Friday, July 31, 2020
কোটি কোটি এবং কোটি
Saturday, April 6, 2019
লবণ কম হইছিল
আজকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক মহিলা ওয়ার্ডে যখন নার্স কোন এক রোগীর আত্মীয়কে বলছিল "সরকার তো অনেক করছে, এখন আপনারাও কিছু করেন রোগীর জন্য"! (উল্লেখ্য রোগীর কাছে maicopore ছিলনা এবং নার্সদের কাছেও না থাকায় কিনতে বলা হয়।
পাশ থেকে অন্য রোগীর পুরুষ অ্যাটেনডেন্ট বলছে: "সরকারেরই তো সব দেয়ার কথা!""
মানুষের আসলে চাওয়ার সীমা নাই!
এই বাঙালিকে সন্তুষ্ট করা খুব মুশকিল!
এ দেশের মানুষকে নিজের কলিজা কেটে খাওয়ালেও বলবে : "লবণ কম হইছিল"!
০৬/০৪/২০১৯
Friday, December 14, 2018
১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১
পুরো ৯ মাস প্রায় তিরিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করার পর তারা পরাজয় নিশ্চিত জেনে স্বাধীনতার মাত্র দুইদিন আগে থেকেই শুরু করে ঠান্ডা মাথায় জাতিকে পঙ্গু করে দেবার পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। এ দেশের সবচে মেধাবী, সবচে পরিশীলিত মানুষগুলোকে সুনির্দিষ্ট তালিকা করে হত্যা! এদেশের আলোবাতাস-নদী-জলেই বেড়ে ওঠা কিছু পাকিস্তানের দোসর আলবদর, মাত্র একদিনে দেশটাকে পিছিয়ে দিল "অগণিত সময়ের জন্য"! অগণিত সময় বলছি কারণ ব্যাপারটা "বাটারফ্লাই এফেক্টে"র মত; যেখানে সামান্য প্রজাপতির ডানার বাতাসে কালের আবর্তনে বনভূমির সৃষ্টি হয় সেখানে অসামান্য সেই সোনার মানুষগুলো বেঁচে থাকলে আমাদের দেশটা আরো কতই না সুন্দর হত!
হয়ত সেই সোনার মানুষগুলো থাকলে সদ্য স্বাধীন হওয়া একটা দেশের দায়িত্বটুকু নিতে পারতেন, এখন সংখ্যাটা (হাজার) আপাত কম মনে হলেও আসলে ওরাই ছিলেন পুরো বাংলাদেশ! পুরো দেশে শহিদুল্লাহ কায়সার, জ্যোতির্ময় গুঠাকুরতা, সেলিনা হোসেন, আবদুল আলীম চৌধুরী, মুনির চৌধুরী, আলতাফ মাহমুদ কয়জন ছিলেন!? ধ্বংসস্তূপ থেকে একটা দেশকে তুলে আনতে যাদের প্রয়োজন ছিল সবচে বেশী সেই মানুষগুলো স্বাধীন দেশে নেই! তারা নেই মানে তাদের সমগ্র জীবনের সাধনা দিয়ে যে জ্ঞান, যে প্রজ্ঞা তারা অর্জন করেছিলেন তার কিছুই আর স্বাধীন দেশটা পেলনা! এ যে কত বড় হাহাকার! কত অসীম না পাওয়া!!
আমার কেন যেন মনে হয়, এই যে কত ঝড় সইতে হল এগুলো পেছনেও ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ দায়ী!!!
এই যে আমরা স্বাধীনতাটা পেলাম, কিন্তু আমাদের নিজেদের সঠিক মুক্তি আসল না। আমাদের দেশের সবচে সুন্দর চিন্তা করার মানুষগুলোকে হত্যা করা হল আর যারা হত্যা করল তারা দেশের মাটিতে বেঁচে রইল, শুধু বেঁচেই রইল না; দেশের সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা পেতে লাগলো! এক সময় দেশেকে শাসন করতে লাগলো! আমরা ঠিক রুচিবোধ তৈরি করতে পারলাম না, আমাদের শিল্প সাহিত্য কোথায় যেন আটকে গেল, আমাদের নিজেদের মাঝে নানা দ্বন্দ্ব তৈরি করা হল, আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ দেখলাম; নিজেদের অনন্তকালের জন্য কলঙ্কিত করলাম, ৭৫ পরবর্তী আমাদের দেশটা কত সম্ভবনা থেকে বঞ্চিত হল, দেশের শিশুরা তার দেশের ভুল ইতিহাস জেনে বড় হতে লাগলো, যে শিক্ষা তাদের পাবার কথা ছিল সেই চমৎকার শিক্ষাটা তারা পেলনা, আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানের পতাকা দেখলাম, একটা প্রজন্ম দেশের প্রতি ভালোবাসার বদলে এক ধরনের তাচ্ছিল্য নিয়ে বেড়ে উঠল... এই এতগুলো ব্যাপারের একটা বড় নিয়ামক হচ্ছে ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১! (অন্তত আমার তাই মনে হয়)
আমরা আজও একটা যুদ্ধ করে যাচ্ছি! এত বছর পরেও আজ সেই ঘাতকেরা দেশকে শাসন করতে চায়! স্বাধীনতা আমাদের আসল কোথায়!?
কী আস্পর্ধা!
আর আমরা আজও সেই প্রতিবাদ দেখিনা, আজও বুদ্ধিজীবীর নামে বুদ্ধিবেশ্বাদের কদর্য কথা আমাদের শুনতে হয়!
আফসোস! খুব আফসোস!!
বাংলাদেশ এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই দেশ সামনে চলবে কার হাত ধরে, দেশটিতে কি আদৌ মুক্তিযুদ্ধ বা দেশপ্রেমের চর্চা স্থায়ী হবে কিনা এসব প্রশ্নের খুব পরিস্কার জবাব দরকার। বাংলাদেশ আর পিছিয়ে যেতে চায়না, বাংলদেশ সোনার বাংলা হতে চায়। দেশের মানুষগুলোকে সেই সুন্দরতম রুচি, শিক্ষা ও জীবনবোধ অর্জনের জন্য আরো একটু সময় দরকার, এই পরিবেশ আরো একটু প্রলম্বিত হওয়া দরকার। তবেই সামনে আমরা পাব পরিচ্ছন্ন, সুন্দরতম এক অদম্য বাংলাদেশ!
জয় বাংলা!
Thursday, April 12, 2018
হাসপাতালে প্রজাপতি নেই!
আমি একজন বাবা। আমার একটা ছোট্ট পৃথীবি আছে, বয়স ২ এর কিছু বেশী, আমরা ওকে সাম্মি ডাকি। এই বয়সেই তার রাজ্যের প্রশ্ন! বয়সটাই প্রশ্নের!
- বাবা! কোথাও গিয়েছিলে?
- বাবা তো হাসপাতালে গিয়েছিলাম মা! (ও আমি একজন চিকিৎসকও বটে)
- সেখানে কে থাকে?
- সেখানে বাবুরাও থাকে, আংকেলও থাকে, খালামনিরাও থাকে। ওরা দুত্তুমি করে ব্যথা পেয়েছে তো তাই বাবা ওদের দেখতে যাই।
- সেখানে বাবুরা কি করে? আর কে থাকে? সাম্মিও সেখানে যাবে?
ক্লান্ত-ব্যস্ত চিকিৎসকেরও মহানন্দের রাত আসে! রাতে পুরো পৃথীবিকে কোলে নিয়ে ঘুমানো যায়! তাকে প্রায় রাতেই গল্প শোনাতে হয়, আমাদের ও তার ক্লান্তিতে তার চোখ বুজে আসলেও "বাবা! গল্প বলো"! আমি শুর করি আর শেষটা করতে হয় তার মামকে!
তাকে গল্প বলতে হয়, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমি নিজেই কি আর অত গল্প জানি! তারপরেও তাকে কোলে নিয়ে রাতে গল্প শোনাই। এক আনন্দময় রঙিন দেশের গল্প! সেখানে অনেক অনেক ফুল থাকে, সবুজ ঘাসের মাঠ থাকে, বড় বড় গাছ থাকে, গাছে দোয়াল, চড়ুইয়া, বুলবুলি, টিয়া, ময়না থেকে শুরু করে ঈগল পাখিও থাকে! সেদেশের প্রায় সব গাছেই কাঠবিড়ালি থাকে, সে যে গাছই হোক তারা সেখানে পেয়ারা খায়! আর থাকে টাট্টু ঘোড়া, টবগ টবগ করে সবুজ ঘাসের ওপর দিয়ে চলে। সাম্মী টাট্টু ঘোড়ার পিঠে চড়ে কিন্তু পড়ে যায়না। টাট্টু ঘোড়ার সাথে পংখীরাজও থাকে কিন্তু পংখীরাজ টাট্টুঘোড়ার সাথে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনা! কোন খেলাতেই টাট্টুঘোড়ার সাথে পারে না; না দৌড়ে; না ঝাপাঝাপিতে। সেখানে খরগোস থাকে, মিমিউ থাকে, অনেক কুকুর থাকে, পান্ডা থাকে, বাঘ থাকে, সিংহ থাকে, হাতি, জেব্রা, জিরাফও থাকে। ওরা সবাই সাম্মির সাথে খেলতে চায়! সাম্মিকে সবাই আদর করে।
ও! আর সেই সওদাগর আর ময়না পাখির কথা তো বলাই হয়নি। এটা "মোস্ট ডিমান্ডিং ওয়ান"! 'অনেক ছোটবেলা' থেকেই সে এই গল্প শুনে আসছে, 'এখন তো সাম্মী বড় হয়ে গেছে'; কিন্তু গল্পের আবেদন কমছে না! প্রতিদিন একই গল্প শুনতে যে কত ভালো লাগে! প্রতিরাতে নতুন একটু যোগ হতে হতে আজ ডালপালা মেলে পুরো গল্পের সংসার! সেখানে ময়না পাখির অনেক বুদ্ধি! সে সবাইকে বলে দেয় কোনটা ভালো কাজ আর কোনটা পচা কাজ; পচা কাজ করলে তো কেউ সাম্মিকে আদর করেনা আর লক্ষীসোনা চাঁদেরকণাও বলে না! (এখানে আবার ময়না পাখির কণ্ঠ দিতে হয়, সওদাগরের কণ্ঠ দিতে হয়, সবাই তো আলাদা করেই কথা বলে!) গোসল করা ছাড়া, পানি নিয়ে খেলা করা হচ্ছে এখানে সবচেয়ে পচা কাজ!
তো আমার মেয়ের রাজ্যে তো অনেক আনন্দ! এক সাম্মিময় রাজ্য। সেদিন রাতে তাকে শোনাচ্ছিলাম সওদাগরের প্রজাপতি ধরার গল্প। প্রজাপতি কেন পেয়ারা খায়না সেই ব্যাখ্যায় আসতেই -
- বাবা! তোমার হাসপাতালে কি প্রজাপতি আছে? (সকালে উঠেই বাবা-মাম সাম্মীকে রেখে হাসপাতালে চলে যায়, শুয়ে শুয়ে এটাই ভাবছিল বোধকরি!)
- হাসপাতালে কি প্রজাপতি থাকে মা?
- ঐ যে বাবুরা থাকে!
- তাই তো! বাবুরা থাকে প্রজাপতি তো থাকারই কথা!
- সেখানে কি অনেক ফুল থাকে? সেখানে প্রজাপতি খেলা করে?
- হ্যা মা! সেখানে অনেক ফুল থাকে! সেখানে অনেক প্রজাপতি থাকে। ওরা উড়ে উড়ে ফুলের সাথে খেলা করে। বাবুরাও ফুলের সাথে খেলা করে।
মেয়েকে তো বলি ফুল থাকে, প্রজাপতি থাকে। আসলে তো আমি জানি সরকারি হাসপাতালে কি থাকে। প্রতিটি দিনের আলোটুকুর পুরোটা সময়, কত গোধূলী-সন্ধ্যা আর নির্ঘুম রাত কেটে যায় যে হাসপাতালে সেখানে তো কোন সবুজ গাছ নেই, কোন ফুল নেই, পাখিও নেই, প্রজাপতিও নেই।
আহা! এত রোগ-শোকে আর ক্লান্তি দুখের আধারের মাঝে একটু যদি ফুল-পাখি-প্রজাপতি থাকতো! কত দারুনই না হত! এই এক জীবনের জন্য কি খুব বেশী চাওয়া? আমাদের শিশুদের জন্য, আমাদের জন্য এই গল্পগুলো সত্যি হলেও তো পারে!
Friday, October 6, 2017
ছেলেরা কোথায়!?
আজ স্বশরীরে পরীক্ষা হলে গিয়ে দেখলাম ছেলে-মেয়ের যে অনুপাত তাতে তো অনেকগুনেই এগিয়ে থাকবে ছেলেরা।
অথচ বরাবরই পত্রিকার পাতা থেকে শুরু করে হিসাবের খাতায় মেয়েরা এগিয়ে। সব মেডিকেল।কলেজগুলোতে দএকএখা যাবে ছেলে-মেয়ে অনুপাতে ছেলে সংখ্যালঘু! এমনো মেডিকেল কলেজ আছে যেখানে ছেলেরা এককোনে জুবুথুবু হয়ে বসে থাকে একদল মেয়েদের ভিড়ে!
শুধু গ্রাজুয়েশনেই না, পোষ্ট-গ্রাজুয়েশনেও মেয়েদের জয়জয়কার। "মেয়েদের সাবজেক্ট" হিসেবে খ্যাত গাইনীতে কিন্তু অত ছেলেরা যায়না এখনো! অন্যদিকে এখন এমন কোন সাবজেক্ট নাই যেখানে মেয়েরা যাচ্ছেনা, বরং অনেকগুলোতে তারাই ডমিনেট করছে!
মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে, ভালো করছে সেটা সমস্যা না কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমাদের ছেলেদের হলোটা কি!?
নানাবিধ তাড়না, যাতনা ও দায়িত্বের যাতাকলে পড়ে এরা ঠিক কুলিয়ে উঠতে পারছে না কি!? আমার মনে হয় এই বিষয় নিয়ে সিরিয়াসলি ভাববার সময় এসেছে।
মেয়েরা যতই বলুক তাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছেই, আমাদের দেশে এখনো চিকিৎসক হিসেবে মেয়েদের সবজায়গাতে সুবিধাটা পরিপূর্ণ হয়নি। উপরুন্ত কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব সীমাবদ্ধতাও আছে, বিশেষ করে সংসার প্রতিপালন ও সন্তান লালনের দায়িত্বটুকু এখনো প্রায় পুরোটাই তাদের। তারা রাত্রিকালীন ডিউটিতে অনেকক্ষেত্রেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, দূর্গম এলাকায় চাকুরি সম্ভব হয়না, মাতৃত্বকালীন ছুটিও প্রায় অর্ধবছর।
এসব প্রতিবন্ধকতার বাইরেও আরো হাজারো সমস্যার কারণে এই বিপুল সংখ্যক নারী চিকিৎসকের জন্য শেষপর্যন্ত গ্রাজুয়েশন হয়ে যায় "অর্নামেন্টাল"; বিয়ের বাজারে একটি অনন্য যোগ্যতা মাত্র! অনেকেই পোস্ট-গ্রাজুয়েশন শেষ করেও ঠিক যে মাপের বিস্তৃত সেবা কমিউনিটিতে দেয়ার কথা সেটা দিতে পারছেন না।
এই এতসব সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবতার কথা কোন মেয়েকে নারীকে ছোট করবার জন্য নয় বরং তাদেরকে আরো বাস্তবসম্মত চিন্তা করবার জন্য, যারা পলিসিমেকার আছেন তাদের আরো ভাববার জন্য। সর্বপরি আমাদের ছেলে বা পুরুষদের আরো একটু সচেতন হবার জন্য, শেষে নিজের জায়গাটাতেও যেন একটা "অগ্রহণযোগ্য" আসাম্য চলে না আসে!
Sunday, May 28, 2017
কে গরীব?
কে গরীব!
যে সিএনজি চালিয়ে ২০০/- মিনিমাম ভাড়া নেয় সে?
যে রিক্সাওয়ালা বৃষ্টি হলেই ২০-৫০/- বেশী ভাড়া নেয় সে?
যে ফলে রঙ/কার্বাইড দেয় সে?
১ টাকা কেজি কিনে ৩৫/- কেজি সবজি বিক্রি করে সে?
যে ৫ মিনিটে ফোন মেরামত করে ২০০০/- নেয় সে?
ন্যুনতম বাস ভাড়া ২০/- নেয় যে সে?
আমি তো গরীব দেখি শুধু সেই মানুষটাকে যে জীবনের অর্ধেকের বেশী সময় নিজের মেধা দিয়ে ভূল করে "শুধু এমবিবিএস ডাক্তার" হয়ে বসে আছে!
মেডিকেল শিক্ষা: উত্তরণের পথ কোথায়
গঠনমূলক সমালোচনা সবসময়ই উন্নতির প্রধান শর্ত। এখানে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে তা অনেকটাই সঠিক তাই বলে সমাধানের রাস্তা "বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বন্ধ" অবশ্যই নয়। এখানে বলা হয়েছে সবগুলো মেডিকেল কলেজ শিক্ষার মান এক নয়, এটি কিন্তু সঠিক। এক হবার কথাও নয়। কিন্তু একটি সুনির্দিষ্ট ন্যূনতম মান থাকতে হবে। কেউ কেউ সেই মানের চাইতে ওপরে থাকলে অন্যরা মানহীন হয়ে যায়না।
যেমন দেশের স্কুল বা কলেজের ক্ষেত্রে প্রথম সারির কিছু নামই ঘুরেফিরে সবার মাথায় আসবে কিন্তু তাই বলে কি বাকিগুলো একেবারেই মানহীন? সেখানে শিক্ষার্থীরা কিছুই পড়েন না? সেগুলো বন্ধ করে দিতে হবে?
ঠিক একই ব্যাপার চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও। ইতোমধ্যেই কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। স্বাস্থ্য অঅধিদপ্তরের উদ্যোগে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মূল্যায়ন এর জন্য একটি কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত। এটি করা গেলে আমাদের শিক্ষার মান আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে। আমরা অনলাইন বা দূরপাঠ শুরু করা হচ্ছে ফলে দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা একটি মানসম্মত পাঠ পাবে যার মধ্যে শিক্ষার্থীদের মতামতা ও প্রশ্ন করার সুযোগ থাকছে ফলে "প্রশ্ন ও উত্তর" ও অনুসন্ধিৎসার মাধ্যমে চমৎকার একটি শিক্ষার পরিবেশ তৈরীর সুযোগ হয়েছে।
আর সব বাদ দিয়ে যদি ধরেই নিই কাল থেকে ৭৫% বেসরকারি মেডিকেল বন্ধ! তবে বিভিন্ন সেশনের যে হাজাত হাজার শিক্ষার্থী আছে তাদের কি হবে? তাদের শিক্ষার অধিকার বন্ধ করার সুযোগ কি কারো আছে?
বাংলাদেশ ছোট দেশ হলেও এর বিপুল জনসংখ্যার চিকিৎসা সেবার জন্য ডাক্তারেরও প্রয়োজন, ফলে মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে সমাধান খোজার সুযোগ নেই বরং আমাদের জন্য আশীর্বাদ যে আমরা অবকাঠামো ও অন্যান্য অনেকক্ষেত্রেই এগিয়ে আছি, এগুলোর সঠিক ব্যাবস্থাপনাই আমাদের চিকিৎসা শিক্ষাকে নতুন পথ দেখাবে।