকে! কোন ভুতে যে তাকে ধরছিল! ততক্ষণে ০১ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে আর আমাকে রাউন্ডে এসে ম্যাডামও খুজে ফেলেছে! 

অবশেষে চানখারপুল দিয়ে রিক্সা বের হল এবং রাস্তার মোড়ের পানি আর সিগ্ন্যাল পার হয়ে  বার্ন ইউনিটের গেইট এ রিক্সা পৌছুল। আমি তাকে আরো কুড়ি টাকা বকশিশ দিয়ে বল্লামঃ চাচা! বাড়ি কই?

বরিশাল! 

থ্যাং ইউ! অনেক কষ্ট করছেন!

৩১.০৫.২০১৮

Sunday, November 26, 2017

উবার যুগের "ছেনঝি" অভিজ্ঞতা

কাল ময়মনসিংহ থেকে ফিরেছি, বাস থেকে নেমেছি মহাখালী কাঁচাবাজার। বাসে বসেই ভেবেছি একটা উবারে চড়ে বসবো। কিন্তু কাঁচাবাজারের সামনে নেমেই দেখি অনেকগুলো সিএনজি, আমি ফোন বের করার আগেই একজন মধ্যবয়সী সিএনজি ড্রাইভার এগিয়ে এলো।

- স্যার! কোথায় যাবেন?
সিএনজি ড্রাইভার আবার স্যার বলে নাকি!?!
- যাত্রাবাড়ী! কত নিবেন?

সে এক হাতে আমার সবচেয়ে বড় ব্যাগটা তুলে নিয়ে বললো: ২৫০ টাকা!

আমি মনে মনে হতবাক! ৩০০ টাকা সেধেছি তাও সিএনজি পাইনাই এমন কত দিন গেছে! আমি উবারে আরামে যাব বলে সিএনজি তে যেতে চাইছি না। বললাম ২০০ পাবেন! (এই টাকায় যাবার প্রশ্নই আসেনা!)

- আর ২০ টাকা বাড়ায়ে দিয়েন স্যার! সে ব্যাগ নিয়ে হাটা শুরু করলো!

তার সিএনজি অন্যদের চাইতেও অনেক দূরে ছিল। সে নিজে আমার দুইটা ব্যাগ সিএনজিতে ওঠালো এবং যথেষ্ট ভালো ব্যবহার করল। (যেটা আসলে সিএনজি ড্রাইভারদের জন্য দূর্লভ!) আমি নিজের সিদ্ধান্ত বদলে সিএনজিতে উঠে পড়লাম।

তো এগুলোই উবার-পাঠাও এফেক্ট!

সবাই "ঠিক লাইনে" চলে আসবে। সময়টা এখন "সেবা/সার্ভিস" দেবার; স্ট্রাইক করেন আর আন্দোলন করেন সেবার যায়গাটাতে মান না বাড়ালে আপনার "ভ্যালু" নাই সেইটা কিছু সিএনজি ড্রাইভারও শিখে গেছে!

দেখে ভালো লাগলো।

Thursday, August 24, 2017

সমস্যা নাকি ব্যবসা

আজ সারাদিনে বিভিন্ন কারণে আমাকে মোট ৫ বার ভিন্ন ভিন্ন রুটের বাসে উঠতে হয়েছে এবং আমি হঠাৎ করেই একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম সেইটা হচ্ছে ছোট্ট চিরকূট দিয়ে সাহায্য প্রার্থনার হিড়িক।
এমনিতেই অনেকদিন ধরেই মাঝে মাঝে বাসে এগুলো দেখা যায়, ছোট চিরকুট সাথে কখনো একটা চকলেট। তেমন কিছু মুখে বলা হয়না, বসে থাকা সবার কোলে একটা করে দিয়ে যায় আবার পেছনে থেকে তুলে নিয়ে নেমে যায়। এগুলো ঈদ উপলক্ষে বাড়ে সেইটাও ঠিক কিন্তু আজ ৫ বাসের ৪ টাতেই এই চিরকুট পেয়েছি, বাকি একটায় লম্বা ফাইলসহ সাহায্য চাওয়া!
চিরকুট যারা দিচ্ছিল তাদের একজনের বয়স পাচ কি ছয়, গুলশান থেকে বাসে উঠলো, কথা বলতে চাইলে আমাকে পাত্তাও দিলোনা। আরেকজন ছিল ১৪-১৫ বছরের এক ছেলে, দেখলেই বোঝা যায় মারদাঙ্গা করে বেড়ায়। গালে কপালে কাটা দাগ, স্ট্যাইল করে চুল কাটা, ড্যাম কেয়ার ভাব! বাকি দুইজনের একজন একটা মেয়ে ১২-১৩ বছরের আরেকজন অল্পবয়েসী মা তার কোলে দেড় বছরের শিশু!
হঠাৎ করেই এই সাহায্য প্রার্থনার হিড়িক কি অন্য কোনোকিছু নির্দেশ করে!?
একে তো এদের অনেককেই দেখে খুব "সাহায্যপ্রার্থী" বলে মনে হয়নাই, আর একইসাথে বিভিন্ন রুটে এদের উপস্থিতি প্রমাণ করে এরা পরিকল্পিত। কেউ আড়ালে থেকে এদের দিয়ে "সাহায্য-ব্যাবসা"টা করাচ্ছে। টাকা ভাগাভাগি হয়ে যাচ্ছে!
এর মানে এই নয় যে এদের কেএ টাকা-পয়সা দিবেন না, সাহায্য করবেন না! আসলে খুব বেশী লোকে করে তাও না, কিছু বয়ষ্ক আর মেয়ে-মহিলারাই করে, যাদের হঠাৎ এদের দেখে মায়া জন্মে, যারা এসব দেখে অভ্যস্ত নয়।
কতরকম ব্যাপারস্যাপারই না চলে আমাদের চারপাশে, এই ঢাকায়।
২৪.০৮.২০১৭