Saturday, December 11, 2021

মলিন মানে কি!?

প্রতিদিন আমার মেয়েটা শুধু খেলা আর খেলা নিয়ে থাকে!
এই বন্দী করোনা কালে শিশুদের অনেক অভ্যেস তৈরি হবার সুযোগই নাই! সবাই বাক্সে বন্দী!

হাসপাতাল থেকে ফিরে দেখি দৌড়াদৌড়ি করে ঘেমে, কোথায় কোথায় কালি লাগিয়ে, পানি না খেয়ে একটু ডিহাইড্রেড। বললাম
- মা! তোমাকে এমন মলিন দেখাচ্ছে কেন?
- মলিন! মানে?
- মলিন মানে বুঝতে পারলে না!?
- উহু
- আচ্ছা দাড়াও তোমাকে একটা গান শোনাই!
- গান?
- হুম! এই গানটা হচ্ছে নজরুল সঙ্গীত! আমাদের জাতীয় কবি লিখেছেন! যে যে গান লেখে আর সুর দেয় সেই গানটা তার হয়ে যায়। এই মনে কর রবীন্দ্রনাথ যেসব গান লিখে সুর দিয়েছে সেগুলো হচ্ছে রবীন্দ্র সংগীত। তুমি যদি কোন লিখে, সুর দিয়ে কোন গান বানাও সেই গান হবে সাম্মি সঙ্গীত!
- (😁)
- তো গানটা শোন, .... মলিন হয়েছে ঘুমে চোখেরও কাজল... নহে নহে প্রিয় এ নয় আঁখি জল!
- কি বুঝলে!?
- 🙄
- আচ্ছা শোন নহে মানে না, নহে নহে মানে দুইবার না বলেছে। প্রিয় মানে পছন্দের কেউ। আর আঁখি মানে... চোখ! বাংলায় কিছু কিছু জিনিসের অনেক নাম আছে যেমন, আখি মানে চোখ, আবার চোখ মানে তো চোখ; চোখের আরও একটা নাম আছে, নেত্র! এই নামে আবার একটা জায়গায় নাম আছে; নেত্রকোনা! মানে চোখের কোনা! মজা না!?
- 😁 চোখের কোনা!
- আবার মনে কর এই যে তুমি মাকে বল মাম; আবার মা! দুটো মানেই তো মা তাইনা? এমন আরও অনেক শব্দ আছে যার মানেও মা! এবার বল জল মানে কি?
- কি?
- জল মানে হচ্ছে পানি! এটাও পানির আরেকটা নাম! যেমন পানির আরেকটা নাম বারি!
- এতগুলো নাম কেন?
- আসলে যারা কবিতা লেখে, এই যে আমাদের জাতীয় কবির মত এরা তো অনেক জ্ঞানী! অনেক জানে! ওরা একটা কিছুর অনেক নাম জানে আর সেগুলো দিয়ে সুন্দর সুন্দর কবিতা লেখে! বুঝলে?
- হুম
- তো ... মলিন হয়েছে ঘুম চোখের কাজল... শুনে তোমার কি মনে হল?
- 🙄
- আচ্ছা মনে কর, কেউ চোখে কাজল দিয়েছে, তোমার মত ছোট বাবু! চোখে কাজল চকচক করছে! তারপর সে ঘুমিয়ে গেল! তারপর ঘুম থেকে উঠলে সেই কাজল কি আগের মত থাকবে? বিছানা বালিশ লেগে চোখে কেমন মুছে যাবে না? আর যদি বাবুটা কান্নাকাটি করে তাহলে তো কাজল মুছে ওর গালেই লেগে যাবে! ভাব একবার ব্যাপারটা!
- এইবার বুজলে মলিন মানে কি? (সামান্য শব্দ মলিন বোঝানোর জন্যে একটু বেশীই হয়ে গেল!)
- হুম! (মলিন শব্দটা এত্ত কঠিন!!)
- আচ্ছা জানো এই গানটা কবি নজরুল কেন লিখেছে?
- কেন? (উৎসাহী!)
- কারণ কবিরা তো অনেক জ্ঞানী হয়! কবি নজরুল জানতো একদিন পৃথিবীতে একটা ছোট বাবু আসবে আর সে একদিন তার বাবাকে জিজ্ঞেস করবে মলিন মানে কি; তাই মলিন মানে কি সেই ছোট্ট বাবুকে বোঝানোর জন্য কবি এই গান লিখেছেন!
- সত্যি! আমাদের জাতীয় কবি আমার জন্যে এই গান লিখেছে?
- অবশ্যই! তোমার দাদাভাই তো জাতীয় কবি না, দাদাভাই তোমার জন্যে একটা কবিতা লিখেছে না?
- হুম লিখেছে!
- তো! দাদাভাই একটা কবিতা লিখলে জাতীয় কবি তোমার জন্যে একটা গান লিখবে না!?
- সে আগে থেকেই জানতো আমার কথা!?
- অবশ্যই! বললাম না কবিরা খুব জ্ঞানী হয়! তারা অনেক পড়ে আর ভাবে! পড়ে বলে তারা অনেক জানে আর ভাবে বলে তারা অনেক লিখতে পারে! দেখনা দাদাভাই অনেক ভেবে ভেবে একটা কবিতা লেখে!
- মাম! সত্যিই কি জাতীয় কবি আমার জন্যে এটা লিখেছে!
- তুমি মামকে জিজ্ঞেস করছ কেন!? বাবা অবশ্যই তোমার সাথে মিথ্যে বলছে না!
- এবার বুঝলে মলিন মানে কি?
- ❤️

২৭/০৪/২০২১

Tuesday, September 29, 2020

পাকিস্তান না!

- মা! আমাদের কোথাও বেড়াতে যাওয়া দরকার। কোথায় যাওয়া যায় বলতো?

- আমরা পাহাড়ে যেতে পারি!

- পাহাড়ে!?

- হুম... আর চাইলে মরুভূমিতেও যেতে পারি!

- মরুভূমি! সেটা তো অনেক দূর! আমাদের দেশে তো মরুভূমি নাই!

- তাহলে কোথায় আছে? কোন দেশে আছে?

- এই মনে কর, আফ্রিকা!

- তাহলে আফ্রিকা যাব।

- আফ্রিকা তো অনেক দূর!

- তাহলে কাছে কোন দেশে আছে?

- এই মনে কর পাকিস্তান!

- না না বাবা! পাকিস্তান যাবনা! পাকিস্তান না!

- কেন বাবা!? (তড়িৎ পাকিস্তান না যাবার সিদ্ধান্ত নেবার কারণ বুঝলাম না!)

- জাননা! পাকিস্তানের মানুষ যে বাংলাদেশী মানুষদের মেরে ফেলে!


২৯/০৯/২০২০

Monday, September 28, 2020

what মানে কি?

আমি সাম্মিকে একটু পড়াশোনা শিখাচ্ছিলাম! বিষয় ইংরেজি!

বিভিন্ন শব্দের অর্থ জিজ্ঞেস করতে করতে বললামঃ
- বলতো মা!৷ What মানে কি?
- What মানে "চমকে যাওয়া"! 
- 😅😅😆


২৬/০৯/২০২০ 

Monday, September 7, 2020

রাস্তায় কুকুর থাকবে কি থাকবে না!?

এখন এমন ঘোষণা হয়েছে যে সিটি কর্পোরেশন কুকুর নিধন করবে! শহুরে কুকুর আর থাকবে না! অনেকেই বলেছেন কুকুর থাকবে কি থাকবে না তাতে তাদের নাগরিক জীবনের কিছু এদিক সেদিক হবে না!
তবে আমার ক্ষেত্রে এটি ভিন্ন!

রাস্তায় কুকুর না থাকলে আমার যে ভয়ানক সমস্যাটা হবে সেইটা হচ্ছে রাস্তায় বের হলেই আমি আর আমার মেয়ে কুকুর খুঁজি! সেই "দগ" বয়স থেকে সে এখন এই "কুকুর" পর্যন্ত আমি মেয়েকে নিয়ে কুকুর দেখি। তারা একা কেন থাকে, ওদের মাম কোথায়, রাগ করে ওরা চিৎকার করছে, গাড়িতে থাকলে ওরা আমাদের থেকে "পিছিয়ে যায়" এগুলোই আমাদের বিষয়! 

এখন অবস্থা এমন আমি রাস্তায় একা হাঁটলেও মেয়ের সমান আগ্রহ নিয়ে কুকুর দেখি। 

তাই আমার জন্য বিরাট সমস্যা!

০৭/০৯/২০২০

Friday, July 31, 2020

কোটি কোটি এবং কোটি

খবর: করোনা বিডি অ্যাপ বানাতে খরচ পাঁচ কোটি! 

৫ কোটি!

আমরা দেশের মানুষ এখন মোটামুটি কোটি ছাড়া হিসেবে করিনা! 

কোটি ছাড়া কথা হবেনা! 

এই দেশ আজ সবাইকে কোটিতে মাপে; তাই দেশে তৈরি হচ্ছে শুধু কোটিপতি!

আমার বেতন কত?
আমি বলব ০.০০৫ কোটি! 

আজ ছয় বছর চিকিৎসক হিসেবে সরকারি চাকুরী করবার পর এই বেতনে এসে দাঁড়িয়েছি! এই করোনা কালে কোন কোন সরকারী চাকুরে কতদিন অফিস করেছেন, কে ফ্রন্টলাইন ব্যাক লাইন দেখেছেন সে হিসেবে আমি যাচ্ছিনা (কেউ একজন ফেসবুকে লিখেছিলেন তিনি সাড়ে তিনমাস পর তার অফিসে ঢুকেছেন!), আমি অন্যান্য বৈষম্যের কথা বলছি না, শুধু বলতে চাই এই কয়েকমাস আমি নিয়মিত অফিস করেছি, আমার মত প্রায় সব চিকিৎসক! নিজের পরিবারকে ঝুঁকিতে ফেলেছি, আক্রান্ত হয়েছি! 

কিন্তু বিমিনয়ে কেউ একটু ইতিবাচক কথাও বলেনি! রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বারবার অবহেলিত আমাদের চিকিৎসকেরা! 

আমি লিখে দিতে পারি এই মহামারীর পর এই দেশ থেকে চিকিৎসক হিসেবে দেশত্যাগের পরিমাণ কয়েকগুন বেড়ে যাবে! সবচাইতে ঝুঁকিতে থেকে, বিনা প্রণোদনায়, বিনা বাক্যব্যয়ে যারা কাজ করতে রাজি থাকেন তাদের চাহিদা বাইরের বিশ্বে বেশি হবে এইটাই স্বাভাবিক! 

আজ পর্যন্ত খুব অল্প সংখ্যক মানসম্পন্ন প্রকৌশলীকে এই দেশ ধরে রাখতে পেরেছে সেই স্রোতে এইবার "আরও পরিশ্রমী ও দক্ষতর জনবল"; চিকিৎসকেরা যুক্ত হবেন। আরেকটু প্রতিযোগিতা করলেই তারা বাইরের পৃথিবীতে সর্বোচ্চ সম্মান নিয়ে বাঁচবেন!

এই দেশে যারা কোটির হিসেব করেন তারা কি কখনো হিসেব করেন কত কোটি মেধাবী দেশ ছেড়ে গেল! 

যারা এই দেশটাকে সত্যিকার অর্থেই কিছু দিতে পারত তাদেরকে দেশ সেই সুযোগ দিচ্ছে না! তারা কেন তাদের উজাড় করে দেশকে দেবেন!? তারপরেও দিয়েছেন, মৃত্যুর মিছিলে চিকিৎসক ও তাদের পরিবারের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে! কে তার খবর রাখে!

এই করোনা কলে এই দেশের সাধারণ চিকিৎসকেরা যে আত্মত্যাগ করেছেন তাতে তাদের জাতীয় বীর ঘোষণা করে আক্ষরিক অর্থেই "মাথায় তুলে নাচা উচিত"! 

ছোটবেলায় পড়েছিলাম "যে দেশে গুণের সমাদর নেই সেই দেশে গুণী জন্মাতে পারে না"!

এই কথাটা যারা পড়েছেন, মনে রেখেছেন তারা আজ দেশে অনাহুত, আর যারা ভুলে গেছেন বা পড়েননি তারা আজ এত উচুতে যে তাদের ধরা ছোয়া তো দূরে, ঠিকঠাক দেখাও যায়না! 

সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী! 
আবার "কোটি"! 

৩১/০৭/২০২০

Wednesday, July 1, 2020

বাবা, সাম্মি আর ল্যাপটপ

আমার কন্যা আমাকে ল্যাপটপের সামনে এতটাই বসে থাকতে দেখে যে আরও দেড় বছর আগে যখন তাকে শিখাচ্ছি, বলত মা নামের নাম কি? মাম কি করে? বাবার নাম কি? বাবা কি করে?
সব যায়যায় ঠিকঠাক থাকলেও বাবা কি করে?
তার বাবা নাকি লাত্যপ চালায়!
মাম দকতের, হসপিটালে যায় আর বাবা ল্যাত্বপ চালায়! 😥

কোয়েকদিন আগে হঠাৎ করে সে বলছে:
আচ্ছা বাবা! আমার ল্যাপটপে মুভি হিয়না কেন?
(আগের দিন তাকে নিয়ে "ভূতের মুভি" দেখেছি! বুলবুল!)

তবে আমি তাকে আশ্বস্ত করেছি, বাবার ল্যাপটপ বেশি ভালো না, বড়; দুষ্টু কারেন্ট লাগে, ওজন - নিয়ে খেলতে কষ্ট হয়! 

আমার মেয়ে বলেছে তার ল্যাপটপ বাবারটার চাইতে ভালো; পিংক কালারের, অনেকগুলো বাটন, ওয়ান টু বলে, এবিসি বলে, গানও গায়, আবার অনেকগুলো ছবিও আছে! শুধু বাবার ল্যাপটপের মত "মুভি" হয়না!

তবে বাবা যেন কান্নাকাটি না করে! সে বড় হলে বাবাকে তার মত একটা ভালো ল্যাপটপ কিনে দেবে! 

০১/০৭/২০২০

Monday, May 25, 2020

বই পর্যালোচনা: বুয়েটকাল - শাকুর মজিদ

বইটি স্থপতি শাকুর মজিদের লেখা। তার বুয়েটের সময় নিয়ে মাঝে মাঝেই তিনি বিভিন্ন স্মৃতিচারণমূলক লেখা লিখতে হয়েছে বিভিন্ন অ্যালামনাই এর জন্যে, সেসব লেখার একটা সংকলন করে এই বই। তাকে ব্যক্তি হিসেবে বেশ গোছানো অবস্থায় আবিষ্কার করি এই বই পড়ে, অন্তত এই মাত্রার একটা বই প্রকাশ করতে পারার জন্যে হলেও।

১৯৮৫ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত তিনি বুয়েটে পড়েছেন। এমনিতেই স্থাপত্যে কোর্স ৫ বছরের, যেখানে অন্যসব কৌশল ৪ বছরের; তার উপর লেখালেখি, সাংবাদিকতা এগুলো নিয়ে ব্যাস্ত থেকে এক বছর পিছিয়ে গেছেন। সামরিক সরকারের যাঁতাকলে পড়েও আরও কিছু সময় সেই সময়ের সব ছাত্রদেরই নষ্ট হয়েছে। এতকিছুর পরেও তিনি জীবনে একজন সফল মানুষ, আর সফল মানুষের জীবনকথা পড়তে ভালোই লাগে। সেগুলোর ভাষাও হয় আশাজাগানিয়া।

দারুণ সহজ ভঙ্গিতে সাবলীল লেখা, পড়তে বেশ আনন্দ হয়েছে। নিজে বুয়েট আর্কিতে পড়ার সুযোগ পেয়ে পরে মেডিকেলে পড়েছি কিন্তু আমি নিজেকে এখনো আবিষ্কার করি "আর্কি মেটেরিয়াল" হিসেবে! আমি এখনো আঁকতে, কিছু লিখতে পছন্দ করি, ছবি তুলতে পছন্দ করি, এইসব কাজ ঠিক ডাক্তারদের সাথে যায়না; মানে এই বাউন্ডূলে স্বভাব। সেজন্যে হয়তো এই লেখা পড়ে কিছুটা আলাদা ভালোলাগা কাজ করেছে।

বইয়ে সেই সময়ের কিছু আভাস পাওয়া যায়। একটা সামরিক শাসনে চলা দেশের অবস্থা, একটা প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে চলেছে সেটা আচ করা যায়। প্রলংকারী ঘূর্ণিঝড়ে ত্রাণ দেয়া, সেইসময়ের ঢাকাকে আবিষ্কার করা, সমকালীন রাজনীতি এসবের চিত্র উঠে এসেছে লেখায়। তবে সবকিছু ছাপিয়ে উঠে আসে লেখকের নিজের বুয়েট এ থাকাকালীন সময়টুকু। তার টিউশনি করে চলা, সাংবাদিকতা, স্বচ্ছলতার বিলাসিতা আবার অন্যদিকে শারীরিক অসুস্থতা আর জীবন সংগ্রাম। সহপাঠী হিসেবে এখনকার খ্যাতনামা অনেককেই আবিষ্কার করি তার লেখায়। ছবিতোলায় তার দারূণ অর্জন মোহিত করে আবার বুয়েটে তার সাইকেল "পংখীরাজ" আর তাতে করে সহপাঠিনীদের সাইকেল ড্রাইভিং কোর্স করানো রোমাঞ্চ জাগায়।

প্রতিটি ছাত্রের জন্যই তার শিক্ষাজীবন এক অনন্য সময়, সেই সময়ে যদি সাংবাদিকতা, লেখালিখি, ছবি তোলা, আয়োজনের দায়িত্বে এগুলোকে সাথে করে চলা যায় তবে সেই সময় হলে ওঠে সত্যিকারের জীবন্ত। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ ও তাই দারুণ সুখপাঠ্য!

১৪/০৫/২০২০