Friday, May 22, 2020

সাম্মির মেশিন আবিষ্কার

আজকে সে একটা মেশিন আবিষ্কার করেছে। দরজার পাশে ঝোলানো মশারি খাটানোর সুতার সাথে একটা খালি কোকের বোতল আর সেই সুতা দরজার ছিটকিনির সাথে বেঁধে তৈরী হয়েছে তার মেশিন! (এই মুহুর্তে সে তার মেশিনের ছবি তুলছে দাদাভাই আর দাদুকে দেখানোর জন্য)

মেশিনের কাজ হচ্ছে প্রায় বন্ধ করে তার ফাক দিয়ে সে তার চিরুনি এগিয়ে দেবে, ওপাশ থেকে কেউ সেটা ধরে নাড়াবে আর তখন তার বোলত নড়বে (যেটা বাতাসে এমনিতেই নড়ছিল), তাতে করে যে চিরুনি নাড়াচ্ছিল তার "ওয়েট" বোঝা যাবে!!

এই প্রকৃয়ায় সে মাত্রই তার দাদাভাইয়ের "ওয়েট" বের করেছে!

সেটা হচ্ছে ছয়!

ছয় কি সেটা অবশ্য জানা যায়নাই!

একটু আগে সে তার যন্ত্রের মান দিয়েছে! "ইউ এস পি"!!
এইটাই তার যন্ত্রের নাম!
(আমি জিজ্ঞেস করলাম,
- মা এইটার মানে কি?
- তুমিই বল! তুমি তো সব জানো! তোমার তো অনেক বুদ্ধি!)

২২/০৫/২০২০

Thursday, May 21, 2020

করোনা, আমফান আর আমাদের আস্ফালন

মানুষ পুরো পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় এনেছে। সবকিছু আজ আংগুলের ডগায়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এখন উন্নতির শিখরে। মানুষের অহংকার আর দম্ভের শেষ নাই।

সেই মানুষ আজ সামান্য ভাইরাসের কাছে অসহায়। কেউ কি ভেবেছিল এই আধুনিক যুগে, এই বিজ্ঞানের জয়জয়কার অবস্থায় একটা সামান্য ভাইরাস পুরো পৃথিবীর সব সেরা শক্তিকে, সেরা বুদ্ধিকে, সেরা ব্যবস্থাকেও অসহায় করে দেবে।

যে বাতাস আমাদের প্রাণ জুড়ায়, বায়ুসমুদ্রে ডুবে থেকে যে বাতাস থেকে অকক্সিজেন পাই আজ সে বাতাসকেই ভয় পাচ্ছি! ছেঁকে শ্বাস নিচ্ছি!

সেই সামান্য বাতাসই যখন জোরে বইছে তখন এই ঢাকায় শক্ত দালানে বসে ভীত হচ্ছি!

অথচ এই বাতাস আসছে আরও ৪০০ কিলোমিটার দূর থেকে যেখানে মানুষ আছে, আর তারাও সবাই এমন ইটের দালানে নেই; অনেকের হয়ত ঠুনকো টিনের চাল!

এই বাতাস বয়ে আসছে সমুদ্রের ওপর দিয়ে, বিশাল জলরাশিকে সে উন্মত্ত করে তুলেছে! এতটাই তার শক্তি যে, সে সেই বিশাল জলরাশিকে সাগরতীরের ওপর দিয়ে ১২-১৪ ফুট পর্যন্ত উচ্চতা নিয়ে আছড়ে পড়তে পারে!

এসবকিছুর পরেও কি আমরা মানুষেরা বুঝব না যে, আমরা কতটা অসহায়! কতটা ক্ষুদ্র! কতটা সীমিত আমাদের শক্তি!

আর এরপরেও কি আমরা এইসব মহাশক্তির প্রতি অনুগত হব না! সেই সর্বশক্তির প্রতি নতমস্তক হব না!? এখনো কি আমরা পৃথিবীতে দম্ভ করে বেড়াবো!?

২১/০৫/২০২০

Friday, May 8, 2020

আমিই কি তবে ভুল !?

যবে থেকে একটু বুদ্ধিশুদ্ধি হইছে; হালকা বুঝতে শিখছি, শুধু মনে হয়: "নাহ্, এইটা তো হবার কথা না... এমন তো নিয়ম না... সত্যিকারের আলোর পথ তো এইটা না...!"

বারবার সত্য মনে হয় কবিতার এই লাইনগুলো:
"আমি জানি সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে!"
" অদ্ভুত উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ!"

তারপরেও তো দেশ টিকে আছে, থাকে, থাকছে...
সবাই যে যার মত ভালই আছে, বেঁচে আছে, ফুর্তি করছে, জীবনকে "ইঞ্জয়" করছে...

কষ্ট পাচ্ছি শুধু আমি আমার "চিন্তা" নিয়ে!

তবে কি আমিই ভুল?

নাকি আমার নতুন পরিচয় নেবার সময় হয়েছে..."বুদ্ধিজীবী"! 🤣

For god sake hold your "love" and let me "use my tongue"!

০৮/০৫/২০২০

Friday, February 14, 2020

আমার বসন্ত ১৪২৬

চারিদিকে বসন্তের আগমনী ধ্বনি! 
ঋতুরাজ বসন্ত!
আহা! আজি এ বসন্তে, কত ফুল ফোটে! কত বাঁশি বাজে! কত পাখি গায়!
বসন্ত এসে গেছে...

গুটি বসন্ত নাকি জল বসন্ত এসেছে সে প্রশ্ন করবেন না মশাই বসন্ত তো এসে গেছে!

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, একটু "মুখবই"(facebook) খোলা না রাখলে,  দৈনিক প্রত্রিকার বাংলা তারিখ না দেখলে বা "তোমরা বলে না দিলে" বুঝতেই পারতাম না যে "বসন্ত" এসেছে! অনেকে আবার বাংলা ক্যালেন্ডার আর দিন ক্ষণের ব্যবচ্ছেদ-এর ব্যাপারটা জানেন না;  ফলে আগের মতই "১৪ তারিখের আগের দিন" মানে গতকাল পালন করে বসে আছেন! 

আমার ছোট্ট মেয়ের কিছু পছন্দের গান আছে। তার ভেতর "ফাগুনের মোহনায়" আর "বসন্ত এসে গেছে" এগুলো আছে।  একদিন সাম্মি বাবাকে প্রশ্নই করে ফেলল: 
: বাবা! বসন্ত এসে গেছে; বসন্ত আসলে কি হয়?
(আমি মনে মনে খুশি! যাক একটা বেসিক প্রশ্ন হয়েছে! কিছুটা "natural rules & order" বুঝিয়ে দিই!)
বললাম: এই যে গানে বলেছে না! আহা আজি এ বসন্তে..  বসন্ত আসলে চারিদিকে অনেক রঙিন ফুল ফোটে!  অনেক পাখি সেই ফুল দেখে আনন্দে গান গায়! শীত পালাই পালাই করে আর সবার মনে খুব আনন্দ হয়!

কিন্তু আমি জানি এগুলো বলেও ওকে সত্যিকারের বসন্তের ব্যাপারটা বোঝানো যাচ্ছে না! 

যেমন ছোটবেলায় ক্লাস ওয়ানের সম্ভবত একটা বই ছিল; "আমার বই"; সেখানে সব ঋতুর নাম ছিল আর নামের পাশেই একটা "ক্যারেক্টারিস্টিক" ছবি। সেখানে গ্রীষ্মকালে ফেটে যাওয়া মাটি আর আম কাঁঠালের ছবি, বর্ষায় ঘন বরষা সাথে ব্যাঙের ডাক, শরতে সাদা কাশফুলের ওপরে পরিষ্কার নীল আকাশে সাদা সাদা শুভ্র মেঘ, শীতকালে খেজুর গাছে হাড়ি, হেমন্ত সম্ভবত পালতোলা নৌকার ছবি ছিল। আর বসন্তের ছবিতে গাছে গাছে পাখি, বনে বনে ফুল বোঝাতে একটা বনের মাঝে  কোন এক বালক মনের সুখে দাঁড়িয়ে আছে, চারদিকে ফুল ফুটেছে আর গাছের ডালে পাখি বসে আছে! 

আমি বললাম: তুমিতো চারিদিকে অনেক গাছ দেখতে পাচ্ছো না। অনেক গাছ থাকলে তুমি দেখতে পেতে চারিদিকে অনেক ফুল ফুটেছে! তখনই বুঝে ফেলতে বসন্ত এসে গেছে! আর অনেক পাখির ডাক শুনতে! 

ইট কংক্রিটের শহরে তার "দুইমাত্র" জানালাই যেখানে কয়েকমাস ধরে দেয়ালে এসে আটকে গেছে সেখানে ফুল সে দেখেনা এটা সত্যি কিন্তু "পাখির ডাকের" কথা উঠতেই সে বলে উঠলো:
: না আমিতো পাখির ডাক শুনেছি! এই যে সকালবেলা অনেক পাখি ডাকাডাকি করে! চড়ুই পাখি! তারপর কাক!...

পাখিদের সারিতে দ্বিতীয় নামটাই "কাক"!

এইট কংক্রিটের জঞ্জালে বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য পাখি প্রথম নামটাইতো কাক হবার কথা ছিল! তারা প্রকৃতির অন্য কোনো অনুষঙ্গ দেখুক না দেখুক আকাশ দখলে নেতা প্রচুর কাক আর রাস্তা দখলে নেয়া কুকুর; এদুটো প্রাণীকে তারা দেখবেই! এরাও "প্রকৃতির সন্তান", আমার এদের উপর কোন বিদ্বেষ নেই কিন্তু সেই "প্রকৃতি" কোথায়!? 

চারিদিকে বসন্তের যে পালন আর এখন ১৪ ফেব্রুয়ারির  সাথে বাসন্তী রঙ মিলে যাওয়ার কারণে, ঋতুরাজ বসন্তের ব্যাপারটার ঢাকা পড়ে যাবে হয়ত অন্য রঙে! আমাদের শিশুরা, কিশোর-কিশোরীরা বড় হয়ে উঠবে বসন্ত মানে "ভালোবাসার সময়" ভেবে! 

আমি আমার শিশুকে, আমাদের শিশুদের একটা সত্যিকারের বসন্ত দেখতে পারলাম না! এ আমার বড় আফসোস! এখন আমি আকাশ দেখতে পাইনা কিন্তু আমি আকাশ দেখেছি, আমি জানি "আমার এক মস্ত আকাশ আছে" কিন্তু আমার শিশু তো জনলোই না ওর আকাশ, ওর বসন্ত, ওর ফুল আর পাখিদের আমরা চুরি করে ফেলেছি! ওরা আর কোনদিন সেটা খুঁজে পাবেনা! ওরা জানবেই না ওদের কি হারিয়ে গেছে, খুঁজবে কেন!?

যাক এসব কথা। চারিদিকে কত রঙ, রঙ থেকে রঙ্গ! আমিই শুধু হাহাকার খুঁজি!

রবি বাবুকে স্মরণ করি:
সুখে ছিল যারা, সুখে থাক তারা, সুখেরই বসন্তে সুখী হোক ধরা। 

১৪/০২/২০২০

Sunday, January 5, 2020

মেয়ের প্রথম স্কুলে যাওয়া

আজ প্রথম সাম্মি সোনা স্কুলে গিয়েছে! 
সকালে উঠতেই পারছিলনা, তার মা অসম্ভব ধৈর্য নিয়ে তাকে উঠিয়েছে, খাইয়েছে, স্কুল ড্রেস পরিয়ে স্কুলে নিয়ে গিয়েছে। আজকে সে ছুটি নিয়েছিল, আমিও বাসায় ছিলাম তার সাথে স্কুলে যাবার জন্য। মাও ছিল সাথে। প্রথম স্কুলের দিনে সে ছিল গম্ভীর! 
 
হাসো মা!
বলার পর একটুখানি হেসেছিল! 
বাকি পুরোটা সময় সে ছিল খুব গম্ভীর! 

বাসায় এসে যখন তাকে তার মা বলল: "সাম্মি তো অনেক সাহসী বেবী! মা তো ভেবেছিল সাম্মি কান্নাকাটি করবে!"
মেয়ে বলে কি: "আমার অবশ্য একটু একটু কান্না পাচ্ছিল!"

সে কেদেই ফেলত, তার "পার্সোনালিটি"র কারণে পারেনাই। মাম তাকে বলেছে "কাদে বোকা বেবিরা"! আর সাম্মি তো বোকা বেবী না! সাহসী বেবী! 

Sunday, December 15, 2019

বুক রিভিউ: নির্বাসন - হুমায়ূন আহমেদ

এই বইটা হুমায়ূন আহমেদ তার প্রিয়তমা স্ত্রী গুলতেকিনের জন্যে লিখেছিলেন এবং তাকে উৎসর্গ করেছিলেন। যদিও উৎসর্গ পত্রখানির দেখা পেলাম না!

বইটিতে জরী নামের একটি মেয়ে এবং তার চাচাতো ভাই আনিসের একটি "এ লস্ট গেম" এর বর্ণনা আছে।

অসম্ভব মায়াময় করে লেখা একটা বই। কেন যেন আমার এখন হ্ন হ্ন করে কান্না পাচ্ছে! কেন যে পাচ্ছে আমি তা নিজেও জানিনা। হয়তো আমার নিজের মেয়ের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে এই নাইট ডিউটি করতে এসে!

এখানে কিছু অমীমাংসিত গল্প আছে যেগুলো পাঠককে নিজের মত করে সাজিয়ে নিতে হয়। আবার হুমায়ূনের অন্যান্য বইয়ের মত ছোট ছোট চরিত্রের সংখ্যাও অনেক, তাদের নিয়ে খুব বেশি কাজও করা হয়নি। তাই অনেকটুকুই অজানা থেকে যায়। অনেক বইয়ের মত এই বইটাও শেষ হয়েছে একটা বিষাদ দিয়ে। এমন গল্পের সমাপ্তি হুমায়ূনের অনেক গল্পেই আছে। খুব পরিচিত মনে হয়। কোথাও এমন পড়েছি পড়েছি মনে হয়।

কিছু চরিত্র আছে বড় চাচা; জিনি বিসমিল্লাহ্‌  খানের সানাই শোনেন; চান তার ছোট ভাতিজির বিয়েতে সকাল থেকেই সানাই বাজুক। জরীর বিয়ে; দুই বোন জরী পরীর মাঝে জরী ছোট। যদিও জরী ভালোবাসতো আনিসকে। কিন্তু যুদ্ধের পর গুলি লেগে আনিস বিছানাবন্দী হয়ে গেলে সেই হিসেব মেলে না। জরীর বিয়ে ঠিক হয় কলেজের শিক্ষকের সাথে! (এখানে এই নাম না দেয়া চরিত্র চিত্রন করতে গিয়ে হুমায়ুন আহমেদ নিজেকে বসিয়েছিলেন বলে পড়তে গিয়ে মনে হল!) যদিও  বড় চাচা জরী আনিসের কথা জানতে পেরে এই বিয়ে একবার ভেঙে  দিয়েছিলেন কিন্তু আবারো নিয়তি জরীকে এই পাত্রের সাথেই বেধে দেয়। যদিও এসবের কারণ কিছু খোলসা করে দেননি লেখক।

শেষদিকে কেনই বা জরীর মা আনিসের মাকে চিনতে চান না। "আতর বৌ" কেন এ বাড়ি ছেড়ে অন্যের হাত ধরে চলে গিয়েছিল সেসবের পরিষ্কার মীমাংসা হয়না। পাঠকের অবারিত সুযোগ আছে নিজের মত করে ভেবে নেবার।

পুরো গল্পজুড়ে একটা হাহাকার ধরে রাখার চেষ্টা ছিল। কেন জরীর ছোটবেলার "সবচেয়ে সুন্দরী' এবং বেতারে গানকরা বান্ধবী কনক উদাস হয়ে যায় তার সৌন্দর্যের প্রশংসায় তা পাঠককে ভাবায়। আনিসের হাহাকার বেদনা পাঠককে ভাবায়। জরীর চলে যাওয়া এমনকি পুরো বাড়িটার এখনা বৃদ্ধ দশার মাঝেও হাহাকার তৈরির চেষ্টা আছে।

০৪/০৯/২০১৯

Sunday, November 3, 2019

সাম্মির প্রথম জি এ

আজ আমার মেয়েটা আবার থুতনি কেটে ফেলেছে!
তাকে জেনারেল এনেসথেসিয়া দিয়ে সেলাই দেয়া য়েছে।

সে জ্ঞান ফেরার পর ক্যানূলা সাইটে ব্যান্ডেজ দেখে বলছে:

- আমার তো হতে ব্যাথা পাইনি, তাহলে হতে ব্যান্ডেজ কেন!?
- তাইতো!? 
- তাহলে তোমরা মানা করনি কেন!?

03/11/2019