Monday, January 19, 2015

অসম্মানজনক পরিচয় "ডাক্তার"!!?

কি আশর্য ঘটনা!

আমি এম বি বি এস পাশ করে ডাক্তার আর এক লোক এস এস সি পাশ করে তিন বছরের কোর্সেই নাকি "ডাক্তার"! লোকের আবার তাদের উপর অনেক "ভক্তি"; তারা একাই সকল বিষয়ে পারদর্শী; মহিলা-পুরুষ থেকে শিশু - গাইনি;  মেডিসিন থেকে সার্জারি (Ortho - ই নাকি তাদের সবচেয়ে বেশী "অর্থ" আনে! সুজোগ থাকলে Burrhole / Open heart Surgery এগুলোও করিয়ে ফেলত!)

আসলে ওরা কি পারেনা তারা শুধু সেই লিষ্টিটা করার চেষ্টা করি;
“নাথিং” ইস ইন দিস লিস্ট!
এমন কিছু নাই যাহা তাহারা পারেন না!

সত্যি বলতে কি প্রথমে আমি অন্যদের বলতামঃ "আহা! এখন নাহয় আমরা (৩৩ তম বিসিএস এর প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ডাক্তার! একসাথে এত যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষকে পুরো দেশে ছড়িয়ে দেয়াটা একটা বিশাল ব্যপার!) আছি কিন্তু যখন আমরা ছিলাম না তখন একটা বিশাল জনগোষ্ঠীকে ওরাই চিকিৎসা দিয়েছে; সেইটা হেলাফেলা করার ব্যাপার না!"

কিন্তু---
ঠিক এখন, আমি তাহারা কি করেন; কেমন করিয়া চিকিৎসা দেন; দেখিয়া আল্লাহ পাকের কাছে শুকর আদায় করি। খোদা তুমিই ছিলে আর আছ!  নইলে ডায়াবেটিক রোগিকে স্টেরয়েড; মা মচকানিতে সেফট্রায়াক্সন; খালি হাতে ময়লা ব্লেড দিয়ে স্কাল্প এর ফোড়া কাটা; লোকাল দিয়ে নিজেদের চেম্বারের টেবিলেই ফাইব্রোএডেনোমা! (ওমা!!) করা; কম্পাউন্ড ফ্রাকচারে প্লাশটার করা (সাথে আবার “জাব” নামের এক ব্যপার চালু আছে); কথায় কথায় এ্যাবরশন - ক্লিয়ার করা ”(এর প্রকৃত চিত্র যে কত ভায়াবহ তা নিজে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন); দেড় মাসের বাচ্চারে ক্লিয়ার লাংসে সেফেপাইম.... (আর কত বলব! এইগুলা আমার একদিনের অভিজ্ঞতা মাত্র!..এমন না জানি কত আছে!?..)

এখন আর আগেই "মনে হওয়া"তে নাই আমি। এখন মনে হয় এই অপ-চিকিৎসা দেয়ার চেয়ে না দেয়া হাজারগুন উত্তম! "প্রাইমারী রিলিফ" দেয়ার নামে তারা যা করে তা কল্পনাও করা যায়না; মেনেও নেয়া যায়না! তাদের এই রোগী দেখার আসীম আগ্রহ ও ধৈর্য্যের কারণ যদি কেউ তাদের ভাষ্যানু্যায়ী "কি করব! মানুষ আসে, তাদের তো আর ফিরায়ে দিতে পারিনা, গরীব মানুষ" এই বাক্যে আপ্লুত হন তাহলে আপনি একটি "মহাভুল" করেছেন! আমি বয়সে আমাদের অনেকের হাটুর সমান এক মহামান্য SACMO  (এরা “সাব এসিস্টেন্ট কমিউনিটি” কথাটা “এসএসি” হিসেবে লেখে আর “মেডিকেল অফিসার” কথাটা বড় করে লেখে!) বলতে শুনেছি
"প্রথম প্রথম আমি গেঞ্জী (টি-শার্ট) পরে ডিউটি করতাম, পরে বুঝছি কত্ত বড় ভুল করতাম, পরে আর কোনদিন ডিউটিতে গেঞ্জী পরিনাই!"
কেন!?
তিনি গেঞ্জী আর কোনদিন পরেননাই কারন......
লোকে টাক গুজে-দিবেটা কোথায়!!?

তারা ২৪ ঘন্টার "ইমার্জেন্সি" কে "২৪ ঘন্টার আউটডোর" বানায়ে ফেলেছে! পুরো চিকিৎসা ব্যাবস্থাটাকেই বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে সমানে কাগজ গুঁজছে আর ডাক্তারদের তাদের "অপচিকিকিৎসা"র ফলে সৃষ্ট সমস্যার দায়ভার বইছে ডাক্তার, তথা সরকার তথা পুরো ব্যাবস্থা!!! কখনও কি শুনেছেন "স্যাকমো'র ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির/নবজাতকের/অমুকের মৃত্যু"? শোনেননি। কিন্তু প্রকৃত চিত্র কিন্তু তাই! এই প্রসঙ্গে আমি বলি আমার এলাকায় এক "কোয়াক" (না "স্যাকমো" পদে তিনি নাই) "গোয়ালঘরে টন্সিলেক্টমি করিয়াছেন" (ইহা তাহার সারাজীবনের একটি তুচ্ছঘটনা মাত্র)!!
আর কি বলিব!!?
আমি কোথায়? বাংলাদেশ, গোপালগঞ্জ, এইখানেই এই অবস্থা যা আসলে দেশের একটা 'আসল চিত্র' প্রকাশ করে!


আমার নিজের এখন "ডাক্তার " পরিচয়টাকে মাঝে মাঝেই অসম্মানজনক মনে হয়; লোকে ওই ব্যাটাদের বলে ডাক্তার (তাদের আবার এলাকায় দাপটের কারণে লোকের উচ্চারণ থাকে "ডক্টর"; নামের পরে "স্যার"!!!) আর আমি আমার ইথিক্স - মোরালিটি নিয়ে 'সরকারের কলম-ঘষা কেরানীমাত্র'!

Friday, December 26, 2014

মানুষকে মানুষ করা লাগে ; হওয়া লাগে

নাইট ডিউটিতে আজ দলবলসহ এক লোকাল "হাম্বাদিক" তার ৯ মাসের শিশুকে নিয়ে আসছে; ইপিলেপ্সি উইথ নিউমোনাইটিস (ণিউমোনাইটিস এর কারণ হল খিঁচুনির মাঝেই আবার তার হাবলু মাকাল ফল বউটা বাচ্চাকে দুধ খাইয়েছে!) নিয়ে আসা শিশুকে তাদের হম্বিতম্বিকে ইগনোর করেই চিকিতসা দেয়া হইল - ভর্তি করে দিলাম ; বল্লাম খিঁচুনি আবার হলে কিন্তু ফরিদপুর নিতে হবে!তারাও আপত্তি করলনা।

এরমধ্য দুইটা মারামারির কেইস আসছে ; তাদের একজনের আঘাত বাম চোখের নিচে - খুব কষ্টে চোখ বাঁচিয়ে "নাইলন" দিয়ে সেলাই দিলাম! (এখানে সিল্ক/প্রোলিন নাই! দোকানেও নাই! সেলাই দেয়ার জন্য সুতা পরানোর সুই; নাই কোন টুথ ফরসেপ;স্কীন মার্জিন কাটতে হল একটা প্লাস্টিকের হাতলওয়ালা কাগজ-কাটার কাচি দিয়ে!) দুইজনের চেহারা মুটামুটি দেখার মত হইলে তারা শুরু করল "২৬" দিতেই হবে আলাপ! আমুক ডিজি তমুক চেয়ারম্যান এর সাথে কথা বলেন এইসব । সেইটাও ভুলায়ে ভালায়ে এড়িয়ে গেলাম।

ততক্ষণে হাম্বাদিকের ছেলেটা স্ট্যাবল; আর খিঁচুনি হয়নাই; এইবার বাসায় যাবে ওষুধ নিয়ে! কয়েকবার দেখে আসছি আর শেষবার ছাড়পত্র; তাও লিখে দিছি!

এইবার হাম্বাদিক সরাসরি বলল :"যাক এইবার একটু সাংবাদিকতা করি; (আমি ভাবলাম ভিক্টিমের নাম ধাম; আঘাতের ধরণ এইসব জানতে চাইবে!) শিতের দিন; আমারো পকেট খালি; আসেন একটু পকেট গরম করি ; আপনারে কিছু দেই আমি কিছু নেই! আমিও খুশি আপনিও খুশি! "

আমি থ! শুধু বল্লাম : "আপনার বাচ্চাটা ভালো আছে এইটা খুশির কিছু না!?"

বলদায় খালি বলদার মত হাসে আর হাত কচলায়! আমার মনে প্রশ্ন জাগে : "ফুটফুটে বাচ্চাটা কি মানুষ হবে!? এইরকম আবর্জনা হবে নাতো!?'

posted from Bloggeroid

Wednesday, December 17, 2014

হাউ দে ডু।ইট! হাউ???

ধর্ম নিয়ে ব্যাবসা' কথাটা খুবই প্রচলিত! দেশে দেশে সে সে দেশের সং্খা গরিষ্ঠ লোকের ধর্ম (টার্গের কঞ্জুমার বাড়ে!) নিয়ে ব্যাবসা হয়!

আমাদের দেশেও ইসলাম নিয়ে ব্যাবসা হয়। মোল্লা - মৌ-লোভি'রা আল্লাহ'র নামে ব্যাবসা করে ; তাবিজ - কবজ দেয়; দাওয়া থেকে দিলে খুশ হাওয়া; সবকিছুতে আল্লাহর নামে তারা দুটো করে খায়। এদেশের ফুটপাতের হুজুর ("দাড়িয়াল" ভাই) থেকে আলিশান দালানের নুরানি বাবা সবাই কমবেশি আলাহর নামে ব্যাবসা করে।

তাই বলে টিভিসি তে "আল্লা লকেট" নিয়ে এমন ব্যাবসা! আপনি জাগতিক যত সুবিধার কথা মাথায় আনতে পারেন সেগুলো তো আছেই; সাথে "চেহারা সুন্দর হওয়া"ও আছে! আর এগুলো বলে যাচ্ছে একজন "উদার" তরুণী তার সেই লকেটখানি ঝুলিয়ে-দুলিয়ে! যেন এইটাও বাজারি জিনিষ ; একটা সাপ-খোপ বা হাতি-ঘোড়া!
আবার সাথে দুইটা "আল্লা" লকেট কিনলে একটা "মুহাম্মাদ" লকেট ফ্রি!

কিভাবে পারে এইগুলা!? মুর্খের দল!

হাউ ডেয়ার দে টু ডু দিজ!!! হাউ???

posted from Bloggeroid

Tuesday, December 16, 2014

মুখোশ

ছুটে চলেছি রাতের আধার কেটে সামনে ; সবাই আসলে সামনেই ছোটে তাইনা - পেছনে ছোটা যায়না; সেটাও আসলে পেছন-দিকে-সামনে ছোটা!
ছুটেই চলেছি আমি - আমরা; দিন - রাত; কোন এক উদ্দেশ্য নিয়ে; প্রতিদিন নতুন নতুন তাড়নায় ছুটে চলা! আসলে এই ছোটাছুটির অনেকটাই কি "আযথা"-"অর্থহীন"বা কখনো কখনো "আপেক্ষিক"না!?
মনে পড়ে গেল কোন এক গণিতবিদ নাকি তার প্রায় সারাজীবন কোন এক গাণিতিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করার পর শেষ জীবনে এসে বুঝেছেন "এই সমস্যাটায় সমস্যা আছে"; মানে একটা ভুল "সমস্যা" সমাধানের চেষ্টায় তার পুরো জীবনের সময়টুকুই চলে গেছে; যেই সময় যে জীবন সে মাত্র "একবার"ই পেয়েছিল!
আহা-ইস! কী অপচয়! লোকটার "একমাত্র" জীবন-সময়টা কোন কাজেই লাগলোনা!
আমার কেন যেন মনে হয় অনেকের মত বা ওই "গণিতবিদ"এর মত আমারো জীবনটা অপচয় হয়ে যাবে! প্রায় আধটুকু সময় পার করেই ফেলেছি (সাধারণ হিসেব নিকেষে; যদিও নিমেষের কথা কে-ই বা বলতে পারে!)
কেন যেন এসব ভাবলে খুব আফসোস হয়; খুব!
অন্য হাজারটা দুনিয়ার মোহ-মুখোশ ও আমাকে স্বস্তি দেয়না!

posted from Bloggeroid

Monday, December 15, 2014

হায়রে জাতি

সারা দুনিয়া যখন সুন্দরবনকে নিয়ে বিচলিত ; ভারত ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে; জাতিসংঘ নিজেই চাইছে সাহায্য করতে সেইখানে আমাদের দেশের হর্তাকর্তাগন কি করবে তাই বুঝে উঠতে পারছেন না! তারা নাকি "জলবায়ু " না কি সন্মেলনে দেশের বাইরে তাই সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে!

সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌপথ বন্ধ করায় যেই সবাই সাধুবাদ দিচ্ছে সেই নৌমন্ত্রি মনে করিয়ে দিলেন: "না! না! ঐটা বন্ধ সাময়িক!"

দেশের মাথারা বলছেন : "যত ভাবা হয়েছিল তত ক্ষতি হবেনা"!
এই হচ্ছে এই দেশের অবস্থা! আরে বলদ গোড়াতেই তো গলদ!!!

আগে তো বুঝতে হবে "সুন্দরবন" কি জিনিষ; পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন; এর মানেটা কি!
বলদ দিয়ে পিটিয়ে হাল চাষ হয়; সুন্দরবন রক্ষা হয়না! এগুলো ভাবতেই মাথায় আগুন ধরে যায়; সব দরকারি যায়গায় আযোগ্য লোক বসে আছে!

ওরা হয়ত ভাবছে ; "ইসসিরে! কত্ত ত্যাল নষ্ট হইয়া গ্যালো! গ্যালন গ্যালন ত্যাল!"
হায়রে আভাগা জাতি ; দাত থাকতে কোনদিন দাতের মর্যাদা বুঝলিনা!

Sunday, April 13, 2014

হল্লা মাত করো


স্কুলে আমাদের বাংলা টিচার ছিলেন গীতা ম্যাডাম ; গীতা মজুমদার! আমার ক্লাস সেভেনে  প্রিয়
মাত্র দুইজন শিক্ষকের মাঝে তিনিও একজন ছিলেন!  বাংলার শিক্ষকেরা যেমন হয় তিনিও ঠিক তেমন ছিলেন; একেবারে মাটির মানুষ!  ক্লাসে পড়া ধরতেন কিন্তু না পারলে চিপ ধরে টান! ছোট একটা বেতও ছিল তার, মিনি কিন্তু মোটাসোটা। বসে বসে সাবধান- আরাম! এগুলোও হত ক্লাসে! তিনি পড়াতেনও খুব ভালো!  বাংলার আর কি পড়াবার থাকতে পারে সেরকম ক্লাস নিতেন না(যদিও বাংলার আমার সেরা শিক্ষক নটরডেমের প্রবাদতুল্য মুখতার স্যার; সেকথা পরে)  তবুও ওই ক্লাস সেভেনের জন্য ম্যাডাম ছিলেন আমার অনুকরণীয়!

তো একদিন ক্লাসে খুব কথা হছে; কোলাহল বেশী হচ্ছে; পেছনের দিক থেকে স্বাভাবিকভাবেই বেশী কথা হচ্ছে! আমারা যারা ম্যাডামের ক্লাসের ভক্ত শ্রোতা ও আতেলশ্রেণী তারা এবার নিজেরাই বলতে লাগলাল ওই অমুক থাম; এত কথা কিসের; সামনের দিকের সব ছেলেরা পিছনে ঘুরে গেছে!  সবাই জানে ম্যাডাম কিছুই বলবেনা ক্লাসে এইগুলা নিয়ে!  কিন্তু তিনি বল্লেন : শোন একটা গল্প বলি! গপ্লের কথায় ক্লাস এইবার একটু শান্ত!
ম্যাডামের কথাগুলো ছিল মোটামুটি এইরকম: তারা ছোয়বেলায় একবার সিনেমা দেখতে গেছেন হলে! তখনকার দিনে মেয়েদের সিনেমা দেখা মানে বিশাল ব্যাপার!  বাসার সবাই মিলে বিরাট আয়োজন করে সিনেমা দেখতে যাওয়া!  সিনেমার এক পর্যায়ে সামনের দিকের দুই ভদ্রলোকের মাঝে লেগে গেল কথা কাটাকাটি!  একজনের মাথার জন্য আরেকজন দেখতে পাচ্ছেনা এইসব!  তারা দুইজন দাড়িয়ে গেলে তাদের জন্য পেছনের অনেকে আবার দেখতে পাচ্ছিল না! তখন তারা বলতে লাগলো "হল্লা মাত করো"! (মাত করো মানে যে কইরো না এইটা আমি পরে বুঝছি) পরে তাদের মত অন্যদিক থেকেও অন্যরা বলতে লাগলো "হল্লা মাত করো" - তাদের এইবার শুনতে সমস্যা হচ্ছে!এইভাবে কিছুসময় পর সবাই বলছে "হল্লা মাত করো"! কিন্তু আসলে মূল হল্লা না কমে নতুন হল্লা বেড়েই যাচ্ছে!

তো সেই "হল্লা মাত কর" তখন থেকেই মাথায় ঢুকে আছে! মানুষের মস্তিষ্ক অনেক অপ্রয়োজনীয় ব্যাপার রেখে দেয় এইটা হয়ত তেমনই কোন ঘটনা!  কিন্তু মাথার ভিতর বসে যাবার কারণে আমি এই হল্লা মাত কর সিচুয়েশনে কথা বলিনা! বলতে পারিনা কিন্তু লোকের এই আজেবাজে কথার "হল্লা" শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি! চিতকার করে ; কন্ঠনালী চিরে বলতে ইচ্ছা করছে: "হল্লা মাত করো"(উর্দূ বলা যাবেনা তাই বলতে হবে "থাম সবাই" অথবা "অফ যা"!)

১০.০৪.২০১৪

Friday, March 7, 2014

শুন্যতা

আজ খুব গরম পড়েছে। ফেসবুকে কার যেন স্ট্যাটাস দেখলাম সে বলেছে আজ বছরের সবচেয়ে গরম দিন।
আমি বাসার গলিতে ঢুকেছি মাত্র..., এমনিতেই এই রোদে বাইরে বেরিয়ে জ্যামে-ঘেমে মেজাজ সপ্তমে আছে তারপর আবার গলির মুখেই জটলা! ইচ্ছা করেও সরু গলিটা এড়িয়ে যাওয়া গেলনা ।
একটু ভেতরে যেতেই দেখলাম একজন বৃদ্ধ রিক্সাওয়ালা রিক্সা ছেড়ে মাটিতে বসেই কাঁদছে । কী ব্যাপার!? তারপর যা জানলাম তা মোটামুটি এরকমঃ

তিনি একজন মহিলা যাত্রি নিয়ে খিলগাঁও থেকে এই যাত্রাবাড়ী এসেছেন ভাড়া ৫০ টাকা ঠিক করে, তাঁর যাত্রী মাঝপথে তাকে থামিয়ে কিছু বাজারও করেছেন তাঁর কাছ থেকেই নেয়া ২০০ টাকায় এই বলে যে, তাঁর টাকার ব্যাগ হারিয়ে গেছে তিনি বাসায় গিয়ে সব একসাথে দিয়ে দেবেন। এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিলো কিন্তু তিনি রিক্সা থেকে নেমে আর ফিরে আসেননি। মধ্যদুপুরের রোদ মাথায় করে রোদে পোড়া শরীরে, মলিন চেহারার, শেষ বয়সের হাশেম মিয়া প্যাডেল মেরে উপার্জন করা তাঁর পাওনা টাকা পাবার আশায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত মাথায় হাত দিয়ে পথের পাশে বসেই কাঁদছেন আর বলছেনঃ “বাবা কয়ডা টেকা নিয়া রিক্সা জমা দিয়া বাজার সদাই করমু, সারাদিন চালাইতে পারিনা বাবা...শরীরে কুলায়না বাবা... আমারে এইরকম ঠগ দিলো বাবা...!”

তাঁর আর্তনাদ আমদের সবার বুকে গিয়ে বাধে। আমি কোথায় যেন একটা শুন্যতা অনুভব করি, মানুষ এমন হয়! ঘটনাগুলো আমাদের জানা নয় তা না কিন্তু এই আশীতপর বৃদ্ধ রিক্সাওয়ালা! যে এই টগবগে সুর্যের নীচে শেষ বয়সের মলিন পেশী দিয়েই রিক্সা চালায়। আমরা যারাই ছিলাম সবাইকে বললাম তাঁর জন্য কিছু দিতে, এবং আমি আশ্চর্য হয়ে দেখলাম সবাই কিছুনা কিছু দিতে চায়! শেষ পর্যন্ত তাঁর হাতে আমরা বেশ কিছু অর্থ তুলে দিতে পেরেছিলাম, কিন্তু আমাদের তুলে দেওয়া অর্থ কি তাঁর পরিশ্রম করা অর্থ এভাবে হারানোর দুঃখকে ভুলিয়ে দিতে পারবে? আমরাই কি আমাদের নিজেদেরকে বিবেকের কাছে মাথা তুলে দাড়াতে পারব?
হয়ত এখানে অনেক যুক্তিপুর্ণ কারণ থাকতে পারে, যাত্রীটি বাসায় গিয়ে হয়ত ভুলে গেছেন...বা অন্যকিছু... কিন্তু তাতেই কি সব দায় এড়ানো যায়?

আমরা আমাদের যেন এত ছোট না করি যে কয়েকদিন পর আমাদের বিবেক, সততা, মমতা, ভালবাসা, শ্রদ্ধা এগুলোকে গল্পের বইয়ে খুজতে হয়!
September 13, 2011 at 7:02pm