Showing posts with label বুক রিভিউ. Show all posts
Showing posts with label বুক রিভিউ. Show all posts

Sunday, December 15, 2019

বুক রিভিউ: নির্বাসন - হুমায়ূন আহমেদ

এই বইটা হুমায়ূন আহমেদ তার প্রিয়তমা স্ত্রী গুলতেকিনের জন্যে লিখেছিলেন এবং তাকে উৎসর্গ করেছিলেন। যদিও উৎসর্গ পত্রখানির দেখা পেলাম না!

বইটিতে জরী নামের একটি মেয়ে এবং তার চাচাতো ভাই আনিসের একটি "এ লস্ট গেম" এর বর্ণনা আছে।

অসম্ভব মায়াময় করে লেখা একটা বই। কেন যেন আমার এখন হ্ন হ্ন করে কান্না পাচ্ছে! কেন যে পাচ্ছে আমি তা নিজেও জানিনা। হয়তো আমার নিজের মেয়ের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে এই নাইট ডিউটি করতে এসে!

এখানে কিছু অমীমাংসিত গল্প আছে যেগুলো পাঠককে নিজের মত করে সাজিয়ে নিতে হয়। আবার হুমায়ূনের অন্যান্য বইয়ের মত ছোট ছোট চরিত্রের সংখ্যাও অনেক, তাদের নিয়ে খুব বেশি কাজও করা হয়নি। তাই অনেকটুকুই অজানা থেকে যায়। অনেক বইয়ের মত এই বইটাও শেষ হয়েছে একটা বিষাদ দিয়ে। এমন গল্পের সমাপ্তি হুমায়ূনের অনেক গল্পেই আছে। খুব পরিচিত মনে হয়। কোথাও এমন পড়েছি পড়েছি মনে হয়।

কিছু চরিত্র আছে বড় চাচা; জিনি বিসমিল্লাহ্‌  খানের সানাই শোনেন; চান তার ছোট ভাতিজির বিয়েতে সকাল থেকেই সানাই বাজুক। জরীর বিয়ে; দুই বোন জরী পরীর মাঝে জরী ছোট। যদিও জরী ভালোবাসতো আনিসকে। কিন্তু যুদ্ধের পর গুলি লেগে আনিস বিছানাবন্দী হয়ে গেলে সেই হিসেব মেলে না। জরীর বিয়ে ঠিক হয় কলেজের শিক্ষকের সাথে! (এখানে এই নাম না দেয়া চরিত্র চিত্রন করতে গিয়ে হুমায়ুন আহমেদ নিজেকে বসিয়েছিলেন বলে পড়তে গিয়ে মনে হল!) যদিও  বড় চাচা জরী আনিসের কথা জানতে পেরে এই বিয়ে একবার ভেঙে  দিয়েছিলেন কিন্তু আবারো নিয়তি জরীকে এই পাত্রের সাথেই বেধে দেয়। যদিও এসবের কারণ কিছু খোলসা করে দেননি লেখক।

শেষদিকে কেনই বা জরীর মা আনিসের মাকে চিনতে চান না। "আতর বৌ" কেন এ বাড়ি ছেড়ে অন্যের হাত ধরে চলে গিয়েছিল সেসবের পরিষ্কার মীমাংসা হয়না। পাঠকের অবারিত সুযোগ আছে নিজের মত করে ভেবে নেবার।

পুরো গল্পজুড়ে একটা হাহাকার ধরে রাখার চেষ্টা ছিল। কেন জরীর ছোটবেলার "সবচেয়ে সুন্দরী' এবং বেতারে গানকরা বান্ধবী কনক উদাস হয়ে যায় তার সৌন্দর্যের প্রশংসায় তা পাঠককে ভাবায়। আনিসের হাহাকার বেদনা পাঠককে ভাবায়। জরীর চলে যাওয়া এমনকি পুরো বাড়িটার এখনা বৃদ্ধ দশার মাঝেও হাহাকার তৈরির চেষ্টা আছে।

০৪/০৯/২০১৯

Friday, October 11, 2019

বুক রিভিউ - হিমুর একান্ত সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য: হুমায়ুন আহমেদ

এটি হিমু বিষয়ক কোন বই না। পড়তে গিয়ে পাঠক প্রথমেই প্রতারিত হবার সম্ভবনা আছে। মূলত "হিমু" ইমেজকে আশ্রয় করে সংকলিত ও নামাঙ্কিত একটি বই। বইটি এমনভাবে প্রকাশিত যেন মেলায় বিক্রি বেশি হয়। মূলত তখন হিমু বিষয়ক একটি বই সব প্রকাশকই চাইতেন, তাদের আবদার মানতে গিয়েই এমন বইয়ের প্রকাশ। হিমু সম্পর্কে লেখকের যে বাড়াবাড়ি প্রশ্রয় ছিল এটি তার একটি উদাহরণ মাত্র, লেখক সেটি কখনো অস্বীকারও করেননি।

এই বইয়ের বাড়তি পাওনা বলতে প্রতিটি গল্পের বা লেখার আগে লেখকের কিছু কথা; কিভাবে লেখাটি লেখা হল, লেখা সম্পর্কে লেখকের ব্যক্তিগত পছন্দ - অপছন্দ বা মতামত। এটুকু বিশ্বাস করে নিলে লেখকের ও তার লেখা সম্পর্কে একটা ধারণা করা যায়।

মোট দশটি গল্প আছে বইটাতে। এর মাঝে "পাপ" বিষয়ক গল্প তিনটি বেশ ভালো। এছাড়া "গন্ধ" গল্পটি ভালো। "জনৈক আব্দুল মাজেদ" এবং শিরোনামের "হিমুর একান্ত সাক্ষাৎকার" এই বইয়ের সবচে দুর্বল অংশ ("গল্প" বলা যাচ্ছেনা এগুলোকে যদিও এগুলো বিভিন্ন পত্রিকা ও প্রকাশনায় গল্প হিসেবে ছাপা হয়েছিল)

গল্পগুলোকে যদি আলাদা করে ব্যবচ্ছেদ করি তবে:

নসিমন বিবি -
ফরিদপুরের নসিপুর বিবির স্বপ্নে পাওয়া "উপহার" বিষয়ক একটি "আধোভৌক্তিক" লেখা। এটাকে হুমায়ূন আহমেদের সাইন্স ফিকশন বললেও ভুল হয়না। সুখপাঠ্য লেখা।

পাপ -
এই গল্পটি হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ১৯৭১ এর অংশবিশেষ। এইও "চিন্তা উদ্রেককারী" লেখা!

পাপ-২
হাজি মান্না মিয়া -
ভালো। ছোট গল্প হিসেবে চমৎকার।

পাপ-৩
সালাম সাহেবের পাপ -
মিসির আলীর একটি গল্প পুরো গল্পটা বেশ ইন্টারেস্টিং। বিশেষ করে শেষটা।

দৌলত শাহ'র অদ্ভুত কাহিনী -
এটিকে হুমায়ূন আহমেদের সাইন্স ফিকশন গল্পের মাঝে ফেলা যায়। গাঁথুনিতে চমৎকার একটি গল্প।

শাহ্ মকবুল -
পাগল বিষয়ক গল্প। হুমায়ূন আহমেদের ফেলে যেসব লেখা শাওন থেকে কেনা ট্রাংকের মধ্যে জামাত সেই লেখার একটি পূর্ণাঙ্গরূপ এটি। ভালো তবে কোথায় যেন একটু আটকে যায়, খটকা লাগে পড়তে গিয়ে। একবার পড়ে ধরতে পারিনাই।

পিশাচ -
এটিকে চমৎকার গল্প বলা যায়। একজন মানুষ পিশাচ সাধনা করে যায় অন্তরে ধারণ করে এক সমুদ্র প্রেম আর মায়া।

গন্ধ -
চমৎকার একটি গল্প। গল্পের মাঝে একটা চমৎকার মোড় আছে যেটি দারুণ।

জনৈক আব্দুল মজিদ -
এটাও একটি ফরমায়েশি লেখা। বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে একটি ডকুমেন্টারি কাজ করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল সেটা নিয়ে লেখা। এইডস সম্পর্কে সামাজিক বিজ্ঞান বইতে যদি একটা লেখা থাকত সেখানে যেরকম লেখা থাকবে এটি ঠিক সেরকম একটি লেখা। এই লেখা নাকি পাঠ্য বইতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল! সম্ভবত সামাজিক বিজ্ঞান পাঠ্যবই- এ; বাংলা পাঠ্য বই- এ সাহিত্য হিসেবে না।

হিমুর একান্ত সাক্ষাৎকার -
একেবারেই ফরমায়েশি লেখা। লেখা নেবার জন্যে কেউ অপেক্ষা করছে। তাকে বসিয়ে রেখে একটা লেখা উৎপাদন করে দেবার প্রয়াসেই এই লেখা। যদিও এমন অবস্থাতেও হুমায়ূন আহমেদ অনেক ভালো লেখা লিখেছেন কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেটি হয়নি। হিমুর সাথে জড়িত সব চরিত্রের সাথে একটি কাল্পনিক কথোপকথন।

১১/১০/২০১৯

Tuesday, September 10, 2019

বুক রিভিউ: নি - হুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ূন আহমেদের সায়েন্স ফিকশন গুলোর মাঝে অন্যতম একটি বই। হুমায়ূনের সায়েন্স ফিকশন মনে হচ্ছে সায়েন্সের সাথে মানবীয় আবেগের একটা দারুণ মিশেল। সেখানে সায়েন্স বোঝানোর তেমন তাড়া থাকেনা বরং আবেগীয় ব্যাপারগুলো যে সায়েন্সের উর্ধে তেমন একটি বার্তা থাকে।

এই গল্পটিও তেমন।

এখানে মুবিনুর রহমান (এই নামটি কিন্তু এন্য গল্পের মত না! মানে আনিস না!) একজন স্কুল শিক্ষক। তাকে ভালোবাসে তার ছাত্রী; অসম্ভব রূপবতী, ইন্দ্রানীর মত দেখতে "রূপা"। এখানে রুপাকে সাধারণ গ্রামের মেয়ে হয়েও অসাধারণ বুদ্ধিদীপ্ত কথা বলতে দেখা যায়, যদিও সে পড়াশোনা নিয়ে খুব বেশী সচেতন না কিন্তু তার চিন্তা খুব পরিষ্কার। একটি গ্রামের মেয়ের সৌন্দর্য অনেক হতেই পারে কিন্তু চিন্তা ও কথা এত সাবলীল হবে এটা বোধকরি স্বাভাবিক না! লেখকও তাই বেশ কয়েকবার অন্য চরিত্রের বয়ানে বারবার বলিয়ে ব্যাপারটা পাঠকের জন্যে গ্রহণযোগ্য করেছেন।

মুবিনুর রহমানের এখানে বিজ্ঞান ও গণিতের শিক্ষক, খুব সিরিয়াস ধরনের শিক্ষক যিনি নিউটন নামের আগে স্যার না বললে শাস্তি দেন, যদিও শাস্তিটুকু সামান্যই। তিনকূলে কেউ না থাকায় তিনি নীলগঞ্জ হাই স্কুলের চাকরি পেয়ে সেখানেই থিতু হন। তার দিক কাটে ঘড়ি ধরে। থাকেন নির্জনে একটা নদীর পাড়ের ভাঙ্গা বাড়িতে, নিজেই রান্না করে খান, নিয়ম করে রুপাকে পড়ান। নেশা হচ্ছে চিন্তা করা আর তার দূরবীন দিয়ে আকাশ দেখা। তার কাছের মানুষ বলতে স্কুলের ইসলাম শিক্ষক জালালুদ্দিন এবং দপ্তরি কালিপদ। দুজনেই মুবিনকে অসম্ভব পছন্দ করেন। এভাবেই চলছিল মুবিনের আর রুপার জীবন।

গল্পের মাঝে হঠাৎই রুপার বড় ভাই রফিক তার স্ত্রী এবং দুই কন্যাকে নিয়ে হাজির হন নীলগঞ্জে প্রায় তিন বছর পর। (তবে কেন তিনি এতদিন নীলগঞ্জ আসেননি ব্যাপারটি কিন্তু পরিষ্কার না!) রফিকের ইচ্ছা তার পরিচিত ছেলে তানভীরের সাথে রুপার বিয়ে দেওয়া। সেভাবেই সব এগোতে থাকে। রফিকের ছোট মেয়ের রুবাবা স্বাভাবিক হলেও বড় মেয়ে জেবা একটু "অস্বাভাবিক"! এই অস্বাভাবিকতা থেকেই গল্প নতুন দিকে মোড় নেয়।

নীলগঞ্জ হাই স্কুলের হেডমাস্টার হাফিজুল কবির তাকে ১০০ বস্তা গমের হিসাবে ফাঁসিয়ে দেন, রুপার বাবা এলাকার সবচে প্রভাবশালী ব্যক্তি আফজাল সাহেবও তার মেয়ের ভালোলাগার কথা জানতে পেরে মুবিনুরকে জেলে পুরে দেন। কিন্তু তখনই "নি"রা তাকে সাহায্য করে। জেবা একজন নি, জালালুদ্দিন সাহেব, কলিপদ সবাই নি! তবে জেবাই এখানে বেশ শক্তিশালী নি!

"নি" রা হচ্ছে প্রকৃতির সন্তান। তারা মানুষের মতই কিন্তু বিশেষ ক্ষমতা থাকে তাদের, তারা চাইলে অন্যদের প্রভাবিত করতে পারে। নিজেদের আলাদা মাত্রার জগতে তারা নিজেদের মত যা কিছু সৃষ্টি করতে পারে। প্রকৃতির সন্তান বলে প্রকৃতি তাদের নিজেই রক্ষা করে। কিন্তু প্রকৃতির নিয়মের ব্যাতিক্রম কিছু হতে পারেনা। তাই যে জরাজীর্ন ঘরকে নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করে এসেছে প্রকৃতি নিজেই সেই ঘরও প্রবল স্রোতের তোড়ে ভেঙে নিয়ে যায় যখন মুবিনুর রহমান প্রকৃতির নিয়ন ভাঙ্গে।

সবচে শক্তিশালী নি হবার পরেও সাধারণ মানুষ রুপার প্রতি প্রবল ভালোবাসা অনুভব করায় সে রুপাকে নতুন করে তৈরির চেষ্টা করে! কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম ভাঙ্গা যায়না। চাইলেই আলোর গতির চাইতে বেশি গতিতে যাওয়া যায়না। কারণ...

এটিই প্রকৃতির নিয়ম!

০৯/০৯/২০১৯

Wednesday, August 14, 2019

বই পর্যালোচনা: মামলার সাক্ষী ময়না পাখি - শাহাদুজ্জামান

শাহাদুজ্জামানের সাম্প্রতিকতম বই বোধকরি এটিই। তার প্রথম যে বইটি আমি পড়ি সেটি হচ্ছে সবচে আলোচিত "ক্রাচের কর্নেল"। বইটি পড়তে গিয়ে প্রথমেই যে বিষয়টি মনে হয়েছিল সেটি হচ্ছে তার উপমার ব্যাবহার, একটি আলাদা, উদাস করা, অন্য ধরণের বাক্য ছুড়ে দেয়া। এমন বাক্য খুব বেশি হয়না কিন্তু যে কয়টি হয় সেগুলো পাঠককে ভাবায়।

ক্রাচের কর্নেলের সাথে একটি তুলনা করতে চাইছি এই কারণে যে সেই বইটি যতটা সুখপাঠ্য ছিল এই বইটি ততটা নয়। সেই বইটি পড়েই যেমন মনে হয়েছিলো "এই লেখকের সবগুলো বই পড়ে ফেলতে হবে"! কিন্তু এই বইটি পড়ে তার "কয়েকটি বিহ্বল গল্প" এর মতই লাগছে। ঠিক সুখপাঠ্য নয়, সবশ্রেণীর পাঠক এটি পড়বেন না। অবশ্য এই বইয়ের প্রথম গল্পের মত হয়তো আমি "নকল পাঠক", যে কিনা পরিচিত রাস্তা খোঁজে, অপরিচিত রাস্তা বাঁক খুব একটা দেখতে চায়না!

তবে এই যে প্রথম গল্পটি (জনৈক স্তন্যপায়ী প্রাণী, যিনি গল্প লেখেন") যেমন করে লেখা "কয়েকটি বিহ্বল গল্প" এর প্রথম গল্পও যতদূর মনে পড়ে এমন বিষয়েই লেখা: লেখকের গল্প বুননের যুদ্ধ। (লেখক নিজে প্রতিনিয়ত নতুন করে নতুন গল্প বুননের ক্লান্তিকর চেষ্টা করে চলেছেন বলেই মনে হয়!)

এখানে প্রথমটিসহ মোট ১১ টি গল্প রয়েছে। এখানে আরও একটি পর্যালোচনায় আসা যায় যেমন: লেখক বিশ্লেষণধর্মী লেখায় যতটা পারদর্শী ততটা ঠিক "সহজ ভাষায় গল্প বলা"য় নয়। যেটিকে আমার সবচে দুর্লভ মনে হয়। তার ক্রাচের কর্নেল ও একজন কমলালেবু যতটা পড়তে ভালো লেগেছে অন্যগুলো তেমন নয়। তার প্রথমদিককার বই "একজন নৃবিজ্ঞানী ও কয়েকটি হাড়" বইটিও টেনে নিয়ে যাওয়া পাঠক হিসেবে আমার জন্য কষ্টের ছিল; যদিও আমি নিজেই চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্র!

তবে, লেখকের অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সুন্দর এবং "ভাবনা উদ্রেককারী" যুতসই একটি নামকরণ! এইখানে তিনি শতভাগ সফল। এই বইয়ের ক্ষেত্রেও সেটি সত্যি। একটি গল্পের নিতান্তই সাদামাটা ঘটনা থেকে উঠে এসেছে এই নাম "মামলার সাক্ষী ময়না পাখি"! তবে, চিত্তাকর্ষক! ( বইয়ের চাইতে বইয়ের লেখকের আলোচনা হয়ে উঠেছে বেশী! যদিও লেখক কে আমরা চিনি তার সৃষ্টির মাধ্যমেই। তো retrograde study করা যেতেই পারে!)

যদিও প্রতিটি গল্প স্বতন্ত্র ও সুন্দর তবে আগেই বলেছি গল্পগুলোর পাঠক শ্রেণী নির্দিষ্ট। সকল পাঠক এটি সমানভাবে নেবেন না। কিছুটা বিদেশি লেখকের গল্পের মত মনে হচ্ছিল; যেখানে ঘটনার আবহ দিয়ে ঘটনা বোঝানোর চাইতে সরাসরি গভীর বর্ণনা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা আছে।

আমার নিজের বেশি পছন্দ হয়েছে "টুকরো রোদের মত খাম" গল্পটি। বেশ চিত্তাকর্ষক।

এছাড়া বাকিগুলোকে যদি এক লাইনে বলি:
- মৃত্যু সম্পর্কে আমার ধারণা খুব পরিষ্কার : চমৎকার, নিজের অভিজ্ঞতার সাথে মিলে যায়
- চিন্তাশীল প্রবীণ বানর : নামটা! গল্প সাদামাটা (এছাড়া একটা ভুল মনে হয় আছে! এই গল্পে যে সময়ের কথা বলা হয়েছে তখন সবাই রেডিও শোনে, টিভি আসেনি এমন একটা সময়। তখন এই দেশে "ওয়েষ্টার্ন ইউনিয়ন" ছিল কি?)
- পৃথিবীতে হয়ত বৃহস্পতিবার : বেশ আধুনিক সময়ের যাতনার গল্প।
- উবার : কেন গল্পের নাম উবার? শেষ দৃশ্যের মানে কি? (আমি হয়ত বুঝিনি)
- অপসৃয়মান তির : তির বানানটি শিখলাম। ভালো সাধারণ গল্প।
- ওয়ান ওয়ে টিকেট : ভালো গল্প, কিছু নিজস্ব সুন্দর ভাবনার কথা আছে।
- লবঙ্গের বঙ্গ ফেলে : চিরায়ত গল্প, বৈচিত্রের কিছু নেই।
- মামলার সাক্ষী ময়না পাখি: এই গল্পটিও জানা গল্পের মতই লেগেছে যদিও ময়না পাখির রূপক অর্থ গল্পকে আলাদা অর্থ দিয়েছে।
- নাজুক মানুষের সংলাপ: গভীর, ভাবনার খোরাক আছে, বেশ গভীর বোধ থেকে লেখা কিন্তু বইয়ের শেষ গল্প হিসেব অন্য কিছু চাইতাম।

এইবেলা রাখি। ধন্যবাদ।

১৪/০৮/২০১৯

Wednesday, October 17, 2018

বুক রিভিউঃ যদ্যপি আমার গুরু - আহমেদ ছফা

বইয়ের শুরুতে যেভাবে দুলাইন লেখা:
"যদ্যপি আমার গুরু শুড়ি বাড়ি যায়,
তথাপি তাহার নাম নিত্যানন্দ রায়!"
তাতে মনে হয়েছিলো বুঝি বেশ রসের দেখা পাওয়া যাবে বইটিতে। কিন্তু অবস্থা মোটেই তা না, বেশ সিরিয়াস টাইপ লেখা যার বিষয়বস্তু প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক; লেখকের শিক্ষক, যাকে তিনি "গুরু" মেনেছেন।

যদিও সত্য কথন হচ্ছে আমি ওনার নামই এর আগে শুনিনাই!(অবশ্য আহমদ ছফাও তার সময়ে তার নিজের প্রয়োজনের আগে প্রফেসর রাজ্জাককে চিনতেন না!) তবে পুরো বই পড়ে কিন্তু আমার প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাকের প্রতি একটা আলাদা শ্রদ্ধা তৈরি  হয়েছে।

খুব ঋজু চরিত্রের অধিকারী, স্পষ্টভাষী, বিলাসহীন ও প্রচারবিমুখ, আজীবন অকৃতদার এবং সবাইকে উপেক্ষা করে নিজের মতে অবিচল থাকার মত দৃঢ় এই মানুষটির নেশা বলতে হুক্কা, আর সত্যিকারের নেশা হচ্ছে বই পড়া! ক্লাস নিতে তাকে খুব বেশি আগ্রহী মনে হয়নি কিন্তু পড়াশোনায় তার আগ্রহ অসীম। তার পান্ডিত্য সবাইকে চুম্বকের মত আকর্ষন করত। অনেকেই ঈর্ষা-কাতর হতেন তার জ্ঞানের জন্য। শুধু তার সময়ের না, যে কোন সময়ের জন্যেই হয়ত তিনি অনন্য বিদ্বান একজন মানুষ। এমনকি শেষদিকে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে জ্বরাগ্রস্ত হলেও তাকে দেখা গেছে ঝুঁকে বইয়ের পাতায় ডুবে যেতে।

লেখকের সাথে তার দেখা বা পরিচয় হয় মাষ্টার্সের আগেই পিএইচডি স্কলারশীপের থিসিসের সুপারভাইজার খোজার সুবাদে। বাংলা সাহিত্যের ওপর করা এই থিসিস যদিও শেষতক আলোর মুখ দেখেনি (কাকতালীয়ভাবে তার সুপারভাইজার প্রফেসর রাজ্জাকের থিসিসটিও কখনও আলোর মুখ দেখেনি!)। স্বাধীনতার আগে শুরু করা পিএইচডি ডিগ্রিটাও তার নেয়া হয়নি কিন্তু পরিচয়টা রয়ে গেছে, বাহাত্তর থেকে চুরাশি; তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ডালপালা মেলেছে; অবলীলায় ঢাকাইয়া বুলি আওড়ানো প্রফেসর রাজ্জার ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছেন আহমেদ ছফা'র গুরুতে। (আহমদ ছফার মত বিদগ্ধজনের গুরুর আসন নেয়া কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয়! যেখানে আধুনিক যুগের অনেক প্রতিথযশা লোকের কাছেই ছফা একজন আদর্শ!)

বইয়ের প্রথম যে কথায় আমার টনক "বড়সড় আকারে" নড়ে সেইটা হচ্ছে, প্রফেসর রাজ্জাকের মতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও জ্ঞান তৈরিতে উল্ল্যেখ্য তেমন অবদান নেই! প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাকিস্তান আন্দোলনের মনস্তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত তৈরী, ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এই তিনটি বড় অবদান ছাড়া আর বলবার মত কিছু নেই! যদিও এই তিনটিই পুরো জাতিকে পথ দেখিয়েছে তবুও জ্ঞানচর্চা ও বিকাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তেমন ভূমিকা রাখেনি। জ্ঞানতাপস ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ কোন গবেষণা করার চেষ্টা করেন নি; শুধু মিলাদ আর বিয়ে পড়ানোয় সময় পার করেছেন; ইংলন্ডের ডিক উইলসন, ফ্রান্সের ক্লদ লেভি লস-সহ দেশী অংকের রমজান আলী(যার বিশ্বখ্যাত গণিতবিদ হবার সকল সম্ভবনা ছিল); অনেক বিখ্যাত জ্ঞানীগুনীজন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যপনা করেছেন কিন্তু তারাও একে শিক্ষায় "আদর্শ" কর‍তে পারেন নি। "প্রাচ্যের অক্সফোর্ড" সর্ববেই একটি "অতিশয় রঞ্জিত" কথা! (ভাববার বিষয়!!)

কোন  একটা জায়গাকে চেনার উপায় হচ্ছে সেখানকার বাজার আর বইয়ের দোকানে যাওয়া! সেখানকার মানুষ কি খায় আর কি পড়ে তা দিয়েই তাদের যাচাই করা যায়। পুরোন ঢাকার মানুষ হিসেবে ছিলেন ভোজনরসিক(তবে তার লেখায় বাকরখানির কথা থাকলেও বিন্দুমাত্র কাচ্চির কথা নেই!) এবং যে দেশে যেতেন সেখানকার অন্তত একটা রান্না শিখে আসতেন।

প্রফেসর রাজ্জাকের শিল্পকলা বোধও খুব তীক্ষ্ণ! তিনি বলেন শিল্পাচার্য জয়নুলের মত স্পেসের ব্যবহার আর কোন শিল্পী এত নিখুঁতভাবে করতে পারেনি; দুজন পালকি বাহকের মাঝে যে সুন্দর দূরত্ব থাকার কথা সেটাও তার ছবিতে আছে! ছবিতে খালি যায়গা রাখাও যে একটা মুন্সিয়ানা সেটা জয়নুল দেখিয়েছেন। এসব থেকেই বোঝা যায় প্রফসর সাহেবের বোধের জায়গাটা কত গভীর। পরে আহমদ ছফার চেষ্টায় এস এম সুলতান প্রফেসর রাজ্জাকের নজরে আসেন পক্ষান্তরে দেশবাসী এস এম সুলতানকে আবিষ্কার করে। যদিও এখানে লেখকের ভূমিকার কথা লেখক সন্তর্পনে এড়িয়ে গেলেও সচেতন পাঠকমাত্রই বুঝবেন এই গুণী শিল্পী হয়ত সময়ের স্রোতে হারিয়ে যেতেন লেখকের চেষ্টাটুকু না থাকলে। গানের বেলাতেও তার নজরুল প্রীতি লক্ষ্য করবার মত। শিল্পী আব্দুল করিমকে তিনি অনন্য সুরের আধিকারী বলেছেন। সামান্য মৃৎশিল্পীর মাঝে তিনি ভাষ্করকে আবিষ্কার করেছিলেন।

তার অবসর কাটত একমাত্র দাবা খেলায়। বাংলাদেশের প্রথম গ্রান্ড মাষ্টার দাবাড়ু নিয়াজ মোর্শেদকেও প্রশিক্ষণ ও পারিবারিক সাহায্য দিয়েছেন এই প্রফেসর।

তার পরিচয়ের বলয়টাও ঈর্ষা করবার মত। নিজে পিএইচডি করতে গিয়েছিলেন প্রখ্যাত অর্থনিতিবিদ হ্যারল্ড লাস্কির তত্ত্বাবধানে! যার কাছে নিজের চারিত্রিক দৃঢ়তাকে বিকোতে হবে বলে পিএইচডি শেষ না করেই থিসিস পেপার নিয়ে লন্ডন থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। অবশ্য এই সূত্র ধরে কোন বিষয়ে জ্ঞানার্জনের একটা "সহজ সূত্র" পাওয়া যায়ঃ "যা কিছু সামনে আসে গোগ্রাসে পড়তে হবে, কিছুদূর যাবার পর আপনাতেই বোঝা যাবে কোনদিকে এগুতে হবে"।

এছাড়া চমকিত হই যখন স্বাধীনতা পরবর্তি সময়ে খুব স্বল্প সময়ের সফরে হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশ সফরে আসেন এবং বাংলাদেশ সরকার উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কিসিঞ্জারকে সাদরে অভ্যর্থনা জানানোর আয়োজন করে। সেখানে সুযোগ পান মলিন পোষাকের প্রফেসর রাজ্জাক যাকে কিসিঞ্জার নিজের স্ত্রীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন "সহকর্মী" হিসেবে! যদিও মাত্র দু-ঘন্টার সফরের আধ ঘন্টাই যখন রাজ্জাক সাহেব নিয়ে নেন তখন সরকারের একটু নড়ে চড়ে বসতে হয় বৈকি! এমনকি ডিক উইলসনের লেখা বই "এশিয়া আ্যওয়েকস" (যেটাকে গুনার মিরডালের নোবেল পাওয়া বই এশিয়ান ড্রামার সমকক্ষ ধরা হয়) বইয়ের উৎসর্গপত্রে লেখা "টু আব্দুর রাজ্জাক অব ঢাকা"!

ইতিহাস নিয়ে তার জ্ঞান কিছু কথাতেই স্পষ্ট হয়ঃ "আপনারা রামমোহনরে একেবারে আকাশে তুইলা ফেলাইছেন, রামমোহন বিলেতে যাবার সময় তাকে 'রাজা' টাইটেল দিলেন বাহাদুর শাহ যার নিজেরই কোন রাজত্ব আছিল না। কিন্তু রামমোহন সেইটা সারাজীবন আগলাইয়া রাখলেন!" যদিও বাংলা ভাষার গৌড়িয় ব্যকরণের কাজ করাকে রামমোহনের অনন্য কাজ হিসেবে বলেছেন তিনি। উর্দু, আরবি, ফারসি, সংস্কৃত অনেক ভাষাতেই কাজ করার সুযোগ থাকলেও বাংলাকে বেছে নেয়াই রামমোহন অনন্যতা। তবে তিনি নব্বইয়ের দশকের সত্যিকারের "বড় মানুষ" হিসেবে বলেছেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কথা।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তিনি বলেছেন "ইতিহাস ওনাকে স্টেটসম্যান হইবার সুযোগ দিছিল"! এখানে অবশ্য গভীর ভাবনার অবকাশ আছে, কারণ নানা কথায় পরবর্তীকালে তাকে জিন্নাহর সমর্থনে দেখা যায়। তার "পাকিস্তান" সমর্থনের পেছনে যে কারণ লেখক দেখিয়েছেন তা লেখকের নিজেরই মনঃপুত না হলেও সেখানে চিন্তার খোরাক মেলে, গভীর চিন্তার খোরাক!

এই জ্ঞানী মানুষটিকে নিয়ে খুশবন্ত সিংয়ের ইলাস্ট্রেটেড উইকলি অব ইন্ডিয়াতে প্রধান প্রবন্ধ ছাপা হয়েছিল। যিনি পরে দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডী-লিট পান।

ফজলুল হকের সাথে সাক্ষাতে একবার তিনি সরাসরিই বলেছিলেন "আপনি খুব সুন্দর বিশ্বাসযোগ্য মিছা কথা কইবার পারেন"! ফজলুল হকের ওপর গবেষনার কাজেই রাজ্জাক সাহেবের কাছে এসেছিলেন মিসেস কামাল হোসেন; হামিদা। বস্তুত প্রফেসর রাজ্জাকের বাসাতেই তাদের পরিচয় ও পরবর্তিতে বিবাহ, কারণ তিনি দুজনকেই বিশেষ স্নেহ করতেন।

এভাবেই নানা মানুষ তার সহচার্যে এসেছেন, নিজেদের স্বার্থে বা প্রয়োজনে। কাউকেই তিনি ফিরিয়ে দেননি। এমনকি তার বিরুদ্ধে বিষোদগার করে লেখা বইয়ের লেখকও যখন তার কাছে বিদেশী স্কলারশীপ পাবার জন্য রিকমেন্ডেশন চায়, তিনি অবলীলায় তা করে দেন। বইয়ের বিভিন্ন জায়গায় এভাবেই এক জ্ঞানী ও মহৎ চরিত্রের প্রফেসর রাজ্জাককে খুঁজে পাওয়া যায়। যদিও নোট রাখা বা টুকে রাখার অভ্যাস না থাকায় এই বইটি যে লেখকের নিজের মতামতের মিশ্রণ না- তা বলা যায়না তথাপি একজন অসম্ভব জ্ঞানী মানুষের দেখা মেলে। যিনি নিজে কিছু লিখে জাননি বলে হয়ত তার জ্ঞানটুকু বা পরিচয়টুকু আমরা খুব একটা পাই না। কিন্তু তিনি কেন তেমন কিছুই লেখেন নি তার একটা আহমদ ছফা ব্যাখ্যা বেশ আগ্রহউদ্দীপকঃ তিনি তার সমকালীন সকলের চাইতে এতটাই বেশী জ্ঞানী ছিলেন যে তার লেখা তখনকার লোকে ঠিক নিতেই পারত না, তার লেখার গভীরতা বুঝবার মত পাঠকশ্রেণীর অভাবেই মূলত তিনি লেখেন নি!!!

এই শেষ কথাটুকুই কিন্তু তাকে আরো রহস্যময় করে তোলে!

১৪/১০/২০১৮

Saturday, September 29, 2018

বুক রিভিউ - বৃষ্টির দিন - মইনুল আহসান সাবের

কে যেন বলেছিল 'বইটা কি আছে আপনার কাছে?" আমার কাছে ছিলনা, একটা যেনতেন পিডিএফ পাওয়া গেল, সেটাতেই নাকি চলবে।

ভাবলাম এত কষ্ট করে পিডিএফ পড়বে! কী এমন বই!? পড়েই দেখি।

পড়তে বসে প্রথমে একটু আগ্রহ হচ্ছিল; সত্যি কথা বলতে একটা বৃষ্টির দিনে বইটার বইয়ের নামের জন্যেই বইটা পড়তে শুরু করা। শুরুটা ভালো লেগেছে, আনুশকা, লোপামুদ্রা,সৌম্য এদের কথা ছিল, পরে অপি, লেখা, মিন্টু, মাফি, এদের কোথাও আসলো; ভাবছিলাম একটা প্রাণোচ্ছল তরুণ প্রজন্মের কথা পাওয়া যাবে এই ভেবে এগিয়ে গেলাম। বেশ বড়সড় বই! ছোট ছাপায় ১৮৮ পাতা।

তবে মাঝে গল্পটা বুঝে ফেলায় অত রোমাঞ্চ ছিলনা তবে শেষ করে খারাপ লাগেনি। যদিও এই বইটা ঠিক "এখনকার আমার" জন্য নয়, আরো একটু তরুণ সময়ে পড়লে হয়ত বড় হাহাকারের জন্য দায় পড়ত বইটায়!

সবকিছু ঠিকঠাক চলতে থাকা দুটি তরুণ তরুণীর মাঝে প্রেম আসা, তরুণটি হঠাৎ করে ঘটনাচক্রে রাজনীতির নোংরা খেলায় জড়িয়ে পড়ে। একদিকে যেমন সে সবকিছুর প্রতিবাদ করতে চায়, আবার পথটাও ঠিক মেনে নিতে পারেনা। চুড়ান্ত কোন এক পরিণতি মেনে নিতে হয়। মাঝে আসে ছোট ছোট অনেক চরিত্র।

পুরোটাকে শুধু প্রেমের উপন্যাস বললে ভুল হবে, প্রেমের উপাখ্যান ততটা নেই যতটা আছে তখনকার বা সমসময়কার এলাকা দখল, রাজনীতি ও মাস্তানির বাস্তবতার কথা। ক্ষয়ে যাওয়া সমাজের কথা।

আমি জানিনা এখনকার প্রেমের উপন্যাসে কি ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার বা স্কাইপ আসে কিনা! কিন্তু এই লেখা সেই সময়ের যখন এগুলো ছিলোনা! তবুও এইখানে মইনুল আহসান সাবেরের আগের লেখাগুলোর মত লাগেনি আমার। তিনি আরও ভালো লেখেন, যদিও "যুক্তি" থাকে বেশী সেসবে কিন্তু পাঠক "আবেগ" চায় বেশি!

অপেক্ষা আর আকুতি ভরা উপন্যাসে তাই শেষে অপিদের জন্য, আনুশকাদের জন্য মন কেমন করে।

২৪/০৮/২০১৮