Saturday, March 23, 2019

চতুর্ভুজ

এখন রাত বাজে প্রায় এক টা!
সাম্মী কিছুতেই ঘুমুচ্ছেনা। সে মশারির ভেতর চিত হয়ে শুয়ে আছে, কিছুক্ষণ কোন কথা নেই। হঠাৎ করে বলছে:
- মাম! খাট কি একটা বড় চতুর্ভুজ!?

২২/০৩/২০১৯

Wednesday, January 30, 2019

একটি "ভাল্লাগে - ঠেলায় - ঘোরতে" দেশ

কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুক জুড়ে খুব বেশী দেখতে পাচ্ছিলাম এই বাক্যটি। এমনকি কি প্রথম শ্রেণীর কিছু দৈনিক পত্রিকাতেও এই বিষয় নিয়ে খুব হাসি তামাশা করা হয়েছে। প্রথমে হালকা হাসি তামাশা থাকলেও পরে এটি একটি সামাজিক যোগাযগ মাধ্যমে "ট্রেন্ড" হয়ে যায় এবং সাধারণ ও অসাধারণ সকল মানুষই এটি লিখতে বলতে থাকেন...  "ভাল্লাগে - ঠেলায় - ঘোরতে"!

আমি দেখেছি আমার ফেসবুক পাতায় অসংখ্য প্রগতিশীল, মুক্ত ও সুন্দর চিন্তার মানুষও এই লাইন প্রচার করেছেন। আমি নিজে নানাবিধ প্রয়োজনে সামাজিক এই মাধ্যমের বাইরে যেতে পারিনি বা হয়ত তেমন দৃঢ়তা ও আমার নেই কিন্তু আমি এই "সামাজিকতা" ঠিক নিতে পারিনি! হয়তো আমি নিজেই প্রাচীন কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে এই লাইনগুলি ভাবে লেখা কখনই উচিত নয়। এটি বারবার লেখাও একধরণের প্রচার!

এর পেছনের অনেক গল্প থাকতে পারে, অনেকের স্বার্থ হাসিল হতে পারে, অনেকের নিছক আনন্দ থাকতে পারে কিন্তু সারা দেশের মানুষ যেভাবে ব্যাপারটি করেছে তাতে একটা জিনিস প্রমাণিত...
কি?
একটু বিশদভাবে বলি...

আপনি যদি বাংলাদেশের ইতিহাস দেখেন দেখবেন এই দেশে সেই প্রাচীন আমল থেকেই আরকান এসেছে, ব্রিটিশ এসেছে, মগ এসেছে,  এসেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এই মাটিতে এসেছে... ব্যবসা করেছে এবং  বংশ বৃদ্ধি করেছে। ১৬ শতকে যখন ভাস্কো-দা-গামা আমেরিকাকে আবিষ্কার করেন মাত্র, তখন এই বাংলার সাথে শ্রীলংকার বা সিংহলের মশলার বানিজ্য চলে! সেই অবস্থা থেকে আজ আমেরিকা "আমেরিকা" হয়েছে আর আমরা বাঙালি রয়ে গেছি। এখন যদি আপনি জিজ্ঞেস করেন "আচ্ছা এই ভূমিতে বিভিন্ন দেশ থেকে এত মানুষ কেন আসলো?"

তার একটা জুতসই জবাব হতে পারে ...
এই মনে করেন ""ভাল্লাগে - ঠেলায় - ঘোরতে"!

তো "ভাল্লাগে - ঠেলায় - ঘোরতে" এসে যে সংকর জাতি তৈরি হয়ে গেল তাদের কাছ থেকে আর কি অাসা করা যেতে পারে! যে জাতি প্রায় ২০০ বছর ইংরেজ এর গোলামী করেছে এবং মীরজাফরের "বীরত্বে" পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করেছে, পরবর্তীতে ছোট্ট বাংলাদেশ হয়ে আবারও নিজের দেশের জাতির পিতাকে নিজেরা হত্যা করেছে তাদের মন ও মানসিকতা আর কতই বা উচু হবে! শুধু কেমন করে যেন এক অবিসংবাদিত জাদুকরের জাদুতে বাঙালি একটি দেশ পেয়ে গেছিল ৭১ এ!

যারা অনেক অসীম সম্ভাবনার কথা বলেন, অসীম ক্ষমতার কথা বলেন, অসীম প্রাণশক্তির কথা বলেন তারা হয়তো নারাজ হবেন কিন্তু আমার কেন যেন বাঙালি হিসেবে নিজের দীনতায় চোখ পড়ে! (হয়তো আমি নিজে বাঙালি আমার অক্ষমতা আছে আমারও সীমাবদ্ধতা আছে!)

ঠিক যেভাবে এই বাক্যটি এই অসম্ভব "হালকা" বাক্যটি বাংলাদেশী মানুষের কাছে ট্রেন্ড হয়েছে ঠিক সেইভাবেই বাংলাদেশের মানুষ মেকি, হালকা এবং অন্তঃসারশূন্যতার দিকে ঝুঁকছে!

খুব সোজা ভাবে দেখলে বা বললে আমাদের দেশে এখন ভালো গান হচ্ছে না, ভালো চলচ্চিত্র হচ্ছে না, ভালো ছবি আঁকা হচ্ছে না! আমাদের অস্তিত্বের সংকট নেই তাই সংস্কৃতি আমাদের কোন দিক নির্দেশনা দিচ্ছে না! আমাদের সব ভালো কিছু আগলে রাখা যাচ্ছে না, আমরা মেকি, ধার করা, অন্তঃসারশূন্য, ভাড়ামি আর অর্থহীনতার দিকে এগুচ্ছি! আমরা লাগামছাড়া ঘোড়ার মত শুধু ছুটে যাচ্ছি! আমাদের বিত্ত এসেছে, পরনে কাপড় - মুখে ভাত এসেছে কিন্তু মননে রুচি আসে নি! আমরা আজও জানি না আমরা ঠিক রুচিশীল, উন্নত, সভ্য একটি জাতি আদৌ হতে পারব কিনা!

Tuesday, January 29, 2019

Juvenile secratory breast cancer

Today's journal presentation was an exceptional one! The vase was "juvenile secretary carcinoma breast"; which is really exceptional disease and rare one (only 1% of all breast carcinoma! If I not missed). A girl of 8 years was suffering from left sided breast lump and she underwent lumpectomy and simple mastectomy later on. Actually she underwent about five surgery form  2006 to 2016 with chemo and radiotherapy (?!). Multiple histopathology shows "juvenile secretary breast cancer" and recurrence rate was so high. Then somehow Bangladesh oncological society present this case on a seminar at USA and a USA based pharmaceutical company or physicians shows interest on treating this patient with a newer molecule. Actually they have been researching on this molecule and offered to treat this patient as a trial! As the patient was not that solvent and she dropped her last regular scheduled operation due to  financial issue. So as a last hope and good offer hey agreed and physician and oncologist from Bangladesh was so happy to be a part of this huge trial! Then they the company bear all the cost and carry the patient to Sloan kettering oncological hospital in USA and there she was treated with new molecule the name was then loxo 101 which is recently been approved by FDA!

She was the number 20 among all the cases collected from all over the world. when she reached Sloan kettering hospital in USA her lump was reappeared with bony and lung metastasis. Her tissue typing and receptor status was diagnosed and determined previously by the authority before she reaching there from previous tissue block. After reaching there without delay they started medication Loxo101. Taking this oral medication twice daily for only 60 days the lump regressed and metastasis to bone and lung was totally disappeared!

Regressed of lump and the visible changes was seen from the day of only 3! Oral treatment causes decrease the long size and the image was excellent. After 2 months there is no lump and no active nodule. After 2 month treatment the patient was sent back to Bangladesh.

But when after 6 month some nodule again reappear, Bangladeshi doctor and patient was little bit disappointed. After consulting with the USA physician and trial company they again manage to fly the patient to USA and they try another newer molecule (which is not approved and marketed yet!)) Loxo 195. Result is again amazing and was exceptional one!

She is now declared hundred percent disease free and the progression of this case is excellent. She is now on regular follow up.

29.01.2019

Tuesday, January 22, 2019

পরাবাস্তব জগৎ

আজ নিয়ে প্রায় টানা ৫ টা নাইট ডিউটি করলাম। জেনারেল সার্জারি আর প্লাস্টিক সার্জারীর নন এডমিশন - এডমিশান সব মিলিয়ে এই অবস্থা! নিজের রোস্টার ছিল সাথে অনুরোধে ঢেঁকি গিলতে গিয়ে এবং পুরনো ডিউটি নিজ থেকে ফেরত দিতে গিয়ে সংখ্যা বেড়ে গেল!

গতকাল রাতে এডমিশান ডিউটি করে বাসায় ঘুম ভালো হয়নি, একটু কাজ গোছানোর চেষ্টা করেছি। গত কয়েকদিনের নাইট ডিউটি করার কারণে একটা স্লীপ দেট (Sleep Debt) ছিল। তাই আজকে শরীরটা ছিল ক্লান্ত।

পর পর মঙ্গল আর রবিবার দুটো অ্যাডমিশন হওয়ায় এবং শীতকাল হওয়ায় অসংখ্য রোগী ভর্তি হয়ে একেবারে কানায় কানায় ভরে আছে প্রতিটি ওয়ার্ড, ওয়ার্ডের বারান্দা! পুরুষ ওয়ার্ডের মেঝে খালি ছিল কিছুটা এছাড়া মহিলা, শিশু ওয়ার্ড আর এগুলোর HDU আমাদের ব্লু ইউনিটের রোগী দিয়েই ভরে গেছে! আইসিইউ তেই আমাদের রোগী মোট সংখ্যার ৮০ ভাগ!

পুরুষ, মহিলা, শিশু সব ওয়ার্ডেই  ধারণক্ষমতা  চাইতে  অনেক বেশি রোগী ছিল। একজন ভিআইপি রোগী আছেন আইসিইউতে, সংরক্ষিত নারী আসনের পদপ্রার্থীর মা! তাকে বিকালে দেখে গিয়েছেন নসরুল হামিদ বিপু! এই অতিরিক্ত ঝামেলার কারণে সাধরণ রোগিগুলোকেও সেভাবে দেখা যাচ্ছিল না।

বারবার আইসিইউতে যেতে হয়েছে, শুধু পুরুষ ওয়ার্ড ছাড়া সবগুলো জায়গায় রোগীতে ভরপুর! আক্ষরিক অর্থেই কোন রোগীর পাশে যেতে হলে যুদ্ধ করতে হচ্ছিল, যায়গা যাওয়া যাচ্ছিল না! এমনিতেই কয়েকদিনের টানা ডিউটি করে স্লিপ ডেট রয়ে গেছিল তাই সেভাবে মনযোগ ধরে রাখা যাচ্ছিল না। রাতের একসময় মনে হচ্ছিল  একটা পরাবাস্তব দুনিয়ার আছি। আমি আমাকে চালাচ্ছি না! আইসিইউ থেকে এক রোগীর স্বজন এসে আবদার করল তার রোগীকে দেখতে যেতে হবে তখন আমি ঠিক মাথা সোজা করে রাখতে পারছিনা, মনে হচ্ছিল কেউ আমার মাথা ধরে রাখলে খুব ভাল হত! কিন্তু আমি সেই রোগীকে দেখে এসেছি এবং আমি জানি ওনার জন্য খুব বেশী কিছু করার নাই আমার তবে আমার একবার দেখতে যাওয়া উচিত নইলে রোগীর স্বজনের কাছে চিকিৎসা গ্রহনযোগ্য মনে হবে না। কিন্তু এভাবে যদি সবার রোগী দেখতে যেতে হয় তবে ডাক্তার লাগবে কয়েকজন! তাও কিছুক্ষণ বসে একটু স্থির হয়ে দেখে এলাম। এরপর একটু শোয়ার পরেই আসল এক মওলানা যার বাচ্চাকে আমি দেখে এসেছি এবং ভালোভাবেই সব বলে এসেছি। কিন্তু ভালোভাবে বলআর একটা ঝামেলা হল, লোকজন তখন যা তা সব আবদার করে বসে এবং সেগুলো মেটানো কোন চিকিৎসকের পক্ষে সম্ভব না! তখন মনে হল বাঙালি হিসেবে আমরা কিছুটা "ঝাড়ি প্রিয়"! যে আমাকে শাসন করতে পারে, শাসনের সুরে কথা বলে আমরা তাকে বেশী মূল্যায়ণ করি এবং তার কথা মনযোগ দিয়ে শুনি। চিকিৎসা করার সময় এই জাহড়ি বেশ কাজে দেয়!

এসব করতে করতে একসময় ভোরের দিকে একটা বাচ্চা মারা গেল আসমা, ১২ বছরের প্রতিবন্ধী। এরপর শুরু হল তার মায়ের আহাজারি! একটানা বিলাপ করতে থাকা!

হঠাত একটা ঘোরলাগা সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি বলে মনে হতে লাগলো। মনে হচ্ছিল হয়ত এই জীবন আমার নয়, এই মুহুর্ত আমার না, আমি যা করছি তা ঠিক আমি করছি না, কেউ আমাকে দিয়ে এগুলো করিয়ে নিচ্ছে! একটা পরাবাস্তব জগতে ঢুকে গেছি বলে মনে হচ্ছিল!

১৮.০১.২০১৯

Friday, December 14, 2018

১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১

পুরো ৯ মাস প্রায় তিরিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করার পর তারা পরাজয় নিশ্চিত জেনে স্বাধীনতার মাত্র দুইদিন আগে থেকেই শুরু করে ঠান্ডা মাথায় জাতিকে পঙ্গু করে দেবার পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। এ দেশের সবচে মেধাবী, সবচে পরিশীলিত মানুষগুলোকে সুনির্দিষ্ট তালিকা করে হত্যা! এদেশের আলোবাতাস-নদী-জলেই বেড়ে ওঠা কিছু পাকিস্তানের দোসর আলবদর, মাত্র একদিনে দেশটাকে পিছিয়ে দিল "অগণিত সময়ের জন্য"! অগণিত সময় বলছি কারণ ব্যাপারটা "বাটারফ্লাই এফেক্টে"র মত; যেখানে সামান্য প্রজাপতির ডানার বাতাসে কালের আবর্তনে বনভূমির সৃষ্টি হয় সেখানে অসামান্য সেই সোনার মানুষগুলো বেঁচে থাকলে আমাদের দেশটা আরো কতই না সুন্দর হত!

হয়ত সেই সোনার মানুষগুলো থাকলে সদ্য স্বাধীন হওয়া একটা দেশের দায়িত্বটুকু নিতে পারতেন, এখন সংখ্যাটা (হাজার) আপাত কম মনে হলেও আসলে ওরাই ছিলেন পুরো বাংলাদেশ! পুরো দেশে শহিদুল্লাহ কায়সার, জ্যোতির্ময় গুঠাকুরতা, সেলিনা হোসেন, আবদুল আলীম চৌধুরী, মুনির চৌধুরী, আলতাফ মাহমুদ কয়জন ছিলেন!? ধ্বংসস্তূপ থেকে একটা দেশকে তুলে আনতে যাদের প্রয়োজন ছিল সবচে বেশী সেই মানুষগুলো স্বাধীন দেশে নেই! তারা নেই মানে তাদের সমগ্র জীবনের সাধনা দিয়ে যে জ্ঞান, যে প্রজ্ঞা তারা অর্জন করেছিলেন তার কিছুই আর স্বাধীন দেশটা পেলনা! এ যে কত বড় হাহাকার! কত অসীম না পাওয়া!!

আমার কেন যেন মনে হয়, এই যে কত ঝড় সইতে হল এগুলো পেছনেও ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ দায়ী!!!

এই যে আমরা স্বাধীনতাটা পেলাম, কিন্তু আমাদের নিজেদের সঠিক মুক্তি আসল না। আমাদের দেশের সবচে সুন্দর চিন্তা করার মানুষগুলোকে হত্যা করা হল আর যারা হত্যা করল তারা দেশের মাটিতে বেঁচে রইল, শুধু বেঁচেই রইল না; দেশের সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা পেতে লাগলো! এক সময় দেশেকে শাসন করতে লাগলো! আমরা ঠিক রুচিবোধ তৈরি করতে পারলাম না, আমাদের শিল্প সাহিত্য কোথায় যেন আটকে গেল, আমাদের নিজেদের মাঝে নানা দ্বন্দ্ব তৈরি করা হল, আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ দেখলাম; নিজেদের অনন্তকালের জন্য কলঙ্কিত করলাম, ৭৫ পরবর্তী আমাদের দেশটা কত সম্ভবনা থেকে বঞ্চিত হল, দেশের শিশুরা তার দেশের ভুল ইতিহাস জেনে বড় হতে লাগলো, যে শিক্ষা তাদের পাবার কথা ছিল সেই চমৎকার শিক্ষাটা তারা পেলনা, আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানের পতাকা দেখলাম, একটা প্রজন্ম দেশের প্রতি ভালোবাসার বদলে এক ধরনের তাচ্ছিল্য নিয়ে বেড়ে উঠল... এই এতগুলো ব্যাপারের একটা বড় নিয়ামক হচ্ছে ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১! (অন্তত আমার তাই মনে হয়)

আমরা আজও একটা যুদ্ধ করে যাচ্ছি! এত বছর পরেও আজ সেই ঘাতকেরা দেশকে শাসন করতে চায়! স্বাধীনতা আমাদের আসল কোথায়!?

কী আস্পর্ধা!

আর আমরা আজও সেই প্রতিবাদ দেখিনা, আজও বুদ্ধিজীবীর নামে বুদ্ধিবেশ্বাদের কদর্য কথা আমাদের শুনতে হয়!

আফসোস! খুব আফসোস!!

বাংলাদেশ এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই দেশ সামনে চলবে কার হাত ধরে, দেশটিতে কি আদৌ মুক্তিযুদ্ধ বা দেশপ্রেমের চর্চা স্থায়ী হবে কিনা এসব প্রশ্নের খুব পরিস্কার জবাব দরকার। বাংলাদেশ আর পিছিয়ে যেতে চায়না, বাংলদেশ সোনার বাংলা হতে চায়। দেশের মানুষগুলোকে সেই সুন্দরতম রুচি, শিক্ষা ও জীবনবোধ অর্জনের জন্য আরো একটু সময় দরকার, এই পরিবেশ আরো একটু প্রলম্বিত হওয়া দরকার। তবেই সামনে আমরা পাব পরিচ্ছন্ন, সুন্দরতম এক অদম্য বাংলাদেশ!

জয় বাংলা!

Wednesday, October 17, 2018

বুক রিভিউঃ যদ্যপি আমার গুরু - আহমেদ ছফা

বইয়ের শুরুতে যেভাবে দুলাইন লেখা:
"যদ্যপি আমার গুরু শুড়ি বাড়ি যায়,
তথাপি তাহার নাম নিত্যানন্দ রায়!"
তাতে মনে হয়েছিলো বুঝি বেশ রসের দেখা পাওয়া যাবে বইটিতে। কিন্তু অবস্থা মোটেই তা না, বেশ সিরিয়াস টাইপ লেখা যার বিষয়বস্তু প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক; লেখকের শিক্ষক, যাকে তিনি "গুরু" মেনেছেন।

যদিও সত্য কথন হচ্ছে আমি ওনার নামই এর আগে শুনিনাই!(অবশ্য আহমদ ছফাও তার সময়ে তার নিজের প্রয়োজনের আগে প্রফেসর রাজ্জাককে চিনতেন না!) তবে পুরো বই পড়ে কিন্তু আমার প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাকের প্রতি একটা আলাদা শ্রদ্ধা তৈরি  হয়েছে।

খুব ঋজু চরিত্রের অধিকারী, স্পষ্টভাষী, বিলাসহীন ও প্রচারবিমুখ, আজীবন অকৃতদার এবং সবাইকে উপেক্ষা করে নিজের মতে অবিচল থাকার মত দৃঢ় এই মানুষটির নেশা বলতে হুক্কা, আর সত্যিকারের নেশা হচ্ছে বই পড়া! ক্লাস নিতে তাকে খুব বেশি আগ্রহী মনে হয়নি কিন্তু পড়াশোনায় তার আগ্রহ অসীম। তার পান্ডিত্য সবাইকে চুম্বকের মত আকর্ষন করত। অনেকেই ঈর্ষা-কাতর হতেন তার জ্ঞানের জন্য। শুধু তার সময়ের না, যে কোন সময়ের জন্যেই হয়ত তিনি অনন্য বিদ্বান একজন মানুষ। এমনকি শেষদিকে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে জ্বরাগ্রস্ত হলেও তাকে দেখা গেছে ঝুঁকে বইয়ের পাতায় ডুবে যেতে।

লেখকের সাথে তার দেখা বা পরিচয় হয় মাষ্টার্সের আগেই পিএইচডি স্কলারশীপের থিসিসের সুপারভাইজার খোজার সুবাদে। বাংলা সাহিত্যের ওপর করা এই থিসিস যদিও শেষতক আলোর মুখ দেখেনি (কাকতালীয়ভাবে তার সুপারভাইজার প্রফেসর রাজ্জাকের থিসিসটিও কখনও আলোর মুখ দেখেনি!)। স্বাধীনতার আগে শুরু করা পিএইচডি ডিগ্রিটাও তার নেয়া হয়নি কিন্তু পরিচয়টা রয়ে গেছে, বাহাত্তর থেকে চুরাশি; তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ডালপালা মেলেছে; অবলীলায় ঢাকাইয়া বুলি আওড়ানো প্রফেসর রাজ্জার ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছেন আহমেদ ছফা'র গুরুতে। (আহমদ ছফার মত বিদগ্ধজনের গুরুর আসন নেয়া কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয়! যেখানে আধুনিক যুগের অনেক প্রতিথযশা লোকের কাছেই ছফা একজন আদর্শ!)

বইয়ের প্রথম যে কথায় আমার টনক "বড়সড় আকারে" নড়ে সেইটা হচ্ছে, প্রফেসর রাজ্জাকের মতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও জ্ঞান তৈরিতে উল্ল্যেখ্য তেমন অবদান নেই! প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাকিস্তান আন্দোলনের মনস্তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত তৈরী, ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এই তিনটি বড় অবদান ছাড়া আর বলবার মত কিছু নেই! যদিও এই তিনটিই পুরো জাতিকে পথ দেখিয়েছে তবুও জ্ঞানচর্চা ও বিকাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তেমন ভূমিকা রাখেনি। জ্ঞানতাপস ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ কোন গবেষণা করার চেষ্টা করেন নি; শুধু মিলাদ আর বিয়ে পড়ানোয় সময় পার করেছেন; ইংলন্ডের ডিক উইলসন, ফ্রান্সের ক্লদ লেভি লস-সহ দেশী অংকের রমজান আলী(যার বিশ্বখ্যাত গণিতবিদ হবার সকল সম্ভবনা ছিল); অনেক বিখ্যাত জ্ঞানীগুনীজন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যপনা করেছেন কিন্তু তারাও একে শিক্ষায় "আদর্শ" কর‍তে পারেন নি। "প্রাচ্যের অক্সফোর্ড" সর্ববেই একটি "অতিশয় রঞ্জিত" কথা! (ভাববার বিষয়!!)

কোন  একটা জায়গাকে চেনার উপায় হচ্ছে সেখানকার বাজার আর বইয়ের দোকানে যাওয়া! সেখানকার মানুষ কি খায় আর কি পড়ে তা দিয়েই তাদের যাচাই করা যায়। পুরোন ঢাকার মানুষ হিসেবে ছিলেন ভোজনরসিক(তবে তার লেখায় বাকরখানির কথা থাকলেও বিন্দুমাত্র কাচ্চির কথা নেই!) এবং যে দেশে যেতেন সেখানকার অন্তত একটা রান্না শিখে আসতেন।

প্রফেসর রাজ্জাকের শিল্পকলা বোধও খুব তীক্ষ্ণ! তিনি বলেন শিল্পাচার্য জয়নুলের মত স্পেসের ব্যবহার আর কোন শিল্পী এত নিখুঁতভাবে করতে পারেনি; দুজন পালকি বাহকের মাঝে যে সুন্দর দূরত্ব থাকার কথা সেটাও তার ছবিতে আছে! ছবিতে খালি যায়গা রাখাও যে একটা মুন্সিয়ানা সেটা জয়নুল দেখিয়েছেন। এসব থেকেই বোঝা যায় প্রফসর সাহেবের বোধের জায়গাটা কত গভীর। পরে আহমদ ছফার চেষ্টায় এস এম সুলতান প্রফেসর রাজ্জাকের নজরে আসেন পক্ষান্তরে দেশবাসী এস এম সুলতানকে আবিষ্কার করে। যদিও এখানে লেখকের ভূমিকার কথা লেখক সন্তর্পনে এড়িয়ে গেলেও সচেতন পাঠকমাত্রই বুঝবেন এই গুণী শিল্পী হয়ত সময়ের স্রোতে হারিয়ে যেতেন লেখকের চেষ্টাটুকু না থাকলে। গানের বেলাতেও তার নজরুল প্রীতি লক্ষ্য করবার মত। শিল্পী আব্দুল করিমকে তিনি অনন্য সুরের আধিকারী বলেছেন। সামান্য মৃৎশিল্পীর মাঝে তিনি ভাষ্করকে আবিষ্কার করেছিলেন।

তার অবসর কাটত একমাত্র দাবা খেলায়। বাংলাদেশের প্রথম গ্রান্ড মাষ্টার দাবাড়ু নিয়াজ মোর্শেদকেও প্রশিক্ষণ ও পারিবারিক সাহায্য দিয়েছেন এই প্রফেসর।

তার পরিচয়ের বলয়টাও ঈর্ষা করবার মত। নিজে পিএইচডি করতে গিয়েছিলেন প্রখ্যাত অর্থনিতিবিদ হ্যারল্ড লাস্কির তত্ত্বাবধানে! যার কাছে নিজের চারিত্রিক দৃঢ়তাকে বিকোতে হবে বলে পিএইচডি শেষ না করেই থিসিস পেপার নিয়ে লন্ডন থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। অবশ্য এই সূত্র ধরে কোন বিষয়ে জ্ঞানার্জনের একটা "সহজ সূত্র" পাওয়া যায়ঃ "যা কিছু সামনে আসে গোগ্রাসে পড়তে হবে, কিছুদূর যাবার পর আপনাতেই বোঝা যাবে কোনদিকে এগুতে হবে"।

এছাড়া চমকিত হই যখন স্বাধীনতা পরবর্তি সময়ে খুব স্বল্প সময়ের সফরে হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশ সফরে আসেন এবং বাংলাদেশ সরকার উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কিসিঞ্জারকে সাদরে অভ্যর্থনা জানানোর আয়োজন করে। সেখানে সুযোগ পান মলিন পোষাকের প্রফেসর রাজ্জাক যাকে কিসিঞ্জার নিজের স্ত্রীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন "সহকর্মী" হিসেবে! যদিও মাত্র দু-ঘন্টার সফরের আধ ঘন্টাই যখন রাজ্জাক সাহেব নিয়ে নেন তখন সরকারের একটু নড়ে চড়ে বসতে হয় বৈকি! এমনকি ডিক উইলসনের লেখা বই "এশিয়া আ্যওয়েকস" (যেটাকে গুনার মিরডালের নোবেল পাওয়া বই এশিয়ান ড্রামার সমকক্ষ ধরা হয়) বইয়ের উৎসর্গপত্রে লেখা "টু আব্দুর রাজ্জাক অব ঢাকা"!

ইতিহাস নিয়ে তার জ্ঞান কিছু কথাতেই স্পষ্ট হয়ঃ "আপনারা রামমোহনরে একেবারে আকাশে তুইলা ফেলাইছেন, রামমোহন বিলেতে যাবার সময় তাকে 'রাজা' টাইটেল দিলেন বাহাদুর শাহ যার নিজেরই কোন রাজত্ব আছিল না। কিন্তু রামমোহন সেইটা সারাজীবন আগলাইয়া রাখলেন!" যদিও বাংলা ভাষার গৌড়িয় ব্যকরণের কাজ করাকে রামমোহনের অনন্য কাজ হিসেবে বলেছেন তিনি। উর্দু, আরবি, ফারসি, সংস্কৃত অনেক ভাষাতেই কাজ করার সুযোগ থাকলেও বাংলাকে বেছে নেয়াই রামমোহন অনন্যতা। তবে তিনি নব্বইয়ের দশকের সত্যিকারের "বড় মানুষ" হিসেবে বলেছেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কথা।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তিনি বলেছেন "ইতিহাস ওনাকে স্টেটসম্যান হইবার সুযোগ দিছিল"! এখানে অবশ্য গভীর ভাবনার অবকাশ আছে, কারণ নানা কথায় পরবর্তীকালে তাকে জিন্নাহর সমর্থনে দেখা যায়। তার "পাকিস্তান" সমর্থনের পেছনে যে কারণ লেখক দেখিয়েছেন তা লেখকের নিজেরই মনঃপুত না হলেও সেখানে চিন্তার খোরাক মেলে, গভীর চিন্তার খোরাক!

এই জ্ঞানী মানুষটিকে নিয়ে খুশবন্ত সিংয়ের ইলাস্ট্রেটেড উইকলি অব ইন্ডিয়াতে প্রধান প্রবন্ধ ছাপা হয়েছিল। যিনি পরে দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডী-লিট পান।

ফজলুল হকের সাথে সাক্ষাতে একবার তিনি সরাসরিই বলেছিলেন "আপনি খুব সুন্দর বিশ্বাসযোগ্য মিছা কথা কইবার পারেন"! ফজলুল হকের ওপর গবেষনার কাজেই রাজ্জাক সাহেবের কাছে এসেছিলেন মিসেস কামাল হোসেন; হামিদা। বস্তুত প্রফেসর রাজ্জাকের বাসাতেই তাদের পরিচয় ও পরবর্তিতে বিবাহ, কারণ তিনি দুজনকেই বিশেষ স্নেহ করতেন।

এভাবেই নানা মানুষ তার সহচার্যে এসেছেন, নিজেদের স্বার্থে বা প্রয়োজনে। কাউকেই তিনি ফিরিয়ে দেননি। এমনকি তার বিরুদ্ধে বিষোদগার করে লেখা বইয়ের লেখকও যখন তার কাছে বিদেশী স্কলারশীপ পাবার জন্য রিকমেন্ডেশন চায়, তিনি অবলীলায় তা করে দেন। বইয়ের বিভিন্ন জায়গায় এভাবেই এক জ্ঞানী ও মহৎ চরিত্রের প্রফেসর রাজ্জাককে খুঁজে পাওয়া যায়। যদিও নোট রাখা বা টুকে রাখার অভ্যাস না থাকায় এই বইটি যে লেখকের নিজের মতামতের মিশ্রণ না- তা বলা যায়না তথাপি একজন অসম্ভব জ্ঞানী মানুষের দেখা মেলে। যিনি নিজে কিছু লিখে জাননি বলে হয়ত তার জ্ঞানটুকু বা পরিচয়টুকু আমরা খুব একটা পাই না। কিন্তু তিনি কেন তেমন কিছুই লেখেন নি তার একটা আহমদ ছফা ব্যাখ্যা বেশ আগ্রহউদ্দীপকঃ তিনি তার সমকালীন সকলের চাইতে এতটাই বেশী জ্ঞানী ছিলেন যে তার লেখা তখনকার লোকে ঠিক নিতেই পারত না, তার লেখার গভীরতা বুঝবার মত পাঠকশ্রেণীর অভাবেই মূলত তিনি লেখেন নি!!!

এই শেষ কথাটুকুই কিন্তু তাকে আরো রহস্যময় করে তোলে!

১৪/১০/২০১৮

Saturday, September 29, 2018

বুক রিভিউ - বৃষ্টির দিন - মইনুল আহসান সাবের

কে যেন বলেছিল 'বইটা কি আছে আপনার কাছে?" আমার কাছে ছিলনা, একটা যেনতেন পিডিএফ পাওয়া গেল, সেটাতেই নাকি চলবে।

ভাবলাম এত কষ্ট করে পিডিএফ পড়বে! কী এমন বই!? পড়েই দেখি।

পড়তে বসে প্রথমে একটু আগ্রহ হচ্ছিল; সত্যি কথা বলতে একটা বৃষ্টির দিনে বইটার বইয়ের নামের জন্যেই বইটা পড়তে শুরু করা। শুরুটা ভালো লেগেছে, আনুশকা, লোপামুদ্রা,সৌম্য এদের কথা ছিল, পরে অপি, লেখা, মিন্টু, মাফি, এদের কোথাও আসলো; ভাবছিলাম একটা প্রাণোচ্ছল তরুণ প্রজন্মের কথা পাওয়া যাবে এই ভেবে এগিয়ে গেলাম। বেশ বড়সড় বই! ছোট ছাপায় ১৮৮ পাতা।

তবে মাঝে গল্পটা বুঝে ফেলায় অত রোমাঞ্চ ছিলনা তবে শেষ করে খারাপ লাগেনি। যদিও এই বইটা ঠিক "এখনকার আমার" জন্য নয়, আরো একটু তরুণ সময়ে পড়লে হয়ত বড় হাহাকারের জন্য দায় পড়ত বইটায়!

সবকিছু ঠিকঠাক চলতে থাকা দুটি তরুণ তরুণীর মাঝে প্রেম আসা, তরুণটি হঠাৎ করে ঘটনাচক্রে রাজনীতির নোংরা খেলায় জড়িয়ে পড়ে। একদিকে যেমন সে সবকিছুর প্রতিবাদ করতে চায়, আবার পথটাও ঠিক মেনে নিতে পারেনা। চুড়ান্ত কোন এক পরিণতি মেনে নিতে হয়। মাঝে আসে ছোট ছোট অনেক চরিত্র।

পুরোটাকে শুধু প্রেমের উপন্যাস বললে ভুল হবে, প্রেমের উপাখ্যান ততটা নেই যতটা আছে তখনকার বা সমসময়কার এলাকা দখল, রাজনীতি ও মাস্তানির বাস্তবতার কথা। ক্ষয়ে যাওয়া সমাজের কথা।

আমি জানিনা এখনকার প্রেমের উপন্যাসে কি ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার বা স্কাইপ আসে কিনা! কিন্তু এই লেখা সেই সময়ের যখন এগুলো ছিলোনা! তবুও এইখানে মইনুল আহসান সাবেরের আগের লেখাগুলোর মত লাগেনি আমার। তিনি আরও ভালো লেখেন, যদিও "যুক্তি" থাকে বেশী সেসবে কিন্তু পাঠক "আবেগ" চায় বেশি!

অপেক্ষা আর আকুতি ভরা উপন্যাসে তাই শেষে অপিদের জন্য, আনুশকাদের জন্য মন কেমন করে।

২৪/০৮/২০১৮