Thursday, August 10, 2017

সাম্মীকে রোদে দেই

দুপুরবেলা..
জানালা দিয়ে রোদ এসে পড়েছে বিছানায়। সেই রোদে বিছানার একটা বালিশ দেয়া আছে, ঘামে ভেজা বালিশগুলো তাতে একটু তরতাজা হয়।

আমার মেয়ে তার উপর গিয়ে বসে পড়েছে, বেশ কড়া রোদ তার গায়েও লাগছে। এ দেখে তারা মা যখন তাকে বললো:
- মা! কি করো!? রোদে কেন বসেছ? এদিকে আসো মা!
সে উদাস নয়নে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে, দু হাত কোলে ভাজ করা। উত্তর নাই।
আবার মায়ের প্রশ্ন:
-সাম্মী! কি করো!?
এবার সাম্মীর উত্তর:
-সাম্মীকে রোদে দিই!

(কিছু বলার আছে!? নাই। 😰)

০৬.০৮.২০১৭

রোজনামচা ০১.০৮.২০১৭

কত কি যে লিখতে ইচ্ছে করে!

এই যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজ ঘোষণা দিয়ে দিলেন সিদ্দিকুরকে "স্বাস্থ্য অধিদপ্তর" চাকুরি দেবে, তার চোখ ভালো না হলেও"; এমনিতেই পুলিশের করা ঘা'য়ে মলম লাগানোর দায়িত্ব নিজের কাধে তুলে নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, না মন্ত্রণালয় নয় কিন্তু! সিদ্দিকুরকে বাইরে নেবার ৬ লাখ টাকা যেমন যোগাড় করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তেমনি তাকে চাকরিও দেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর! ওদিকে পুলিশ মুখে কুলুপ এটে বসে আছে! মাঝে বলেছিল "ইটের টুকরা"! এখন এখন যেহেতু নাসিম সাহেব সব বলে দিচ্ছেন তাই তারা চুপ চাপই আছে, এমনকি ঠিক কোন পুলিশ সদস্য টিয়ার শেল ছূড়েছিল তাও কিন্তু পুলিশ কখনও বলেনি। অথচ সব টিভি চ্যানেলের ফুটেজে আছে কে কিভাবে শেল ছুড়লো!!!

আবার এদিকে শিশু তোহফা তহুরাকে দেশে প্রথমবারের হাইপোপেগাস অপারেশন হয়ে গেল সবার অজান্তেই। অথচ দেশের চিকিৎসা ইতিহাসে এটি নি:সন্দেহে একটা মাইলফলক! সরকারি সুযোগ-সুবিধাতেই কিন্তু হয়েছে এই অপারেশন! দেশের সব বড় অর্জনই কিন্তু এসেছে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায়, কিন্তু "ব্যবসার" অংশটার কারণে বেসরকারি খাত এখনও মানুষের "আস্থা"র জায়গাটায় আছে। কারণ বিজ্ঞাপন আর চাকচিক্যময় পরিবেশ মানুষকে সরকারি সেবার প্রতি আস্থাহীন করেছে, নিজেদের পকেটের টাকায় "বড়" করছে তাদের!

আবার ইউএনও সালমন সাহেবকে "সিনিয়র সহকারী সচিব" এর মর্যাদা দিয়ে সচিবালয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রশাসন কিন্তু তাদের পরিবারের সদস্যকে সর্বোচ্চ সমর্থন দিয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের সদস্যকেও কিন্তু মাথা নত করতে হয়েছে প্রশাসন সেটা বাধ্য করেছে।

এই হলো আমাদের অবস্থা! আমরা অন্যান্য ক্যাডার থেকে বহুগুণ পেছনে পড়ে আছি। আমাদের অনেক শিখতে হবে, নতুনদের যেমন তেমন আমাদের সিনিয়রদেরও, যারা আমাদের নীতিনির্ধারক, পথপ্রদর্শক। আসলে আমার নিজের কাছে মনে হয় তাদেরকেই বেশী "আপগ্রেড" হতে হবে, জনপ্রসাশন কিন্তু নিজেদেরকে বয়সের সাথে সাথে উন্নত করে আর আমরা যেন "ম্যানেজার" হিসেবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে আরো "সংকীর্ণমণা", কোন কোন ক্ষেত্রে "অথর্ব" হয়ে যাই!

Saturday, July 22, 2017

মেয়ের খাওয়া

আজ সকালে বাইরে যাই যাই করেও গেলাম না। শনিবারের ছুটিটা পড়ার কাজে লাগানো গেলনা। বিকালে আবার শিলাপুর প্রোগ্রামে যেতে হবে।

মেয়েটা ৯ টার পরেই উঠে গেছে। উঠেই সে আর কারো কাছে যাবেনা! বাবা আছে তার সাথে আর কার কাছে যাবে!? অনেক বলে কয়ে হাতমুখ ধুয়ে নিয়েছি!

তাকে নিয়েই খেতে বসলাম টেবিলে। ভাবচি আমি যা খাই ওকেই একটু করে দিব। সে তখন টেবিলে রাখা রুটি, ডিম দেখে "ওটা কি"? শুরু করেছে। এরপর বললো "খাবে"।
ভাবলাম এমনিতেই যেমন বলে তেমন করেই এই "খাবে" বলা। তাকে একটু ছিড়ে দিলাম রুটি, ডিম সিদ্ধ একটু ভেঙে দিলাম। সে খেলো, এরপর নিজেই ছোট হাতে রুটি টেনে একটু একটু করে টুকরো মুখে দিচ্ছে!
নানী তাকে আরো একটু ডিম দিল, সে খাচ্ছে। ডিমের টুকরো বড় হয়ে গেলে ফেলে দিলে ভাবলাম খাবেনা। কিন্তু সে আবারো চেয়েই নিল। এইবার নানী তাকে একটা রুটি আর কিছুটা ডিম আলাদা প্লেটে দিল। সে চমৎকার করে ছিড়ে ছিড়ে একটু করে রুটি খেতে তাকলো। আবার আমাকে বলে "মজা!"

কী যে ভালো লাগলো! মেয়েটা একটু একটু করে নিজেই খাচ্ছে। দেখেই ভালো লাগে, আবার পড়ে গেলে যদি বলি "ওটা খেতে হয়না মা, দাও ফেলে দেই"! সে নিজেই বলে "আমি ফেলে দেই"! বলে নিজেই উঠে গিয়ে বোন প্লেটে ফেলে দেয়!

বেশ শান্ত হয়ে খেয়েছে আজ! আহা এমন করে যদি একটু খেতো!

২২/০৭/২০১৭

Monday, July 10, 2017

সময় তো সেই চব্বিশটি ঘন্টাই!

এ যুগে কবি রবীন্দ্রণাথ থাকিলে তাহাকে প্রতি প্রহরে কতটি ফোনকল ধরিতে হইত ইশ্বর জানেন। শরৎবাবু  ফেসবুকে কতশত পার্বতীর শিকার হইতেন কে বা বলিতে পারে!

এখনকার সময়ে আসিয়ে মানব সম্প্রদায় "কমিউনিকেশন স্কীল" এ এতখানিই বুৎপত্তি লভিয়াছে যে তাহার আহার নিদ্রা বলন চলন সবকিছুতেই একপ্রকার "যোগাযোগ-যোগাযোগ" ভাব প্রকট! তাহারা সর্বদা "যোগাযোগ" রক্ষা করিয়া চলিয়াছে! তাহার সবটিই নাকি প্রয়োজনীয়, কতকক আবার "জীবনধারণের জন্য আবশ্যক"এরও কাছাকাছি!

ওহে মানব! তোমরা যে এত "যোগাযোগদর্শিতা" (যোগাযোগে বিষেশ পারদর্শিতা - ইহা একটি নব্যসৃষ্ট শব্দ যাহা তোমাদের প্রচলিত 'জটিল', 'মাম্মা', 'প্যারা' হইতে উন্নত বলিয়া বোধ করি!) অর্জন করিতেছ দিনের চব্বিশটি ঘণ্টার সময় কি কিছুটা বাড়িয়াছে নাকি? উহা তো সেই সেকেলে, তোমাদের বাক্যে "খ্যাত" এর মত আদিকালের ২৪ এই আটক রহিয়াছে!

তো ২৪ ঘন্টার কতটি সময় "যোগাযোগে" দিবে কিছু "গণিত" করা দরকার নহে কি?

সময় যে বড় মূল্যবান!
বড় মহার্ঘ্য বস্তু!
বড় আরাধ্য সম্পদ!

উহার কিছুটা বিভূতিভূষণ নাম্মী হিদু লোকটার মত করিয়া "চোখ মেলিয়া দেখিতে" তাকাও...

ইহাতেও কিছু স্রষ্টার সাথে যোগাযোগ ঘটে কিন্তু!

Monday, July 3, 2017

তুমি মদ খেয়ে এসেছো

আমরা সেই ছোটবেলা থেকে সিনেমাতে দেখে এসেছি নায়ক তার "জীবদ্দশার কোন এক পর্যায়ে" রাত করে বাড়ি ফেরে এবং ফেরার সময় মদ খেয়ে ফেরে! কারণ তার স্ত্রীর প্রতি ভীষণ অভিমান হয়েছে, নিজেকে শেষ করে দেবার জন্য সে মদ খেয়েছে। এমন না যে সে প্রতিদিনই মদ খায়। নায়ক খুব ভদ্র ছেলে এগুলোর ধারে কাছেও নাই, আর এগুলো বেশি দেখাতো শাবানা-আলমগীর যুগের সিনেমায়। তখনকার নায়কেরা তো আরো কনজার্ভেটিভ ছিলো; তারা তো কোন পার্টিতেও যেতনা, আর ছেলেখেলা করেও এখনকার ছেলেদের মত "ড্রিং" করতোনা.

তো সেই যাই হোক, সেই কঞ্জারভেটিভ নায়কের ততোধিক কঞ্জারভেটিভ নায়িকারা কি করে জানতো যে, "মদ" খেলে কেমন গন্ধ হয়!?"

নইলে দরজা খুলেই নাক কুঁচকে নায়কের উদ্দ্যেশে সে কেন বলতো: "তুমি মদ খেয়ে এসেছো!?!!!?"

Friday, June 30, 2017

গানের আবেগ, মেয়ের আবেগ

আজ মেয়েকে পেটের উপর বসিয়ে শুয়ে শুয়ে গান শোনাচ্ছিলাম।

সাদি মোহাম্মদের সেই দারুণ গানটা:
একবার গাল ভরা মা ডাকে,
মা বলে ডাক, মা বলে ডাক,
মা বলে ডাক মা'কে!
একবার গাল ভরা মা ডাকে!!

পুরোটা গেয়ে ফেলেছি, সে চুপচাপ শুনছে। সাধারণত সে কোন গান শুরু করলেই এতা না, এতা না... বলে পোজাপতি, পোজাপতি (এইটা আপাতত তার জাতীয় সংগীত! কোথাও কোন গান শুনলেই সে পোজাপতিতে চলে যায়!) শুরু করে দেয়।

তো সে পুরোটা শুনছে কিছু বলছেনা দেখে আমি আবারো গাইছি। এবার সে মুখ ফুলিয়ে চোখ ছল ছল করে ফেলেছে...
ও কথা বলোনা..
ও কথা বলোনা... বলেই সে কেঁদে দিয়েছে।

আমি তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছি। মা কত্ত হচ্ছে মা!? কেন কত্ত হচ্ছে মা!?

সে তখন তার মা'কে ডাকছে "মা! মা বলে দাক!"

তার মা টয়লেট থেকে বের হবার পরই "মা! মা! বলে কোলে গিয়ে ভ্যা করে কেঁদে দিয়েছে!"

এইটুকু ছোট মেয়ে এত আবেগ কোথায় পায়!

সে আগে "ও তোতা পাখি..." শুনলেও কেঁদে দিত। এই গান তার সামনে গাওয়া যাবেনা।
আয় খুকু আয় শুনলেও তার কোন এক বাবা আর খুকুর জন্য তার খুব মায়া হয়, চোখ ছলছল হয়, সে কান্না আটকে রাখতে পারেনা...

ও কথা বোলোনা...
ও কথা বোলোনা....

৩০/০৬/২০১৭

Wednesday, June 21, 2017

ঘুম-কথা!

খোকা ঘুমলো পাড়া জুড়ালো থেকে খুকুমণি ওঠরে...
আমরা যদি না জাগি মা, কেমনে সকাল হবে..
আর্লি টু বেড এন্ড আর্লি টু রাইজ..
এই ঘুম চেয়েছিলো বুঝি...

ঘুমের তো দরকার আছেই... শুধু সাহিত্যেই না! জেগে থাকার জন্যেও ঘুম দরকার!

বাঙালী মাত্রই "অলস" ও "ঘুমকাতুরে"!
তবে কোন কোন দেশে দুপুরে খাবার পর "ভাতঘুম" দেয়া রীতিমত "কালচার"! তার নাম হচ্ছে "সিয়েস্তা"! এই নামে (Siesta) আবার একটা দেশী ঘুমের ঔষধ আছে (Bromazepam)!

তবে আমার মত যারা লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি'র নিয়ম অন্তরে ধারণ করেন কিন্তু স্কুল-গোইং বাচ্চাদের মত ঘুমান এইসব স্ট্যাডি তাদের জন্য না!

ও প্রিয় "ভিঞ্চি" নাকি ৪ ঘন্টা পরপর ২০ মিনিট! ঘুমাতেন!

অবশ্য অনেক মহামানবই এই রকম ঘুমিয়ে গেছেন। টমাস এডিসন নাকি দিনের ২৪ ঘন্টার যেকোন এক সময় ঘড়িধরে ৩ ঘন্টা ঘুমিয়ে নিতেন!

অবশ্য এই ঘুম না দিলে তিনি কী করে "বাতি" আবিষ্কার করতেন!? বাতির সলতে হিসেবে তিনি ভেড়ার লোম থেকে সোনার তার.. হেন দ্রব্য নাই ব্যাবহার করেন নাই! (সময় তো লাগবেই) তিনি নাকি ৪০০+ অবিষ্কারের পেটেন্ট নিয়েছিলেন যা তার সময়ে সার্বাধিক! তার একটা প্রজেক্ট ছিল "টেলিপোর্টেশন" মানে "কোন বস্তুকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় তারদিয়ে পাঠানো"!!

যাইহোক এই লিস্টি লম্বা!

আবার যারা সারাদিন নাক ডেকে ঘুমাতেন এবং ঘুম থেকে যে অল্প সময় জেগে ছিলেন তাতেই পৃথীবি তার নাম মনে রেখেছে সেই লিস্টিও কম না! "ঘুমকাতুরে"দের আর পালে হাওয়া দিয়ে লাভ নেই তাই সেই লিস্টি দিচ্ছিনা!

২ দিনের দুনিয়া; তার দেড় দিনই তো ঘুমিয়ে কাটাই। তাও শেষঘুম দিলে তো দিলামই...😰

যারা "মানব" তারা নীচের গবেষণা মেনে চলবেন আর যারা "অতি-মানব" তারা নিজেদের মত ঘুমাবেন!

হ্যাপী স্লিপিং!