Saturday, March 12, 2016

শিশুদের জন্য নিরাপদ কি "আমরা"?


যতদিন এই দেহে আছে প্রাণ,
প্রানপনে সরাবো পৃথিবীর জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি।

কিশোর কবি সুকান্ত চেয়েছিলেন পৃথিবীর যত জঞ্জাল সরিয়ে আমাদের আজকের ও আগামী দিনের শিশুর জন্য ‘বাসযোগ’ ও ‘নিরাপদ’ একটি পৃথিবী রেখে যেতে। আর আজকের বাস্তবাতায় পত্রিকার পাতা খুললে ‘পৃথিবী’ কতটা বাসযোগ্য হয়েছে তার চাইতে বড় হয়ে দেখা দেয় ‘আমরা’ কতটা ‘নিরাপদ’ হতে পেরেছি শিশুদের জন্য, আমাদের চারপাশ কতটা নিরাপদ হয়েছে শিশুদের জন্য!?

গত বছর জুলাই পর্যন্ত করা একটি পরিসংখ্যান বলছে জুলাই ২০১৫ পর্যন্ত ১৯১ জন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, যা গত বছরগুলোতে ছিল ৩৫০ (২০১৪), ২১৮ (২০১৩) ও ২০৯ (২০১২)। বিভিন্ন সংগঠন ও গণমাধ্যমের করা এই পরিসংখ্যান এর প্রতিক্রিয়ায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ  স্বীকার করে নেন “প্রকৃত সংখ্যাটি আরো বেশী”। চলতি বছরের জুলাই নাগাদ পরিসংখ্যান শেষে এ সংখ্যা আরো বাড়বে তা নিঃসন্দেহে আশঙ্কা করা যায়। সেই সাথে আরো আশঙ্কার কথা হচ্ছে এই শিশু নির্যাতনের ‘ভয়াবহতা’ও বেড়ে চলেছে।

আমরা মনে করতে পারি গেল বছরের সিলেটের শেখ মো। সামিউল আলম রাজন (১৩) এর কথা, যাকে সামান্য করণে ‘পিটিয়ে’ হত্যা করা হয়। ময়না তদন্তে তার শরিরে ৬৪ টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েচিল। অতটুকু শরিরে ৬৪ টি আঘাত! এবং এটির ভিডিওচিত্র ধারণ করে তা অন্তর্যালে ছড়িয়ে দেয়া মধ্যযুগীয় মানসকতাকেও হার মানায়। অথবা খুলনার রাকিব (১২) এর কথা। যে নির্যাতন সইতে না পেরে গ্যারেজ পরিবর্তন করেও প্রাণে বাচতে পারেনি। চাকায় বাতাস দেয়ার কম্প্রেসার তার পায়ুপথ দিয়ে ঢুকিয়ে তার শরিরকে ‘ফোলানো’ হয়, এক পর্যায়ে তার ছোট্ট শরির বড়দের মত ফুলে ওঠে এবং পেটের নাড়িভুড়ি (খাদ্যনালী) এমনকি ফুসফুসও ‘ফুলে ফেটে’ গিয়ে তার মৃত্যু হয়!

আমরা একটু থেমে নিতে পারি...

ঠিক কতটা পৈশাচিকতা মানুষের মনে লুকানো থাকলে এভাবে শিশুহত্যা করা যায়!?
আর এমন উদাহরণ এখন অহরহ আমাদের চারপাশে। প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা নিশ্চিতভাবেই আরো অনেক বেশী। আমরা কাছের মানুষেরাই নিজেদের দ্বন্দ্বের জের’এর শিকার বানাচ্ছি শিশুদের; সম্পত্তির জের ধরে একসাথে চারজনকে হত্যা করে বালুতে পুতে ফেলছি, সামান্য মাছ চুরির অপরাধে আওয়ালদের চোখ তুলে মেরে ফেলছি, অপহরণ করে বস্তাবন্দী করে ফেলছি এবং সবচাইতে হতাশার কথা হচ্ছে শিশুর সবচাইতে আপনজন মা-বাবা তারাও সবক্ষেত্রে শিশুর জন্য নিরাপদ নয়। মা হয়ে দুই সন্তানের মুখে বিষ ঢেলে দেয়া, গলাকেটে হত্যা করা এনং সপ্রতি পরকীয়ার জের ধরে দুই শিশুকে শ্বসরোধ করে হত্যা তারই প্রমাণ দেয়।

মেয়েশিশুদের ক্ষেত্রে নির্যাতনের চিত্র আরো ভয়াবহ, সেগুলো নানা সামাজিক কারণে সামনে আসেও কম। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি ৩ জন মেয়ে শিশুর দুই জনই তার শৈশব-কৈশরে যৌণ নির্যানতের স্বীকার! এবং এগুলো বেশীরভাগই ঘটছে তাদের কাছর মানুষ ও আপনজনদের দ্বারা! ছেলে শিশুরাও এর ব্যতিক্রম নয়, তাদের ক্ষেত্রেও নির্যাতনকারী ‘কাছের মানুষ’ বা ‘পরিচিতজন’!

শিশু হত্যা ও নির্যাতনের এই চিত্রই প্রকাশ করে ভেতরে ভেতরে আমাদের মানসিকতা কতটা পৈশাচিক হয়ে উঠেছে। খেয়াল করলেই দেখা যাবে রাজন বা রাকিবের কিন্তু এ বয়সে থাকার কথা স্কুলে, কোনমতেই তাদের এসব জায়গায় থাকার কথা না। রাষ্ট্রযন্ত্রের নানা অদক্ষতাই হোক আর সামাজিক অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণেই হোক ‘শিশুশ্রম’ আমরা বন্ধ করতে পারিনি উপরন্তু রাজনৈতিক সহিংসতায় আমরা শিশুদেরকে ‘ব্যাবহৃত” হতে দেখেছি।

আমরা নিজেরাই শিশুদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছি, আমাদের স্বার্থ আদায়ে আমরা দুর্বল শিশুদের ব্যাবহার করছি। আমাদের মূল্যবোধের চূড়ান্ত অবক্ষয় ঘটেছে। “আগামী দিনের ভবিষ্যত” শিশুদের আমরাই নিজেদের হাতে হত্যা করছি, নির্যাতন করছি যা আমাদের একটি ‘অন্ধকার’ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। যে সমাজে শিশুরাই ভালো করে বেড়ে উঠতে পারেনা তার “সুন্দর ভবিষ্যত” কেবলমাত্র কল্পনাতেই, বাস্তবে ‘অসম্ভব’।

তাই এখনই সময়, খুব বেশী দেরি হয়ে যাবার আগেই আমাদের উচিত আমাদের ভবিষ্যতের দিকে নজর দেয়া। শিশুদের জন্য আমদের চারপাশকে ‘উপযোগী’ করে তোলা, মানসিকতার পরিবর্তন করা, সামাজিক অস্থিরতা কমিয়ে আনা, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করা, সর্বপরি নিজেদের কাছে নিজেদের এই প্রশ্ন রাখা,

শিশুদের জন্য কি নিরাপদ “আমরা”?

@আহমেদুর রহমান সবুজ , ০৩,০৩,২০১৬

আমাদের শিশুদের মনোজগৎ

"ছুটি" গল্পের ফটিক’কে কে মনে আছে আপনাদের?

গল্পের শুরুটাই এমনঃ “বালকদিগের সর্দার ফটিক চক্রবর্তীর মাথায় চট করিয়া একটা নূতন ভাব উদয় হইল, নদীর ধারে একটা প্রকান্ড শালকাঠ মাস্তুলে রূপান্তরিত হইবার প্রতীক্ষায় পড়িয়া ছিল; স্থির হইল, সেটা সকলে মিলিয়া গড়াইয়া লইয়া যাইবে। যে ব্যাক্তির কাঠ আবশ্যককালে তাহার যে কতখানি বিরক্তি এবং অসুবিধা বোধ হইবে, তাহাই উপলদ্ধি করিয়া বালকেরা এ প্রস্তাব সম্পূর্ণ অনুমোদন করিল।”

এখানে এই বয়াকলসকলের সর্দার ছিল ফটিক, যত উদ্ভট ও দুঃসাহসিক কাজে সে সবার আগে, সে সমবয়সীদের মাঝে এসব কাজে নেতা। তাকে চক্রবর্তীদের বাড়ি কোথায় জিজ্ঞেস করলে সে উত্তর দেয়
“ঐ হোথা”
কোথা?
“জানি নে”

এই ছিল তার উত্তর! ছোট ভাই মাখনলালকে মারার অভিযোগ আনা হলে তার মা তাকে শাসন করতে চাইলে সে মাকে ঠেলে দেয়।

যদিও রবীন্দ্রণাথ খুব সুন্দর করে লিখেছিলেনঃ
“তেরো চোদ্দ বৎসরের ছেলের মত এমন বালাই আর পৃথিবীতে নাই। শোভাও নাই, কোন কাজেও লাগেনা। স্নেহও উদ্রেক করেনা, তাহার সঙ্গসুখো বিশেষ প্রার্থনীয় নহে। তাহার মুখে আধো-আধো কথাও ন্যাকামি, পাকা কথাও জ্যাঠামি এবং কথামাত্রই প্রগলভতা”।

কিন্তু আমাদের আধুনিকে সাইকিয়াট্রি বলে যে ফটিক ছিল “কন্ডাক্ট ডিসঅর্ডার” (Conduct Disorder) এর কিশোর!

আবার কাবুলিওয়ালা গল্পের “মিনি” কি মনে আছে আপনাদের?

সেখানেও গল্পের শুরুটা এমনঃ “আমার পাঁচ বছরের ছোট মেয়ে মিনি এক দন্ড কথা না কহিয়া থাকিতে পারেনা। পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া ভাষাশিক্ষা করিতে সে কেবল একটি বৎসরকাল ব্যয় করিয়াছিল, তারপর হইতে যতক্ষণ সে জাগিয়া থাকে এক মুহূর্ত মৌণভাবে নষ্ট করেনা”।

মিনি এখানে এমন একটি শিশু যে  ঠিক নির্দিষ্ট একটি বিষিয়ে বেশীক্ষণ মনযোগ ধরে রাখতে পারেনা, তার আগ্রহের বিষয়বস্তু প্রতিক্ষণেই পরিবর্তন হয়, প্রশ্ন করে সে তার উত্তরের অপেক্ষা না করেই আবার প্রশ্ন করে। হুট করে সে যেমন ঘরে এসে কোন এক খেলা জুড়ে দেয় তেমনি এক ছুট দিয়ে সে আবার কোথায় খেলা ফেলে চলে যায়।
এই দুরন্ত বাচ্চাটি হয়ত ছিল “হাইপার এক্টিভ এ্যাটেনশন ডেফিসিট ডিসঅর্ডার” (ADHD) এর শিশু!

আবার হৈমন্তির কি সমস্যা ছিল? হৈমন্তি ভুগছিল মাইনর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার এ!
বা রামের সুমতির রামকে!?

কী! সবটা শুনে কি মনে হচ্ছে যে আমি আসলে বায়াসড বা বেশী পড়ে সবাইকে এক কাতারে দাড় করিয়ে দিচ্ছি?  যদি তাই মনে হয় তবে আমি ঠিকই আছি!

জাতিগতভাবেই আমরা অনেকটা ‘সাবমিসিভ’ ক্যাটাগরির! কারণ বৈশিষ্ঠ অনুযায়ী আমরা "নট ওয়েট ফর হিজ অর হার টার্ন" টাইপ; সর্বত্র আমাদের প্রতিযোগীতা এবং সেটা অন্যকে "বঞ্চিত" করে হলেও! তাই নয় কি?

এছাড়া আমাদের সাহিত্যের চরিত্রগুলোও ঠিক সেই প্রমাণই দেয় যে আমাদের পূর্বপুরুষেরা কেমন ছিলেন! নইলে কি আর ইংরেজদের দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে আমাদের দুইশ বছর লাগে! এই উপমহাদেশ যখন সিংহলের সাথে দারুচিনি আর এলাচের বাণিজ্য করে তখন মাত্র ভাস্কো-দা-গামা আমেকিরা “আবিষ্কার” করেন!

আর সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রেও সাহিত্যিক কিন্তু একিটি সাধারণ আটপৌরে জীবনের কোন বৈচিত্রহীন চরিত্র নিয়ে কাজ করেন না; যেখানেই চারিত্রিক বিচিত্রতা আছে সাহিত্যিক সেটাকেই তার বিষয় করে এগোন। আর সাইকোলজিকালি অন্যদের চেয়ে যারা আলাদা তারাই পাঠকের এবং প্রকারন্তরে লেখকের আকর্ষণের বিষয় হবেন এটিই স্বাভাবিক।  তাই নয় কী?

আমি কি লেখক সাহিত্যিকদের মন:ব্যাবচ্ছেদ করে ফেল্লাম নাকি!? রবীন্দ্রণাথ-শরতেরা যেভাবে চরিত্র বিশ্লেষণ করে গেছেন তার সাহিত্যমূল্যের পাশাপাশি “প্রত্নতাত্ত্বিক” মুল্য কিছু কম নয়! তবে আমাদের সবার কাছে তুঙ্গস্পর্শী ভালোলাগার যে লেখক হুমায়ুন আহমেদ তার চরিত্রগুলো চিত্রায়ন বৈশিষ্ঠ কিন্তু উপরের কথাগুলোকেই সাপোর্ট করে!
গভীরভাবে ভেবে দেখবার বিষয়!

সাইকিয়াট্রির মজাটাই এখানে; আর এ জন্যই আমার মত অভাজন এত্ত আগ্রহের সাথে এত্তগুলো কথা বলছে! তবে সব শিশুকেই দু একটি সিম্পটম দেখেই একটা ডায়াগনোসিস ট্যাগ করে দেয়া ঠিক নয়, সচেতন থাকা অবশ্যক যেন তার মানসিকতাকে ঠিক পথে চালানো যায়। এসব অনেক পজিটিভ হিস্ট্রি থাকার পরেও অনেক শিশু মহামানবের খাতায় নাম লিখিয়েছেন সেই উদাহরণও আছে। তাই সব শিশুর শৈশব হোক আমাদের সচেতনায় আরো আলোকিত, ভবিষ্যৎ হোক আমিত সম্ভবনাময়!
(লেখার অনেক জায়গাতেই সচেতনভাবেই সরাসরি ইংরেজি ব্যাবহার না করে বাংলা লেখা হয়েছে, পাঠকের মার্জনা অনুগৃহীত)
Sabuj.mmc@gmail.com 

Tuesday, December 29, 2015

আসুন ডাক্তারগণ! এবার জাগি!

আমরা যারা ৫০ শয্যা নয় এমন সব হেলথ কমপ্লেক্স-এ ইমার্জেন্সি ডিউটি করে আসছি; তারা কেন করছি; অর্গানোগ্রামে এসব জায়গায় ই.এম.ও পোষ্ট নাই!

প্রথম সেই কবে শুরু হয়েছিল "অণুরোধে" আর ডাক্তারদের "মানবতা"য়; সেই থেকে চলছে...

তো সরকারী যেসব সেবাপ্রতিষ্ঠানে আপনি বহু কাঠখড় পুড়িয়ে; ধর্ণা দিয়ে; "স্পীড মানি" দিয়েও কাংখিত সেবাটি পান না সেখানে একেবারে উপরি হিসেবে; মেঘ না চাইতে বৃষ্টি হিসেবে এই ডাক্তাররাই "সেবা" দেয়া শুরু করল; আর হ্যা এই সেবাটি কিন্তু আপনার জমি'র সেবা না; আপনার যানবাহনের সেবা না; আপনার অর্থকড়ির নিরাপত্তার সেবা না; আপনার পড়াশোনার সেবাও না; আপনার "নিজের" সেবা। যে স্বাস্থ্য সম্বল করে আপনি ও আপনার চারপাশের মানুষ টিকে আছেন সেইটেই টিকিয়ে রাখার জন্য; জীবন মৃত্যুর প্রশ্ন নিয়ে সেবা! তাও "বিনামূল্যে"ই না বরং আপনি উপরুন্তু কিছু পাবেন!!!

আর এতসবের পুরষ্কার হচ্ছে "এলাকাবাসীর হুমকি-ধামকি" থেকে শুরু করে "সরাসরি শারীরিক লাঞ্চণা"!

বেশ পাচ্ছি বটে আমরা!

আজ মন্ত্রী বললেন আমাদের ২৪ ঘন্টা ডিউটি করতে হবে! আমরা হাসব না কাঁদব!?

আমাদের ভাষা হারিয়ে যায়।

এখন সময় এসেছে আমাদের নিজেদের "আবদান"টুকু চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দেবার; আর বিনয়ী থাকা চলবে না; আমরা কি করছি তা একেবারে উপর পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে আর এ ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে আমাদের নেতাদের; যাদের আমরা বছরের পর বছর নির্বাচিত করে আসছি; যাদের জন্য স্লোগানে স্লোগানে আকাশ ভারী করছি আর প্রতিদানে তারা আমাদের দীর্ঘশ্বাসই বাড়িয়েছেন।

নেতারা কি ভাবেন যে আমাদের "সত্য"টা জেনে গেলে "সমস্যা" হবে!? কেন আসল "অবদান"এর কথাগুলো এমনভাবে যায় যেন এটি ঐ নেতার অবদান বা হবারই ছিল!

এই অবস্থার পরিবর্তন দরকার; তাই নতুন দিনের নতুন ডাক্তারেরা সবাই সোচ্চার হোন!

নিজের জন্য; ডাক্তার সমাজের জন্য; যেন আগামীকালের ছেলেটি বা মেয়েটি ডাক্তার হতে চাওয়াটাকে "অপাংক্তেয়" না ভাবে!

Thursday, October 22, 2015

শিক্ষাসচিব বড় "বড়" আসন

আগেও আমাদের জ্ঞানী শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান'এর কথা ও কাজে তাকে যথেষ্ঠ উচ্চাভিলাষী মনে হয়েছে; এবং বাস্তবতাও তাই বলে! দেশের কয়েক লাখ টাকার এক একটি ডিজিটাল ক্লাসরুম ইউনিট এখন কি অবস্থা কেউ কি জানেন? দেশের প্রাইমারি স্কুলগুলোতে ক্লাসরুমের জন্য যে প্রজেক্টর আর শিক্ষকদের জন্য ল্যাপটপের শতকরা ১০ ভাগ সচল আছে কিনা আমার সন্দেহ হয়! অথচ আমাদের (সরকারের বলছি না কারণ "আমরাই সরকার"; টাকাটা "আমাদের") কোটি কোটি টাকা এর পেছনে গেছে!

এর চাইতে এই অর্থ স্কুলগুলোর শিক্ষকদের পকেটে দিতে পারলে তারা শিক্ষাদানে আগ্রহী হতেন বলে আমি বিশ্বাস করি!

যাই হোক এটি একটি দীর্ঘ আলোচনার বিষয়; কিন্তু এইমাত্র ৭১ টিভি'র আলোচনায় শুনলাম ক্লাস ওয়ানে ভর্তির ক্ষেত্রে নাকি "অভিভাবকের ঠিকানা"র সার্ভে করা হবে; যে যেই স্থানের মোটামুটি স্থায়ী তারা সেই স্থানের স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাবে; বাকিরা না!

তারমানে সোজা কথায়; "সার্ভে" ব্যাপারটা যদি করাই যায় (এহেন সার্ভে "ফলপ্রসুভাবে" করা যায় বলে আমি আস্বস্ত নই; অন্তত বর্তমান অবস্থায়!) তাতে বেইলি রোড আর মতিঝিল; উত্তরা; বারিধারার জন্য বাইরের শিশুদের পথ মোটামুটিরকম বন্ধ!
নে ভাই একটা আলাদা "জোন" তৌরি করা গেল! ঐগুলোই "আশ্রাফ" থাক; বাকিরা "আতরাফ"!

তার প্রশ্নপত্র প্রনয়ণ ও বন্টনের আধুনিক নিয়ম যে মাঠা মারা গেছে তা আর বলতে! তিনি বলেন "একটা সিস্টেম দাড় করতে সময় লাগে"। সময় দিতে দিতে যে আরেকটা ভূল সিস্টেম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে!?

যাইহোক! তিনি বিশ্বের ৮০ টি দেশ ঘুরে; বিভিন্ন সভ্যতা দেখে-শুনে অনেক ভূয়ো-দর্শন হয়ত পেয়েছেন; কিন্তু আমার কেন যেন মনে হয় সেগুলো "বাস্তবাতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; আমাদের সামাজিক ব্যাবস্থা উপযোগি নয়; অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী"!

একমাত্র সময়ই বলে দিতে পারে তিনি "দূরদর্শী" নাকি "অন্ধ"! তবে এখন তিনি "চোখে ভালো দেখেন না" বলেই মনে করছি!

Monday, October 19, 2015

লাল সালাম

আজ এক অভূতপূর্ব সমাবেশ হল; অভূতপূর্ব বলছি এই কারণে যে কোন নেতার তুষ্টি অর্জনে নয়; কোন পোষ্ট প্রোমোশন নয়; দলীয় রুটি হালুয়ার লোভে নয়; সম্পূর্ণ নিজ মর্যাদার জন্য নিজের পকেটের টাকা খরচ করে দেশের পুরো একটা অংশের দূর-দূরান্তের যেসকল মানুষ একসাথে হয়েছিলেন তা সত্যিই আমাদের আশার আলো দেখায়!

এমন একটি সুশৃংখল ও আহিংশ সমাবেশের পেছনের ও সামনের সারির সকলকে আজস্র ধন্যবাদ। বিশেষকরে বাহার স্যারকে "স্যালুট"; ডাক্তাররাও তাদের মেরুদন্ড সসোজা করে দাড়াতে পারে শুধুমাত্র এটি বোঝানোর জন্যই তাকে আযুত "লাল সালাম"!

তবে কোন হার্ডলাইন নির্দেশনা আসেনি এ সমাবেশ থেকে; যেগুলো সফটলাইন নির্দেশনা এসেছে সেগুলো হল:
-আমরা আমাদের আগের নিয়মেই আমরাই বেতন বিল সাইন করব;
-আগামী ২১ তারিখ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সন্মেলন করা হবে এবং
-আগামী ২৪ তারিখ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ থেকে চুড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা

কিন্তু.....

এই অল্প অল্প; একটু আধটু করে এগোতে থাকলে আন্দোলন ঝিমিয়ে না যায়! আমরা পেশাজীবিরা ছাত্রদের মত পুরোটা সময় যেমন আন্দোলনে দিতে পারবনা তেমনি গণ-মানুষের সমস্যা যেহেতু নয়; সেহেতু এতে গণ-জাগরণও সম্ভব নয়!
সেহেতু আমাদের এগুতে হবে আরো উদ্যমে; আরো "প্রণব-নাদ-প্রচন্ড" হয়ে; দেখাতে হবে আমরাও "আকাশ হতে বজ্র হয়ে ঝরতে জানি"!

বাসের শ্রমিক যারা মোটামুটি দিন আনে দিন খায় টাইপ; তারা "অন্যায়ভাবে" ৭ ঘন্টা বাস বন্ধ রেখে দাবী আদায়ের (অন্যায় দাবী) অংগীকার নিতে পারে আর আমরা এত্ত এত্ত ডাক্তার একদিন কি "স্ট্যাচু" হয়ে থাকতে পারিনা!

মাত্র "এক" দিন!

স্ট্যাচু মানে স্ট্যাচু! কিচ্ছু করা যাবেনা; কোন ইমার্জেন্সি না; কোন প্রাইভেট প্রাক্টিস না!

এতে করে কোন ডাক্তার না খেয়ে মারা যাবেনা এইটা নিশ্চিত; কোন কোন দুর্ভাগা রোগীকে হয়ত মূল্য দিতে হতে পারে! কিন্তু কিছু করার নাই; রাজনীতির বলি-গুলিতে এত মানুষ মারা যায় তার বদলে এইটুকু ত্যাগস্বীকার করতেই হবে!

এই "একদিন"এর ত্যাগস্বীকার সারাজীবনের জন্য আজ ও আগামীর সকল ডাক্তারদের নটকর্ড থেকে মেরুদন্ড সোজা করে দেবে! কোন সন্দেহ নাই!

হবে সেই একদিন!!?
কবে?

Saturday, October 10, 2015

তুমি যে কি জানো না; তা কি তুমি জানো!?

আমাকে ছোটবেলায় এক স্যার বলেছিলেন : "আচ্ছা তুমি যে 'কি' জানো না; তা কি তুমি জানো?"

কোন কিছু জানতে হলে; আরো-দূর এগোতে হলে এই "কি" জানা খুবঈ গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার!

তেমনি...

কোন "সমস্যা"র সমাধান করার একটা অলিখিত শর্ত হচ্ছে সেইটা যে একটা "সমস্যা" এই ব্যাপারটা নিশ্চিত হওয়া। আমরা এই ধাপ নিয়ে কখনো ভাবিই না কারণ ভাবতেই হয়না; আমাদের সহজাত যুক্তিবুদ্ধি আমাদের বলে দেয় "সমস্যা"টা একটা সত্যিকারের "সমস্যা"!

কিন্তু বর্তমানে দেশের এত এত সমস্যা এগুলোর কোন সমাধান হচ্ছেনা এই গোড়ার ধাপটাই নাই বলে! এই সমস্যাগুলোকে আগে স্বীকার করতে হবে সরকারকে যে আসলেই এগুলোই আমাদের "সমস্যা"; তারপরই কেবল সেগুলোর সমাধান সম্ভব!

শুধু ও কেবলমাত্র শুধু তবেই....
মেডিকেল ভর্তি ও পরীক্ষা নিয়ে জট কাটবে
শিক্ষকদের চাওয়া পাওয়া মিলবে
সরকারী বেতন স্কেল নিয়ে সমস্যাও মিটবে
দেশে জংগীবাদের সুরাহাও হবে
বিদেশীরাও এ দেশকে "অনিরাপদ" ভাববে না
ছোট্ট শিশুটির "লাইসেন্সড" পিস্তলের গুলি লাগবেনা

তাই আসুন "সমস্যা" চিনতে শিখি; স্বীকার করতে শিখি ; হ্যা এইটাই "সমস্যা"!

Friday, October 2, 2015

হিন্দি গান ও আল্লা-খুদা

হিন্দী গানে যে পরিমাণ আল্লাহ; খুদা; রাব এইসব শব্দ ব্যাবহার করা হয় সেই তুলনায় ওদের গনশা-দেবা খুবই নগন্য!
ব্যাপারটা এমন কি করে হল!?
কিছু কিছু গানে আবার "খুদা জানে.. তু বান গায়ে হু মেরে খুদা!" বলে সরাসরি শিরক করা হয়েছে! গানটা যতই ভালো লাগুক (ভালো লাগবেই; আমারো লাগে কারণ শয়তান এইটাই চায়; এইটাই "নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার"!) সাবধান থাকতে হবে ; খুব খিয়াল কইরা!

আবার ওরাই কয়েকবছর আগে দেবদাসে বাড়ির বউ আর নটী (চরিত্রায়ণে ঐশ্বরিয়া আর মাধুরী দীক্ষিত)
একসাথে নাচার দৃশ্যে হলভর্তি লোকে নাকি ছি: ছি: করে উঠেছিল! এখন আবার সেই আধুনিক নটীদের অন্যতম সানি'কে যেভাবে "লালন-পালন" করছে তা বিশ্বয়কর!