Showing posts with label চিকিৎসা. Show all posts
Showing posts with label চিকিৎসা. Show all posts

Tuesday, January 22, 2019

পরাবাস্তব জগৎ

আজ নিয়ে প্রায় টানা ৫ টা নাইট ডিউটি করলাম। জেনারেল সার্জারি আর প্লাস্টিক সার্জারীর নন এডমিশন - এডমিশান সব মিলিয়ে এই অবস্থা! নিজের রোস্টার ছিল সাথে অনুরোধে ঢেঁকি গিলতে গিয়ে এবং পুরনো ডিউটি নিজ থেকে ফেরত দিতে গিয়ে সংখ্যা বেড়ে গেল!

গতকাল রাতে এডমিশান ডিউটি করে বাসায় ঘুম ভালো হয়নি, একটু কাজ গোছানোর চেষ্টা করেছি। গত কয়েকদিনের নাইট ডিউটি করার কারণে একটা স্লীপ দেট (Sleep Debt) ছিল। তাই আজকে শরীরটা ছিল ক্লান্ত।

পর পর মঙ্গল আর রবিবার দুটো অ্যাডমিশন হওয়ায় এবং শীতকাল হওয়ায় অসংখ্য রোগী ভর্তি হয়ে একেবারে কানায় কানায় ভরে আছে প্রতিটি ওয়ার্ড, ওয়ার্ডের বারান্দা! পুরুষ ওয়ার্ডের মেঝে খালি ছিল কিছুটা এছাড়া মহিলা, শিশু ওয়ার্ড আর এগুলোর HDU আমাদের ব্লু ইউনিটের রোগী দিয়েই ভরে গেছে! আইসিইউ তেই আমাদের রোগী মোট সংখ্যার ৮০ ভাগ!

পুরুষ, মহিলা, শিশু সব ওয়ার্ডেই  ধারণক্ষমতা  চাইতে  অনেক বেশি রোগী ছিল। একজন ভিআইপি রোগী আছেন আইসিইউতে, সংরক্ষিত নারী আসনের পদপ্রার্থীর মা! তাকে বিকালে দেখে গিয়েছেন নসরুল হামিদ বিপু! এই অতিরিক্ত ঝামেলার কারণে সাধরণ রোগিগুলোকেও সেভাবে দেখা যাচ্ছিল না।

বারবার আইসিইউতে যেতে হয়েছে, শুধু পুরুষ ওয়ার্ড ছাড়া সবগুলো জায়গায় রোগীতে ভরপুর! আক্ষরিক অর্থেই কোন রোগীর পাশে যেতে হলে যুদ্ধ করতে হচ্ছিল, যায়গা যাওয়া যাচ্ছিল না! এমনিতেই কয়েকদিনের টানা ডিউটি করে স্লিপ ডেট রয়ে গেছিল তাই সেভাবে মনযোগ ধরে রাখা যাচ্ছিল না। রাতের একসময় মনে হচ্ছিল  একটা পরাবাস্তব দুনিয়ার আছি। আমি আমাকে চালাচ্ছি না! আইসিইউ থেকে এক রোগীর স্বজন এসে আবদার করল তার রোগীকে দেখতে যেতে হবে তখন আমি ঠিক মাথা সোজা করে রাখতে পারছিনা, মনে হচ্ছিল কেউ আমার মাথা ধরে রাখলে খুব ভাল হত! কিন্তু আমি সেই রোগীকে দেখে এসেছি এবং আমি জানি ওনার জন্য খুব বেশী কিছু করার নাই আমার তবে আমার একবার দেখতে যাওয়া উচিত নইলে রোগীর স্বজনের কাছে চিকিৎসা গ্রহনযোগ্য মনে হবে না। কিন্তু এভাবে যদি সবার রোগী দেখতে যেতে হয় তবে ডাক্তার লাগবে কয়েকজন! তাও কিছুক্ষণ বসে একটু স্থির হয়ে দেখে এলাম। এরপর একটু শোয়ার পরেই আসল এক মওলানা যার বাচ্চাকে আমি দেখে এসেছি এবং ভালোভাবেই সব বলে এসেছি। কিন্তু ভালোভাবে বলআর একটা ঝামেলা হল, লোকজন তখন যা তা সব আবদার করে বসে এবং সেগুলো মেটানো কোন চিকিৎসকের পক্ষে সম্ভব না! তখন মনে হল বাঙালি হিসেবে আমরা কিছুটা "ঝাড়ি প্রিয়"! যে আমাকে শাসন করতে পারে, শাসনের সুরে কথা বলে আমরা তাকে বেশী মূল্যায়ণ করি এবং তার কথা মনযোগ দিয়ে শুনি। চিকিৎসা করার সময় এই জাহড়ি বেশ কাজে দেয়!

এসব করতে করতে একসময় ভোরের দিকে একটা বাচ্চা মারা গেল আসমা, ১২ বছরের প্রতিবন্ধী। এরপর শুরু হল তার মায়ের আহাজারি! একটানা বিলাপ করতে থাকা!

হঠাত একটা ঘোরলাগা সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি বলে মনে হতে লাগলো। মনে হচ্ছিল হয়ত এই জীবন আমার নয়, এই মুহুর্ত আমার না, আমি যা করছি তা ঠিক আমি করছি না, কেউ আমাকে দিয়ে এগুলো করিয়ে নিচ্ছে! একটা পরাবাস্তব জগতে ঢুকে গেছি বলে মনে হচ্ছিল!

১৮.০১.২০১৯

Friday, December 14, 2018

১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১

পুরো ৯ মাস প্রায় তিরিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করার পর তারা পরাজয় নিশ্চিত জেনে স্বাধীনতার মাত্র দুইদিন আগে থেকেই শুরু করে ঠান্ডা মাথায় জাতিকে পঙ্গু করে দেবার পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। এ দেশের সবচে মেধাবী, সবচে পরিশীলিত মানুষগুলোকে সুনির্দিষ্ট তালিকা করে হত্যা! এদেশের আলোবাতাস-নদী-জলেই বেড়ে ওঠা কিছু পাকিস্তানের দোসর আলবদর, মাত্র একদিনে দেশটাকে পিছিয়ে দিল "অগণিত সময়ের জন্য"! অগণিত সময় বলছি কারণ ব্যাপারটা "বাটারফ্লাই এফেক্টে"র মত; যেখানে সামান্য প্রজাপতির ডানার বাতাসে কালের আবর্তনে বনভূমির সৃষ্টি হয় সেখানে অসামান্য সেই সোনার মানুষগুলো বেঁচে থাকলে আমাদের দেশটা আরো কতই না সুন্দর হত!

হয়ত সেই সোনার মানুষগুলো থাকলে সদ্য স্বাধীন হওয়া একটা দেশের দায়িত্বটুকু নিতে পারতেন, এখন সংখ্যাটা (হাজার) আপাত কম মনে হলেও আসলে ওরাই ছিলেন পুরো বাংলাদেশ! পুরো দেশে শহিদুল্লাহ কায়সার, জ্যোতির্ময় গুঠাকুরতা, সেলিনা হোসেন, আবদুল আলীম চৌধুরী, মুনির চৌধুরী, আলতাফ মাহমুদ কয়জন ছিলেন!? ধ্বংসস্তূপ থেকে একটা দেশকে তুলে আনতে যাদের প্রয়োজন ছিল সবচে বেশী সেই মানুষগুলো স্বাধীন দেশে নেই! তারা নেই মানে তাদের সমগ্র জীবনের সাধনা দিয়ে যে জ্ঞান, যে প্রজ্ঞা তারা অর্জন করেছিলেন তার কিছুই আর স্বাধীন দেশটা পেলনা! এ যে কত বড় হাহাকার! কত অসীম না পাওয়া!!

আমার কেন যেন মনে হয়, এই যে কত ঝড় সইতে হল এগুলো পেছনেও ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ দায়ী!!!

এই যে আমরা স্বাধীনতাটা পেলাম, কিন্তু আমাদের নিজেদের সঠিক মুক্তি আসল না। আমাদের দেশের সবচে সুন্দর চিন্তা করার মানুষগুলোকে হত্যা করা হল আর যারা হত্যা করল তারা দেশের মাটিতে বেঁচে রইল, শুধু বেঁচেই রইল না; দেশের সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা পেতে লাগলো! এক সময় দেশেকে শাসন করতে লাগলো! আমরা ঠিক রুচিবোধ তৈরি করতে পারলাম না, আমাদের শিল্প সাহিত্য কোথায় যেন আটকে গেল, আমাদের নিজেদের মাঝে নানা দ্বন্দ্ব তৈরি করা হল, আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ দেখলাম; নিজেদের অনন্তকালের জন্য কলঙ্কিত করলাম, ৭৫ পরবর্তী আমাদের দেশটা কত সম্ভবনা থেকে বঞ্চিত হল, দেশের শিশুরা তার দেশের ভুল ইতিহাস জেনে বড় হতে লাগলো, যে শিক্ষা তাদের পাবার কথা ছিল সেই চমৎকার শিক্ষাটা তারা পেলনা, আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানের পতাকা দেখলাম, একটা প্রজন্ম দেশের প্রতি ভালোবাসার বদলে এক ধরনের তাচ্ছিল্য নিয়ে বেড়ে উঠল... এই এতগুলো ব্যাপারের একটা বড় নিয়ামক হচ্ছে ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১! (অন্তত আমার তাই মনে হয়)

আমরা আজও একটা যুদ্ধ করে যাচ্ছি! এত বছর পরেও আজ সেই ঘাতকেরা দেশকে শাসন করতে চায়! স্বাধীনতা আমাদের আসল কোথায়!?

কী আস্পর্ধা!

আর আমরা আজও সেই প্রতিবাদ দেখিনা, আজও বুদ্ধিজীবীর নামে বুদ্ধিবেশ্বাদের কদর্য কথা আমাদের শুনতে হয়!

আফসোস! খুব আফসোস!!

বাংলাদেশ এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই দেশ সামনে চলবে কার হাত ধরে, দেশটিতে কি আদৌ মুক্তিযুদ্ধ বা দেশপ্রেমের চর্চা স্থায়ী হবে কিনা এসব প্রশ্নের খুব পরিস্কার জবাব দরকার। বাংলাদেশ আর পিছিয়ে যেতে চায়না, বাংলদেশ সোনার বাংলা হতে চায়। দেশের মানুষগুলোকে সেই সুন্দরতম রুচি, শিক্ষা ও জীবনবোধ অর্জনের জন্য আরো একটু সময় দরকার, এই পরিবেশ আরো একটু প্রলম্বিত হওয়া দরকার। তবেই সামনে আমরা পাব পরিচ্ছন্ন, সুন্দরতম এক অদম্য বাংলাদেশ!

জয় বাংলা!

Friday, October 6, 2017

ছেলেরা কোথায়!?

আজ স্বশরীরে পরীক্ষা হলে গিয়ে দেখলাম ছেলে-মেয়ের যে অনুপাত তাতে তো অনেকগুনেই এগিয়ে থাকবে ছেলেরা।

অথচ বরাবরই পত্রিকার পাতা থেকে শুরু করে হিসাবের খাতায় মেয়েরা এগিয়ে। সব মেডিকেল।কলেজগুলোতে দএকএখা যাবে ছেলে-মেয়ে অনুপাতে ছেলে সংখ্যালঘু! এমনো মেডিকেল কলেজ আছে যেখানে ছেলেরা এককোনে জুবুথুবু হয়ে বসে থাকে একদল মেয়েদের ভিড়ে!

শুধু গ্রাজুয়েশনেই না, পোষ্ট-গ্রাজুয়েশনেও মেয়েদের জয়জয়কার। "মেয়েদের সাবজেক্ট" হিসেবে খ্যাত গাইনীতে কিন্তু অত ছেলেরা যায়না এখনো! অন্যদিকে এখন এমন কোন সাবজেক্ট নাই যেখানে মেয়েরা যাচ্ছেনা, বরং অনেকগুলোতে তারাই ডমিনেট করছে!

মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে, ভালো করছে সেটা সমস্যা না কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমাদের ছেলেদের হলোটা কি!?

নানাবিধ তাড়না, যাতনা ও দায়িত্বের যাতাকলে পড়ে এরা ঠিক কুলিয়ে উঠতে পারছে না কি!? আমার মনে হয় এই বিষয় নিয়ে সিরিয়াসলি ভাববার সময় এসেছে।

মেয়েরা যতই বলুক তাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছেই, আমাদের দেশে এখনো চিকিৎসক হিসেবে মেয়েদের সবজায়গাতে সুবিধাটা পরিপূর্ণ হয়নি। উপরুন্ত কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব সীমাবদ্ধতাও আছে, বিশেষ করে সংসার প্রতিপালন ও সন্তান লালনের দায়িত্বটুকু এখনো প্রায় পুরোটাই তাদের। তারা  রাত্রিকালীন ডিউটিতে অনেকক্ষেত্রেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, দূর্গম এলাকায় চাকুরি সম্ভব হয়না, মাতৃত্বকালীন ছুটিও প্রায় অর্ধবছর।

এসব প্রতিবন্ধকতার বাইরেও আরো হাজারো সমস্যার কারণে এই বিপুল সংখ্যক নারী চিকিৎসকের জন্য শেষপর্যন্ত গ্রাজুয়েশন হয়ে যায় "অর্নামেন্টাল"; বিয়ের বাজারে একটি অনন্য যোগ্যতা মাত্র! অনেকেই পোস্ট-গ্রাজুয়েশন শেষ করেও ঠিক যে মাপের বিস্তৃত সেবা কমিউনিটিতে দেয়ার কথা সেটা দিতে পারছেন না।

এই এতসব সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবতার কথা কোন মেয়েকে নারীকে ছোট করবার জন্য নয় বরং তাদেরকে আরো বাস্তবসম্মত চিন্তা করবার জন্য, যারা পলিসিমেকার আছেন তাদের আরো ভাববার জন্য। সর্বপরি আমাদের ছেলে বা পুরুষদের আরো একটু সচেতন হবার জন্য, শেষে নিজের জায়গাটাতেও যেন একটা "অগ্রহণযোগ্য" আসাম্য চলে না আসে!

Sunday, May 28, 2017

কে গরীব?

কে গরীব!
যে সিএনজি চালিয়ে ২০০/- মিনিমাম ভাড়া নেয় সে?
যে রিক্সাওয়ালা বৃষ্টি হলেই ২০-৫০/- বেশী ভাড়া নেয় সে?
যে ফলে রঙ/কার্বাইড দেয় সে?
১ টাকা কেজি কিনে ৩৫/- কেজি সবজি বিক্রি করে সে?
যে ৫ মিনিটে ফোন মেরামত করে ২০০০/- নেয় সে?
ন্যুনতম বাস ভাড়া ২০/- নেয় যে সে?
আমি তো গরীব দেখি শুধু সেই মানুষটাকে যে জীবনের অর্ধেকের বেশী সময় নিজের মেধা দিয়ে ভূল করে "শুধু এমবিবিএস ডাক্তার" হয়ে বসে আছে!

মেডিকেল শিক্ষা: উত্তরণের পথ কোথায়

গঠনমূলক সমালোচনা সবসময়ই উন্নতির প্রধান শর্ত। এখানে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে তা অনেকটাই সঠিক তাই বলে সমাধানের রাস্তা "বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বন্ধ" অবশ্যই নয়।  এখানে বলা হয়েছে সবগুলো মেডিকেল কলেজ শিক্ষার মান এক নয়, এটি কিন্তু সঠিক। এক হবার কথাও নয়। কিন্তু একটি সুনির্দিষ্ট ন্যূনতম মান থাকতে হবে। কেউ কেউ সেই মানের চাইতে ওপরে থাকলে অন্যরা মানহীন হয়ে যায়না।

যেমন দেশের স্কুল বা কলেজের ক্ষেত্রে প্রথম সারির কিছু নামই ঘুরেফিরে সবার মাথায় আসবে কিন্তু তাই বলে কি বাকিগুলো একেবারেই মানহীন? সেখানে শিক্ষার্থীরা কিছুই পড়েন না? সেগুলো বন্ধ করে দিতে হবে?

ঠিক একই ব্যাপার চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও। ইতোমধ্যেই কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। স্বাস্থ্য অঅধিদপ্তরের উদ্যোগে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মূল্যায়ন এর জন্য একটি কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত। এটি করা গেলে আমাদের শিক্ষার মান আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে। আমরা অনলাইন বা দূরপাঠ শুরু করা হচ্ছে ফলে দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা একটি মানসম্মত পাঠ পাবে যার মধ্যে শিক্ষার্থীদের মতামতা ও প্রশ্ন করার সুযোগ থাকছে ফলে "প্রশ্ন ও উত্তর" ও অনুসন্ধিৎসার মাধ্যমে চমৎকার একটি শিক্ষার পরিবেশ তৈরীর সুযোগ হয়েছে।

আর সব বাদ দিয়ে যদি ধরেই নিই কাল থেকে ৭৫% বেসরকারি মেডিকেল বন্ধ! তবে বিভিন্ন সেশনের যে হাজাত হাজার শিক্ষার্থী আছে তাদের কি হবে? তাদের শিক্ষার অধিকার বন্ধ করার সুযোগ কি কারো আছে?

বাংলাদেশ ছোট দেশ হলেও এর বিপুল জনসংখ্যার চিকিৎসা সেবার জন্য ডাক্তারেরও প্রয়োজন, ফলে মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে সমাধান খোজার সুযোগ নেই বরং আমাদের জন্য আশীর্বাদ যে আমরা অবকাঠামো ও অন্যান্য অনেকক্ষেত্রেই এগিয়ে আছি, এগুলোর সঠিক ব্যাবস্থাপনাই আমাদের চিকিৎসা শিক্ষাকে নতুন পথ দেখাবে।

আমরাই বাংলাদেশ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মৃত্যু ও চিকিৎসা

খুব হতাশার সাথে খেয়াল করলাম যে বিশ্ববিদ্যালয়কে একসময় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হত, যেখান থেকে আমাদের ভাষা আন্দোলনের সূচনা, দেশের ক্রান্তিকালে যেখান থেকে প্রথমে বলিষ্ট কন্ঠ শোনা গেছে সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার সেই জায়গা থেকে অনেকদূর সরে এসেছে।

পৃথীবির সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০০ নামের তালিকা করলেও সেখানে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডকে খুজে পাওয়া যাবেনা।

নিকট অতীতে দেশের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও এই ছাত্রসমাজকে জেগে উঠতে দেখা যায়নি, দেশের শিল্প-সংস্কৃতি থেকে রাজনৈতিক চেতনার বীজপত্র বলে যে বিদ্যাপীঠকে সকলে জানত তারা এখন যে কোন ইস্যুতে ভাংচুর করে বেড়ায়, গত এক বছরের ঘটনাক্রম দেখকে দেখা যাবে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে তারা নারকীয় তান্ডব চালিয়েছে বারংবার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্রের ফেসবুক পোষ্ট দেখার সৌভাগ্য হল বলেই এগুলো লিখছি। সেখানে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা চূড়ান্ত অশোভন এবং অবশ্যই তারা যদি নিজেদের "সভ্য" দাবী করে তবে এ ভাষা তার পরিপন্থী! (কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত দিতে চাইছিনা বলেই কোন স্ক্রীনশট দিচ্ছিনা!)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এখানে যে ভূমিকা।নিয়েছেন তা তাকে অবিবেচক ও চূড়ান্ত হাস্যকর ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।

আমরা কোথায় যেন পচে গেছি, গন্ধটা মাঝে মাঝে নাকে খুব লাগে। একটা সামগ্রিক অধ:পতন হয়ে গেছে কোথাও। আগে সেখানে হাত দিন। এখন প্রানপণে নিজেদের সম্মান সবটুকু হারানোর চেষ্টা করছেন, হারানো সম্মান ফিরে পেতে একটুও নয়!

ডাক্তার সমাজ আজ ক্ষুব্ধ! তাদের পরম শ্রদ্ধার জায়গাটায় একটা চূড়ান্ত অসম্মান হয়ে গেছে কিন্তু খেয়াল করেছেন, যিনি মারা গেলেন তার প্রতি কতটা সম্মান দিয়ে কথা বলছে এ ডাক্তারেরা! এর সিকিভাগও যদি আপনারা আপনাদের স্বজন-বান্ধবদের বা নিজেদের দিতেন!?

আমরা আরো "ভালোতর" বাংলাদেশ পেতাম, কারণ আমি-আপনি-আমরাই কিন্তু বাংলাদেশ!

Monday, January 19, 2015

অসম্মানজনক পরিচয় "ডাক্তার"!!?

কি আশর্য ঘটনা!

আমি এম বি বি এস পাশ করে ডাক্তার আর এক লোক এস এস সি পাশ করে তিন বছরের কোর্সেই নাকি "ডাক্তার"! লোকের আবার তাদের উপর অনেক "ভক্তি"; তারা একাই সকল বিষয়ে পারদর্শী; মহিলা-পুরুষ থেকে শিশু - গাইনি;  মেডিসিন থেকে সার্জারি (Ortho - ই নাকি তাদের সবচেয়ে বেশী "অর্থ" আনে! সুজোগ থাকলে Burrhole / Open heart Surgery এগুলোও করিয়ে ফেলত!)

আসলে ওরা কি পারেনা তারা শুধু সেই লিষ্টিটা করার চেষ্টা করি;
“নাথিং” ইস ইন দিস লিস্ট!
এমন কিছু নাই যাহা তাহারা পারেন না!

সত্যি বলতে কি প্রথমে আমি অন্যদের বলতামঃ "আহা! এখন নাহয় আমরা (৩৩ তম বিসিএস এর প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ডাক্তার! একসাথে এত যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষকে পুরো দেশে ছড়িয়ে দেয়াটা একটা বিশাল ব্যপার!) আছি কিন্তু যখন আমরা ছিলাম না তখন একটা বিশাল জনগোষ্ঠীকে ওরাই চিকিৎসা দিয়েছে; সেইটা হেলাফেলা করার ব্যাপার না!"

কিন্তু---
ঠিক এখন, আমি তাহারা কি করেন; কেমন করিয়া চিকিৎসা দেন; দেখিয়া আল্লাহ পাকের কাছে শুকর আদায় করি। খোদা তুমিই ছিলে আর আছ!  নইলে ডায়াবেটিক রোগিকে স্টেরয়েড; মা মচকানিতে সেফট্রায়াক্সন; খালি হাতে ময়লা ব্লেড দিয়ে স্কাল্প এর ফোড়া কাটা; লোকাল দিয়ে নিজেদের চেম্বারের টেবিলেই ফাইব্রোএডেনোমা! (ওমা!!) করা; কম্পাউন্ড ফ্রাকচারে প্লাশটার করা (সাথে আবার “জাব” নামের এক ব্যপার চালু আছে); কথায় কথায় এ্যাবরশন - ক্লিয়ার করা ”(এর প্রকৃত চিত্র যে কত ভায়াবহ তা নিজে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন); দেড় মাসের বাচ্চারে ক্লিয়ার লাংসে সেফেপাইম.... (আর কত বলব! এইগুলা আমার একদিনের অভিজ্ঞতা মাত্র!..এমন না জানি কত আছে!?..)

এখন আর আগেই "মনে হওয়া"তে নাই আমি। এখন মনে হয় এই অপ-চিকিৎসা দেয়ার চেয়ে না দেয়া হাজারগুন উত্তম! "প্রাইমারী রিলিফ" দেয়ার নামে তারা যা করে তা কল্পনাও করা যায়না; মেনেও নেয়া যায়না! তাদের এই রোগী দেখার আসীম আগ্রহ ও ধৈর্য্যের কারণ যদি কেউ তাদের ভাষ্যানু্যায়ী "কি করব! মানুষ আসে, তাদের তো আর ফিরায়ে দিতে পারিনা, গরীব মানুষ" এই বাক্যে আপ্লুত হন তাহলে আপনি একটি "মহাভুল" করেছেন! আমি বয়সে আমাদের অনেকের হাটুর সমান এক মহামান্য SACMO  (এরা “সাব এসিস্টেন্ট কমিউনিটি” কথাটা “এসএসি” হিসেবে লেখে আর “মেডিকেল অফিসার” কথাটা বড় করে লেখে!) বলতে শুনেছি
"প্রথম প্রথম আমি গেঞ্জী (টি-শার্ট) পরে ডিউটি করতাম, পরে বুঝছি কত্ত বড় ভুল করতাম, পরে আর কোনদিন ডিউটিতে গেঞ্জী পরিনাই!"
কেন!?
তিনি গেঞ্জী আর কোনদিন পরেননাই কারন......
লোকে টাক গুজে-দিবেটা কোথায়!!?

তারা ২৪ ঘন্টার "ইমার্জেন্সি" কে "২৪ ঘন্টার আউটডোর" বানায়ে ফেলেছে! পুরো চিকিৎসা ব্যাবস্থাটাকেই বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে সমানে কাগজ গুঁজছে আর ডাক্তারদের তাদের "অপচিকিকিৎসা"র ফলে সৃষ্ট সমস্যার দায়ভার বইছে ডাক্তার, তথা সরকার তথা পুরো ব্যাবস্থা!!! কখনও কি শুনেছেন "স্যাকমো'র ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির/নবজাতকের/অমুকের মৃত্যু"? শোনেননি। কিন্তু প্রকৃত চিত্র কিন্তু তাই! এই প্রসঙ্গে আমি বলি আমার এলাকায় এক "কোয়াক" (না "স্যাকমো" পদে তিনি নাই) "গোয়ালঘরে টন্সিলেক্টমি করিয়াছেন" (ইহা তাহার সারাজীবনের একটি তুচ্ছঘটনা মাত্র)!!
আর কি বলিব!!?
আমি কোথায়? বাংলাদেশ, গোপালগঞ্জ, এইখানেই এই অবস্থা যা আসলে দেশের একটা 'আসল চিত্র' প্রকাশ করে!


আমার নিজের এখন "ডাক্তার " পরিচয়টাকে মাঝে মাঝেই অসম্মানজনক মনে হয়; লোকে ওই ব্যাটাদের বলে ডাক্তার (তাদের আবার এলাকায় দাপটের কারণে লোকের উচ্চারণ থাকে "ডক্টর"; নামের পরে "স্যার"!!!) আর আমি আমার ইথিক্স - মোরালিটি নিয়ে 'সরকারের কলম-ঘষা কেরানীমাত্র'!