Showing posts with label শিক্ষা. Show all posts
Showing posts with label শিক্ষা. Show all posts

Friday, December 14, 2018

১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১

পুরো ৯ মাস প্রায় তিরিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করার পর তারা পরাজয় নিশ্চিত জেনে স্বাধীনতার মাত্র দুইদিন আগে থেকেই শুরু করে ঠান্ডা মাথায় জাতিকে পঙ্গু করে দেবার পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। এ দেশের সবচে মেধাবী, সবচে পরিশীলিত মানুষগুলোকে সুনির্দিষ্ট তালিকা করে হত্যা! এদেশের আলোবাতাস-নদী-জলেই বেড়ে ওঠা কিছু পাকিস্তানের দোসর আলবদর, মাত্র একদিনে দেশটাকে পিছিয়ে দিল "অগণিত সময়ের জন্য"! অগণিত সময় বলছি কারণ ব্যাপারটা "বাটারফ্লাই এফেক্টে"র মত; যেখানে সামান্য প্রজাপতির ডানার বাতাসে কালের আবর্তনে বনভূমির সৃষ্টি হয় সেখানে অসামান্য সেই সোনার মানুষগুলো বেঁচে থাকলে আমাদের দেশটা আরো কতই না সুন্দর হত!

হয়ত সেই সোনার মানুষগুলো থাকলে সদ্য স্বাধীন হওয়া একটা দেশের দায়িত্বটুকু নিতে পারতেন, এখন সংখ্যাটা (হাজার) আপাত কম মনে হলেও আসলে ওরাই ছিলেন পুরো বাংলাদেশ! পুরো দেশে শহিদুল্লাহ কায়সার, জ্যোতির্ময় গুঠাকুরতা, সেলিনা হোসেন, আবদুল আলীম চৌধুরী, মুনির চৌধুরী, আলতাফ মাহমুদ কয়জন ছিলেন!? ধ্বংসস্তূপ থেকে একটা দেশকে তুলে আনতে যাদের প্রয়োজন ছিল সবচে বেশী সেই মানুষগুলো স্বাধীন দেশে নেই! তারা নেই মানে তাদের সমগ্র জীবনের সাধনা দিয়ে যে জ্ঞান, যে প্রজ্ঞা তারা অর্জন করেছিলেন তার কিছুই আর স্বাধীন দেশটা পেলনা! এ যে কত বড় হাহাকার! কত অসীম না পাওয়া!!

আমার কেন যেন মনে হয়, এই যে কত ঝড় সইতে হল এগুলো পেছনেও ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ দায়ী!!!

এই যে আমরা স্বাধীনতাটা পেলাম, কিন্তু আমাদের নিজেদের সঠিক মুক্তি আসল না। আমাদের দেশের সবচে সুন্দর চিন্তা করার মানুষগুলোকে হত্যা করা হল আর যারা হত্যা করল তারা দেশের মাটিতে বেঁচে রইল, শুধু বেঁচেই রইল না; দেশের সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা পেতে লাগলো! এক সময় দেশেকে শাসন করতে লাগলো! আমরা ঠিক রুচিবোধ তৈরি করতে পারলাম না, আমাদের শিল্প সাহিত্য কোথায় যেন আটকে গেল, আমাদের নিজেদের মাঝে নানা দ্বন্দ্ব তৈরি করা হল, আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ দেখলাম; নিজেদের অনন্তকালের জন্য কলঙ্কিত করলাম, ৭৫ পরবর্তী আমাদের দেশটা কত সম্ভবনা থেকে বঞ্চিত হল, দেশের শিশুরা তার দেশের ভুল ইতিহাস জেনে বড় হতে লাগলো, যে শিক্ষা তাদের পাবার কথা ছিল সেই চমৎকার শিক্ষাটা তারা পেলনা, আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানের পতাকা দেখলাম, একটা প্রজন্ম দেশের প্রতি ভালোবাসার বদলে এক ধরনের তাচ্ছিল্য নিয়ে বেড়ে উঠল... এই এতগুলো ব্যাপারের একটা বড় নিয়ামক হচ্ছে ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১! (অন্তত আমার তাই মনে হয়)

আমরা আজও একটা যুদ্ধ করে যাচ্ছি! এত বছর পরেও আজ সেই ঘাতকেরা দেশকে শাসন করতে চায়! স্বাধীনতা আমাদের আসল কোথায়!?

কী আস্পর্ধা!

আর আমরা আজও সেই প্রতিবাদ দেখিনা, আজও বুদ্ধিজীবীর নামে বুদ্ধিবেশ্বাদের কদর্য কথা আমাদের শুনতে হয়!

আফসোস! খুব আফসোস!!

বাংলাদেশ এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই দেশ সামনে চলবে কার হাত ধরে, দেশটিতে কি আদৌ মুক্তিযুদ্ধ বা দেশপ্রেমের চর্চা স্থায়ী হবে কিনা এসব প্রশ্নের খুব পরিস্কার জবাব দরকার। বাংলাদেশ আর পিছিয়ে যেতে চায়না, বাংলদেশ সোনার বাংলা হতে চায়। দেশের মানুষগুলোকে সেই সুন্দরতম রুচি, শিক্ষা ও জীবনবোধ অর্জনের জন্য আরো একটু সময় দরকার, এই পরিবেশ আরো একটু প্রলম্বিত হওয়া দরকার। তবেই সামনে আমরা পাব পরিচ্ছন্ন, সুন্দরতম এক অদম্য বাংলাদেশ!

জয় বাংলা!

Sunday, May 28, 2017

মেডিকেল শিক্ষা: উত্তরণের পথ কোথায়

গঠনমূলক সমালোচনা সবসময়ই উন্নতির প্রধান শর্ত। এখানে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে তা অনেকটাই সঠিক তাই বলে সমাধানের রাস্তা "বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বন্ধ" অবশ্যই নয়।  এখানে বলা হয়েছে সবগুলো মেডিকেল কলেজ শিক্ষার মান এক নয়, এটি কিন্তু সঠিক। এক হবার কথাও নয়। কিন্তু একটি সুনির্দিষ্ট ন্যূনতম মান থাকতে হবে। কেউ কেউ সেই মানের চাইতে ওপরে থাকলে অন্যরা মানহীন হয়ে যায়না।

যেমন দেশের স্কুল বা কলেজের ক্ষেত্রে প্রথম সারির কিছু নামই ঘুরেফিরে সবার মাথায় আসবে কিন্তু তাই বলে কি বাকিগুলো একেবারেই মানহীন? সেখানে শিক্ষার্থীরা কিছুই পড়েন না? সেগুলো বন্ধ করে দিতে হবে?

ঠিক একই ব্যাপার চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও। ইতোমধ্যেই কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। স্বাস্থ্য অঅধিদপ্তরের উদ্যোগে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মূল্যায়ন এর জন্য একটি কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত। এটি করা গেলে আমাদের শিক্ষার মান আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে। আমরা অনলাইন বা দূরপাঠ শুরু করা হচ্ছে ফলে দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা একটি মানসম্মত পাঠ পাবে যার মধ্যে শিক্ষার্থীদের মতামতা ও প্রশ্ন করার সুযোগ থাকছে ফলে "প্রশ্ন ও উত্তর" ও অনুসন্ধিৎসার মাধ্যমে চমৎকার একটি শিক্ষার পরিবেশ তৈরীর সুযোগ হয়েছে।

আর সব বাদ দিয়ে যদি ধরেই নিই কাল থেকে ৭৫% বেসরকারি মেডিকেল বন্ধ! তবে বিভিন্ন সেশনের যে হাজাত হাজার শিক্ষার্থী আছে তাদের কি হবে? তাদের শিক্ষার অধিকার বন্ধ করার সুযোগ কি কারো আছে?

বাংলাদেশ ছোট দেশ হলেও এর বিপুল জনসংখ্যার চিকিৎসা সেবার জন্য ডাক্তারেরও প্রয়োজন, ফলে মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে সমাধান খোজার সুযোগ নেই বরং আমাদের জন্য আশীর্বাদ যে আমরা অবকাঠামো ও অন্যান্য অনেকক্ষেত্রেই এগিয়ে আছি, এগুলোর সঠিক ব্যাবস্থাপনাই আমাদের চিকিৎসা শিক্ষাকে নতুন পথ দেখাবে।

Friday, February 3, 2017

বাংলা প্রশ্নপত্রের আবশ্যিক ব্যাবচ্ছেদঃ বাংলা

এবারে মাধ্যমিক পরীক্ষাটি শুরু হয়েছে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র দিয়ে।  পরীক্ষার ঠিক পরপরই অন্যসব বিষয়কে ছাপিয়ে উঠে এসেছে প্রশ্নপতত্রের ভাষা।

সর্বাধিক সমালোচিত হয়েছে ২ নং প্রশ্নটি।  যেটি শুরু হয়েছে এভাবে “জাহেদ সাহেব একজন লোভী ডাক্তার। অভাব ও দারিদ্র বিমোচন করতে গিয়ে তিনি সবসময় অর্থের পেছনে ছুটতেন। এক সময় গাড়ি-বাড়ি, ধন-সম্পদ সবকিছুর মালিক হন। তবুও তার চাওয়া পাওয়ার শেষ নেই। অর্থ উপার্জনই তার একমাত্র নেশা। .......”

এখানে সাদামাটা দৃষ্টিতে একজন অভাবী ডাক্তারের দারিদ্রের পেছনে ছুটতে ছুটতে অর্থলোভী হয়ে ওঠার দৃশ্যপট আঁকা হলেও সেটি কি আমাদের সমাজের সহজাত দৃশ্য? আমাদের সমাজে একজন রিক্সাওয়ালা উদয়াস্ত পরিশ্রম করে অর্থ উপার্যন করেন, একজন ট্রাফিক পুলিশ চাঁদা নেন এই দৃশ্যগুলো যত পরিচিত “অর্থলোভী ডাক্তার” কি এতটা সহজাত?

আমি জানি ঠিক আগের লাইনটি পড়ার পরই অনেক পাঠকের মনে “ট্রাফিক পুলিশ”দের জন্য একটি সহানুভূতির জায়গায় আঘাত লেগেছে। রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে সামান্য বেতনে সারাদিন যারা শব্দ-ধূলোর মাঝে কাজ করেন তাদেরকে এভাবে না বললেই কি নয়!?

ঠিক তাই!

আমাদের সমাজে সব পেশাতেই “মানবিক মূল্যবোধের” অবক্ষয় ঘটেছে। সেটা আপনি পুলিশ, ডাক্তার, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, ব্যাবসায়ী থেকে শুরু করে মৌলানা পর্যন্ত বিস্তৃত। খোদ শিক্ষকের মাঝেও কি “অসাধু”র সংখ্যা কম? তাই বলে আপনি যখন একটি পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নে এমন করে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে “দুর্নামঃ করে ফেলেন তাতে যে চিকিৎসক সমাজ মারাত্মক আহত হবেন সেটাই তো স্বাভাবিক। 

যেমনঃ যদি প্রশ্নের লাইনগুলো হত এমনঃ “ জাহেদ সাহেব একজন ঘুষখোর পুলিশ” বা “জাহেদ সাহেব একজন দূর্নীতিপরায়ণ রাজনীতিবিদ” বা “জাহেদ সাহেব একজন লম্পট শিক্ষক”। এ সবগুলো বাক্যই কিন্তু প্রতিটি পেশার মানুষের জন্য চরম অবমাননাকর যা কোনভাবেই “মাধ্যমিকের” প্রশ্নপত্রের ভাষা হতে পারেনা।

২ নং প্রশ্নটা নিয়েই প্রশ্ন
 বেশী উঠেছে কিন্তু সমস্যা আরো আছে...

যেমন ধরুণ; ১ নং প্রশ্নটির ক্ষেত্রে।
প্রশ্নটি এমনঃ “কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে এসেছে মাইনুল। এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত।  এখানে আদিবসীরা সামুদ্রিক বিভিন্ন জিনিসের পসরা নিয়ে বসেছে। দোকানীরা বেশিরভাগই যুবতী। তারা দোকান পরিচালনা করছে। তাদের কলহাস্যে মুখরিত দোকানগুলো।  মাইনুল উপলদ্ধি করলো যে কাজের ক্ষেত্রে আদিবাসী নারী-পুরুষের মাঝে তেমন কোনো ভেদাভেদ নেই”।

পরীক্ষার্থীদের মাধ্যমিকের প্রথম পরীক্ষার প্রথম প্রশ্নটি সে হাতে পেয়েছে, যেখানে তাকে সমুদ্র সৈকতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে (ভালো কথা, পরীক্ষার প্রথমেই একটু রিলাক্সেশন) এরপর সেখানে চট করেই "যুবতী" দের নিয়ে আসা হয়েছে। খুব খেয়াল করে দেখতে হবে! শব্দটি তরুণী বা মহিলা বা স্ত্রীলোক নয়, "যুবতী"!
আসুন এই বিশেষ শব্দটির বাংলা ভাষায় ব্যাবহার দেখি।

বাংলা ভাষায় কিন্তু "সমার্থক শব্দ" বলে একটা বিষয় আছে,
 যেমন: কন্যা শব্দের সমার্থক শব্দ হতে পারে মেয়ে, নন্দিনী, কুমারী, ঝি, বেটি, দুহিতা, ভাযা, দুলালী, আত্মজা, নন্দিনী, পুত্রী, সূতা, তনয়া ইত্যাদি
তো আমরা যদি কাউকে নিজের মেয়েকে পরিচয় করিয়ে বলি? “ আমার মেয়ে” বা “আমার ভাযা” বা “আমার ঝি”, সবগুলোর অর্থ কি এক দাঁড়ায়? দাঁড়ায় না।

আবার এভাবে তরুণী শব্দটিরও প্রতিশব্দ হতে পারে ললনা, রমণী, মহিলা, স্ত্রী, মেয়ে, কামিনী, মহিলা, স্ত্রীলোক, অঙ্গনা, ভাসিনী, কান্তা, সীমন্তনী, অওরত, অঙ্গনা, কলত্র, জানি, জায়া, জেনানা, বধূ, বামা, ভার্যা ইত্যাদি
তবে খেয়াল করে দেখুন এখানে “যুবতী” কিন্তু নেই। যুবতী শব্দটি আসলে ঠিক তরুনীর সমার্থক নয়। যুবতী শব্দটি “যৌবন” এর সাথে 
যতটা জড়িত ততটা কিন্তু অন্য শব্দগুলো নয়। আমরা কিছু কিছু শব্দ ব্যাবহার করতে করতে তার একটা আলাদা মানে তৈরী হয়েছে। আমরা “তরুণী” বললে যা বুঝি “মহিলা” বললে কিন্তু ঠিক সেটা বুঝিনা, আবার “কামিনী” বা “স্ত্রীলোক” এগুলোরও কিন্তু আলাদা করে মানে দাঁড়ায়।  

বাংলা সাহিত্যেও শব্দগুলোর আলাদা আলাদা ব্যবহার আছে। তাই মাধ্যমিকের প্রশ্নে কোনভাবেই শব্দটি “যুবতী” হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়, সেটা 
তরুণীও হতে পারতো।  আদিবাসীরা তো আর সমুদ্র সৈকতে “যৌবনের” পসরা নিয়ে বসেনি, বসেছে সামুদ্রিক জিনিস নিয়ে!
“তাদের কলহাস্যে মখুরিত” বাক্যটিও “যুবতী” শব্দটি ব্যাবহারের পর ঠিক অতটা নিষ্কলুষ থাকেনা, যদি “তরুণীরা কলহাস্য” করে আর “যুবতীরা কলহাস্য” করে তার মানে কি এক দাঁড়ায়।  আমরা নাহয় ধরেই নিলাম সৈকতের দোকানীরা খুব “হাসিখুশি” থাকে!

আবার ২ নং প্রশ্নের দৃশ্যপটের পর ৪ নং প্রশ্নের “রহিম চৌধুরী কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েও সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত। কিছুদিন পূর্বে তাঁর বড় মেয়ের বিয়েতে এলাকার সকলকে দাওয়াত দেন। তিনি ধনী-গরীবের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। তাঁর এ আচরণে এলাকার দরিদ্র জনগণ খুবই সন্তষ্ট”।

এখানে আসলেই খুবই সুন্দর কথা বলা হয়েছে। রহিম সাহেবকে বারবার “তাঁর” (চন্দ্রবিন্দু সহ তার) বলে সম্বোধন করা হয়েছে, তাকে সম্মান দেয়ার ব্যাপারে প্রশ্নকর্তা কোন কার্পণ্য করেননি।  কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের “মালিক” রহিম সাহেবেরা যদিও সচরাচর “সাধারণ” জীবনযাপন করেন না বা “এলাকার সকলকে দাওয়াত দেয়া” সাধারণ জীবনযাপনের সাথে ঠিক যায় কিনা প্রশ্ন থেকে যায় (যেহেতু পত্র পত্রিকায় ৮০ মণ গরু আর ২০ মণ খাশি খাওয়ানোর খবরগুলো তো আর আমরা ইতিবাচকভাবে নিইনা) তথাপি এই দৃশ্যপট প্রশংসনীয়। এটি থেকে হয়ত শিক্ষার্থীরা কিছু অনুপ্রেরণা পাবে, ধনী হলেও তারা গরীবদের কথা ভউলে যাবেনা।

কিছুদিন আগেও প্রাইমারীর পাঠ্যপুস্তক নিয়ে যে কেলেংকারী দেশবাসী দেখেছে এবং এই প্রশ্নপত্র দেখার পর আমাদের শিক্ষাব্যাবস্থা ও এর সাথে জড়িতদের নিয়ে আরো যৌক্তিক ও গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে।  আমাদের শিশুদের আমরা কি শেখাচ্ছি? আমাদের কিশোরদের আমরা কি ধারণা দিতে চাইছি? সৃজনশীল প্রশ্নপত্র নিয়ে আমাদের যে অসীম আশা ছিল সেটির পেছনে কোন অশুভ তৎপরতা চলছে নাতো!?

একটি দেশেকে এগিয়ে যেতে হলে সে দেশের শিশুদের সঠিক শিক্ষাটা যেমন দিতে হয়, সে দেশের কিশোর ও তরুণদের তেমনি সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে হয়।  একটি নির্দিষ্ট পেশা বা গোষ্ঠী বা শ্রেণীকে হেয় করে জাতি হিসেবে বড় হওয়া যায়না এই শিক্ষাটাও ধারণ করতে হয়।
আমাদের শিক্ষামন্ত্রী আমাদের জন্য অনেক করবার চেষ্টা করেছেন, তিনি অত্যন্ত কর্মঠ ও বিজ্ঞজন। আমরা চাই তিনি এই বিষয়গুলোকে আরো গুরুত্ব দিন। সমস্যাকে প্রথমে “সমস্যা” বলে স্বীকার করুণ নইলে আমাদের সমানের দিনগুলো নিয়ে আমাদের স্বপ্নগুলো বড় ফিকে হয়ে আসে।