Showing posts with label মা. Show all posts
Showing posts with label মা. Show all posts

Wednesday, July 1, 2020

বাবা, সাম্মি আর ল্যাপটপ

আমার কন্যা আমাকে ল্যাপটপের সামনে এতটাই বসে থাকতে দেখে যে আরও দেড় বছর আগে যখন তাকে শিখাচ্ছি, বলত মা নামের নাম কি? মাম কি করে? বাবার নাম কি? বাবা কি করে?
সব যায়যায় ঠিকঠাক থাকলেও বাবা কি করে?
তার বাবা নাকি লাত্যপ চালায়!
মাম দকতের, হসপিটালে যায় আর বাবা ল্যাত্বপ চালায়! 😥

কোয়েকদিন আগে হঠাৎ করে সে বলছে:
আচ্ছা বাবা! আমার ল্যাপটপে মুভি হিয়না কেন?
(আগের দিন তাকে নিয়ে "ভূতের মুভি" দেখেছি! বুলবুল!)

তবে আমি তাকে আশ্বস্ত করেছি, বাবার ল্যাপটপ বেশি ভালো না, বড়; দুষ্টু কারেন্ট লাগে, ওজন - নিয়ে খেলতে কষ্ট হয়! 

আমার মেয়ে বলেছে তার ল্যাপটপ বাবারটার চাইতে ভালো; পিংক কালারের, অনেকগুলো বাটন, ওয়ান টু বলে, এবিসি বলে, গানও গায়, আবার অনেকগুলো ছবিও আছে! শুধু বাবার ল্যাপটপের মত "মুভি" হয়না!

তবে বাবা যেন কান্নাকাটি না করে! সে বড় হলে বাবাকে তার মত একটা ভালো ল্যাপটপ কিনে দেবে! 

০১/০৭/২০২০

Sunday, November 3, 2019

সাম্মির প্রথম জি এ

আজ আমার মেয়েটা আবার থুতনি কেটে ফেলেছে!
তাকে জেনারেল এনেসথেসিয়া দিয়ে সেলাই দেয়া য়েছে।

সে জ্ঞান ফেরার পর ক্যানূলা সাইটে ব্যান্ডেজ দেখে বলছে:

- আমার তো হতে ব্যাথা পাইনি, তাহলে হতে ব্যান্ডেজ কেন!?
- তাইতো!? 
- তাহলে তোমরা মানা করনি কেন!?

03/11/2019

Tuesday, February 13, 2018

বসন্ত এলো এলো... এলোরে...

বসন্ত এলো এলো... এলোরে...

সাম্মি বলছে মাম
বসন্ত কে, কোথায় এলো?

মাম বলছে,
মা তুমি কি কি কালার দেখছো?
সেতা আগে বলো!

হুম! আমি দেখছি..
রেড, অরেঞ্জ আর লেলো!

গুড!
এভাবেই রঙিন রঙে
বসন্ত এলো!

১৩.০২.২০১৮

Wednesday, September 6, 2017

চিন্তা করি!

মেয়েকে তাঁর নানী জিজ্ঞেস করেছেঃ কী করছ নানুভাই?
মেয়ের উত্তরঃ চিন্তা করি! 

(তখন সে রুমের মাঝে কোমরে হাত একটা দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল!) 
০৪/০৯/২০১৭ 

Monday, August 28, 2017

মেয়ের কাছ থেকে শিখি

আমার মেয়ে কিছু নিতে বা করতে খুব জেদ করলে আমি বলি, "বাবা তোমাকে শিখাই"
এরপর তাকে সেটা ধরতে দিই, সে আর জেদ করেনা। তো এইবার মেয়েই আমাকে শিখালো!
আমি উ'টুবে (মেয়েকে এইটা দেখিয়ে খাওয়াতে হচ্ছে 😖 বলে চিনে ফেলেছে) শুধু Arrow Key আর F এর ইউস জানতাম। মেয়ে কয়েকদিন আগে আমাকে "J, K, L" কী এর ইউস শিখাইছে, তার চেয়ে বড় কথা 1 to 0  numerical key এর যে চমৎকার একটা ইউস আছে সেইটা আমি জানতামই না মেয়ে না শিখাইলে! (Key গুলা ট্রাই করেই দেখে নিন, যদি না জানেন!)
সে মাউসের লাল আলোর জন্য সবসময় মাউস চায়, আজ কাজ করতে পারছিলাম না তাই ইউএসবি খুলে দিয়েছিলাম। সে আমার কাছে সাহায্যও চায়নাই, নিজে নিজে মাউসের ইউএসবি কানেক্ট করে নিয়েছে! 😎

Thursday, August 24, 2017

সাম্মী কি করেছে এটা!?

আমার মেয়ে তার এই ছোট্ট পুতুলের ধ্বংসাবশেষ দেখিয়ে বলছে:
"আমি কি করেছি এতা!?"
"সিলাই কয়ে দাও!"
(এগুলোর হাত পা জামা কাপড় সব সেইই আলাদা করে ফেলেছে! তাও অনেকদিন আগেই!)
২৪.০৮.২০১৭

রোজনামচা - ২৩.০৮.২০১৭

আসলে তারিখটা ২৪ হওয়া দরকার ছিল। বাসায় ফিরতে দিন পার হয়ে গেল!

টিটু স্যারের কাছে মায়ের রিপোর্টগুলো দেখাইতে গেছিলাম, প্রায় ০১.৩০ ঘন্টা অপেক্ষা করে দেখাতে পারলাম। যেতে বেশী বেগ পেতে হয়নাই কিন্তু জ্যাম ছিল। আসার সময় ভেবেছি বাস পেলে রাস্তা তো ফাকা। কিন্তু পথে নেমে দেখি পল্টন মোড়ে বিশাল জ্যাম। সব ট্রাক আর কিছু লরি বের হয়ে গেছে রাস্তায়, এই রাতেও ট্রাফিক একজন দাঁড়িয়ে। বাস থেকে নেমে গেছি প্রেসক্লাব মোড়েই। হেটে সামনে এসে দেখি অবস্থা এই। কোন চ্যানেল থেকেই বাস আসছে না, সব ঘুরে যাচ্ছে নয়ত জ্যামে আটকে আছে!

তাই অগত্যা একটা রিক্সা নিলাম, রিক্সা যখন দৈনিক বাংলা থেকে ডানে বংগভবনের দিকে মোড় নিলো তখন রাস্তার দুপাশে অনেকেই রাতের ঘুমের আয়োজন করছে, কিছু ছেলেপেলে কোন নেশার আয়োজনে আছে, একটা কোনে দেখলাম পলিথিন খাটিয়ে উঠতি বয়সী এক মেয়ে কোন এক আয়োজন করছে যেখানে মশার কয়েলের এন্তেজাম আছে! মেয়েটা তার অর্থনৈতিক অবস্থার তুলনায় স্থূলকায়, হয়ত ওসিপির এফেক্ট!

হায় জীবন!

এ ডৃশ শেষ না হতেই সামনে আগোতেই দেখি এক মা তার দুধের শিশুকে নিয়ে একেবারে রাস্তায় বসে গেছে, তার সাথে কয়েকজন ফুটপাথ থেকে পা ঝুলিয়েছে রাস্তায়, যেন বাড়ির উঠানে তারা ভরা আকাশের নীচে গল্পের আসর বসেছে! বাচ্চাটা খেতে খেতে ঘুমিয়েই গেছে, শিথিল ধুলোমাখা পা দুটো মায়ের কোল থেকে ঝুলে আছে, মা একহাতেই আলস্যে ধরে আছে শিশুকে। বাবা কে বোঝা গেলনা যারা ছিলো সবাই আরো অল্পবয়েসী। হয়ত মা ফুটপাতেই জীবিকার সন্ধান মেলে!
ইস! কী কঠিন দৃশ্য!

নিজের বাচ্চা আছে বলে এগুলো খুব বেশী লাগে! একেবারে বুকের ভেতর মুচড়ে ওঠে! এদের জন্য কিছু করা দরকার। বড় হয়ে গেলে, বুঝতে শিখলে একটা কিছু হোক, কিন্তু এই শিশুদের কেন এমন হবে!?

আমার মেয়েটার মত ওদেরকেও বড় ভালোবাসতে ইচ্ছা করে, একটু মমতার ছোঁয়া দিতে ইচ্ছে করে। এটুকু ওদের পাওনা!

২৩.০৮.২০১৭

Thursday, August 10, 2017

সাম্মীকে রোদে দেই

দুপুরবেলা..
জানালা দিয়ে রোদ এসে পড়েছে বিছানায়। সেই রোদে বিছানার একটা বালিশ দেয়া আছে, ঘামে ভেজা বালিশগুলো তাতে একটু তরতাজা হয়।

আমার মেয়ে তার উপর গিয়ে বসে পড়েছে, বেশ কড়া রোদ তার গায়েও লাগছে। এ দেখে তারা মা যখন তাকে বললো:
- মা! কি করো!? রোদে কেন বসেছ? এদিকে আসো মা!
সে উদাস নয়নে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে, দু হাত কোলে ভাজ করা। উত্তর নাই।
আবার মায়ের প্রশ্ন:
-সাম্মী! কি করো!?
এবার সাম্মীর উত্তর:
-সাম্মীকে রোদে দিই!

(কিছু বলার আছে!? নাই। 😰)

০৬.০৮.২০১৭

Saturday, July 22, 2017

মেয়ের খাওয়া

আজ সকালে বাইরে যাই যাই করেও গেলাম না। শনিবারের ছুটিটা পড়ার কাজে লাগানো গেলনা। বিকালে আবার শিলাপুর প্রোগ্রামে যেতে হবে।

মেয়েটা ৯ টার পরেই উঠে গেছে। উঠেই সে আর কারো কাছে যাবেনা! বাবা আছে তার সাথে আর কার কাছে যাবে!? অনেক বলে কয়ে হাতমুখ ধুয়ে নিয়েছি!

তাকে নিয়েই খেতে বসলাম টেবিলে। ভাবচি আমি যা খাই ওকেই একটু করে দিব। সে তখন টেবিলে রাখা রুটি, ডিম দেখে "ওটা কি"? শুরু করেছে। এরপর বললো "খাবে"।
ভাবলাম এমনিতেই যেমন বলে তেমন করেই এই "খাবে" বলা। তাকে একটু ছিড়ে দিলাম রুটি, ডিম সিদ্ধ একটু ভেঙে দিলাম। সে খেলো, এরপর নিজেই ছোট হাতে রুটি টেনে একটু একটু করে টুকরো মুখে দিচ্ছে!
নানী তাকে আরো একটু ডিম দিল, সে খাচ্ছে। ডিমের টুকরো বড় হয়ে গেলে ফেলে দিলে ভাবলাম খাবেনা। কিন্তু সে আবারো চেয়েই নিল। এইবার নানী তাকে একটা রুটি আর কিছুটা ডিম আলাদা প্লেটে দিল। সে চমৎকার করে ছিড়ে ছিড়ে একটু করে রুটি খেতে তাকলো। আবার আমাকে বলে "মজা!"

কী যে ভালো লাগলো! মেয়েটা একটু একটু করে নিজেই খাচ্ছে। দেখেই ভালো লাগে, আবার পড়ে গেলে যদি বলি "ওটা খেতে হয়না মা, দাও ফেলে দেই"! সে নিজেই বলে "আমি ফেলে দেই"! বলে নিজেই উঠে গিয়ে বোন প্লেটে ফেলে দেয়!

বেশ শান্ত হয়ে খেয়েছে আজ! আহা এমন করে যদি একটু খেতো!

২২/০৭/২০১৭

Friday, June 30, 2017

গানের আবেগ, মেয়ের আবেগ

আজ মেয়েকে পেটের উপর বসিয়ে শুয়ে শুয়ে গান শোনাচ্ছিলাম।

সাদি মোহাম্মদের সেই দারুণ গানটা:
একবার গাল ভরা মা ডাকে,
মা বলে ডাক, মা বলে ডাক,
মা বলে ডাক মা'কে!
একবার গাল ভরা মা ডাকে!!

পুরোটা গেয়ে ফেলেছি, সে চুপচাপ শুনছে। সাধারণত সে কোন গান শুরু করলেই এতা না, এতা না... বলে পোজাপতি, পোজাপতি (এইটা আপাতত তার জাতীয় সংগীত! কোথাও কোন গান শুনলেই সে পোজাপতিতে চলে যায়!) শুরু করে দেয়।

তো সে পুরোটা শুনছে কিছু বলছেনা দেখে আমি আবারো গাইছি। এবার সে মুখ ফুলিয়ে চোখ ছল ছল করে ফেলেছে...
ও কথা বলোনা..
ও কথা বলোনা... বলেই সে কেঁদে দিয়েছে।

আমি তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছি। মা কত্ত হচ্ছে মা!? কেন কত্ত হচ্ছে মা!?

সে তখন তার মা'কে ডাকছে "মা! মা বলে দাক!"

তার মা টয়লেট থেকে বের হবার পরই "মা! মা! বলে কোলে গিয়ে ভ্যা করে কেঁদে দিয়েছে!"

এইটুকু ছোট মেয়ে এত আবেগ কোথায় পায়!

সে আগে "ও তোতা পাখি..." শুনলেও কেঁদে দিত। এই গান তার সামনে গাওয়া যাবেনা।
আয় খুকু আয় শুনলেও তার কোন এক বাবা আর খুকুর জন্য তার খুব মায়া হয়, চোখ ছলছল হয়, সে কান্না আটকে রাখতে পারেনা...

ও কথা বোলোনা...
ও কথা বোলোনা....

৩০/০৬/২০১৭