Showing posts with label পরিবর্তন. Show all posts
Showing posts with label পরিবর্তন. Show all posts

Tuesday, December 29, 2015

আসুন ডাক্তারগণ! এবার জাগি!

আমরা যারা ৫০ শয্যা নয় এমন সব হেলথ কমপ্লেক্স-এ ইমার্জেন্সি ডিউটি করে আসছি; তারা কেন করছি; অর্গানোগ্রামে এসব জায়গায় ই.এম.ও পোষ্ট নাই!

প্রথম সেই কবে শুরু হয়েছিল "অণুরোধে" আর ডাক্তারদের "মানবতা"য়; সেই থেকে চলছে...

তো সরকারী যেসব সেবাপ্রতিষ্ঠানে আপনি বহু কাঠখড় পুড়িয়ে; ধর্ণা দিয়ে; "স্পীড মানি" দিয়েও কাংখিত সেবাটি পান না সেখানে একেবারে উপরি হিসেবে; মেঘ না চাইতে বৃষ্টি হিসেবে এই ডাক্তাররাই "সেবা" দেয়া শুরু করল; আর হ্যা এই সেবাটি কিন্তু আপনার জমি'র সেবা না; আপনার যানবাহনের সেবা না; আপনার অর্থকড়ির নিরাপত্তার সেবা না; আপনার পড়াশোনার সেবাও না; আপনার "নিজের" সেবা। যে স্বাস্থ্য সম্বল করে আপনি ও আপনার চারপাশের মানুষ টিকে আছেন সেইটেই টিকিয়ে রাখার জন্য; জীবন মৃত্যুর প্রশ্ন নিয়ে সেবা! তাও "বিনামূল্যে"ই না বরং আপনি উপরুন্তু কিছু পাবেন!!!

আর এতসবের পুরষ্কার হচ্ছে "এলাকাবাসীর হুমকি-ধামকি" থেকে শুরু করে "সরাসরি শারীরিক লাঞ্চণা"!

বেশ পাচ্ছি বটে আমরা!

আজ মন্ত্রী বললেন আমাদের ২৪ ঘন্টা ডিউটি করতে হবে! আমরা হাসব না কাঁদব!?

আমাদের ভাষা হারিয়ে যায়।

এখন সময় এসেছে আমাদের নিজেদের "আবদান"টুকু চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দেবার; আর বিনয়ী থাকা চলবে না; আমরা কি করছি তা একেবারে উপর পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে আর এ ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে আমাদের নেতাদের; যাদের আমরা বছরের পর বছর নির্বাচিত করে আসছি; যাদের জন্য স্লোগানে স্লোগানে আকাশ ভারী করছি আর প্রতিদানে তারা আমাদের দীর্ঘশ্বাসই বাড়িয়েছেন।

নেতারা কি ভাবেন যে আমাদের "সত্য"টা জেনে গেলে "সমস্যা" হবে!? কেন আসল "অবদান"এর কথাগুলো এমনভাবে যায় যেন এটি ঐ নেতার অবদান বা হবারই ছিল!

এই অবস্থার পরিবর্তন দরকার; তাই নতুন দিনের নতুন ডাক্তারেরা সবাই সোচ্চার হোন!

নিজের জন্য; ডাক্তার সমাজের জন্য; যেন আগামীকালের ছেলেটি বা মেয়েটি ডাক্তার হতে চাওয়াটাকে "অপাংক্তেয়" না ভাবে!

Friday, March 7, 2014

হায় বাংলা গান


রাতে ওয়ার্ডে ক্লাস করছি, স্যার গুরুগম্ভীর ক্লাস নিচ্ছেন...হঠাৎ কোন অ্যাটেন্ডেটের জোরাল গলার ফোন বেজে উঠলো... “ছ্যাইয়া দিলমে আনা রে...মুঝে লেকে জা না রে...ছাম ছামা...”,আমরাও বোরিং ক্লাসের ফাকে মজা পেলাম। মাঝে মাঝেই এই মজাগুলা ভালই লাগে, স্যারেরও তেমন কিছু করার থাকেনা। এ যেন এক অবধারিত মজার ব্যাপার। ক্লাস শেষে খেতে গেলাম ক্যান্টিনে। সেখানে শুনলাম “…খুশনাসিবসে মুঝে পেয়ার ইতনা মিল গ্যায়া...”, মনে পড়ে গেল সিনেমাটা প্রথম দেখার কথা। কি একটা উপলক্ষে সব কাজিনরা মিলে দেখছিলাম। তখন ব্যাপক লাগছিল সিনেমাটা, কি দারুন গান সব, আর এই গানের শুরুটাতো ভোলাই যাবেনা!
ফিরে আসছি হস্টেলে, রাজু মামার হোটেলে তখন বাজছে “হাম তুমহারে হ্যায়, তুমহারে সানম, জানে মান মহাব্বাত-কি কাসাম... হ্যায় কাসাম...না জুদা হঙ্গে হাম”। আরেকটু সামনে এগোতেই শুনলাম বেশ আস্তেই বাজছে, “আশিক বানায়া আপনে...” হস্টেলে ঢুকে গেছি। টি ভি রুমে অনেকের ভিড় যেটা আমাদের হস্টেলে কেবল বাংলাদেশের ক্রিকেট আর বার্সা-রিয়ালের খেলা হলেই দেখা যার। না, আজ ওসব কিছুনা । সবাই কোন ইন্ডিয়ান ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড গিভিং দেখছে...সেখান থেকে সেই পরিচিত ঢংয়েই ভেসে এল, “...রুখ জায়েগি...(সম্মিলিত হোই...হোই...) আপ কা কিয়া হোগা, জানাবে আলি...”।
এইবার আমার একটা কথা মনে হল, “আজ একটা বাংলা গানও শুনলাম না!” হিন্দি গান আমি শুনিনা তা না বরং ভালো লাগার গানগুলো বার বার শুনি, একধরনের মুগ্ধতা নিয়েই শুনি কিন্তু তাই বলে কি বাংলা গানের এতই করুন দশা যে সব্বাই মিলে শুধুই হিন্দি গান শুনব?
আমাদের বাংলা গানের যে আফুরান ভান্ডার তা রেখে আমরা টিভি চ্যানেলগুলোর চমকদার বিজ্ঞাপনের তাড়নায় হিন্দি ঠেসে খাব আর বাংলার কথা ভুলে যাব? তাই কি হয়?
আমাদের দেশের গান শোনার রুচি বা ট্রেন্ডে একটা বেশ বড়সড় পরিবর্তন এসেছে । আমাদের আগের সেই ব্যান্ড সংগীতের ঐতিহ্যটা নেই, সেই আইয়ুব বাচ্চু, মাইলস, সোলস, হাসান, বিপ্লব থেকে শুরু করে এই ব্লাক পর্যন্ত, এখন যারাই আছে তারা সবাই কি সফল? শিরনামহীনএর মত কয়টা দলই বা এখন গান গান “দল” হিসেবে? সবাই স্টেজ শো’তে ব্যাস্ত। আর আমদের টিভি ত আছেই, মধ্যরাত পর্যন্ত গান হয়, তাও লাইভ, মধ্যরাত পর্যন্ত!! খুব ভাল ভাল শিল্পীরা আসেন, মানুষ ফোনও করে। প্রথম প্রথম দু একটা চ্যানেল যখন অনুষ্ঠানটা দেখাত তখন দেখতাম মানুষ মানে শ্রোতা-দর্শকেরা তাদের গানের প্রশংসা করতেন, আবদার করতেন এইটা গান, ওইটা গান। এখনও এসব অনুষ্ঠান হয়, শুধু হয় বললে ভুল হবে, লাগাতারভাবে-উপুর্যুপুরি সবগুলা চ্যানেলে একসাথে হয়! এবং অনেক্ষন পর কেউ ফোন করেন এবং যথারীতি যিনি গায়ক বাঁ গায়িকা “...ও অমুক ভাই কেমন আছেন? আপনার সাথে ত দেখাই হয়না...”, আর কিছু ফোন আসে (বিশেষ করে গায়িকা হলে) “...ওহ আপু আপনাকে যা সুন্দর লাগছে, আমি আপনার অনেক বড় ফ্যান...” ...গ্লি গ্লি গ্লি হাসি!!
আমি মোটেই এসব অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে না কিন্তু আমার সংস্কৃতি, আমাদের সংস্কৃতি যখন একটা স্থূল বানিজ্যিক রুপ নেয় আমার খারাপ লাগে! খুব খারাপ লাগে!! আমার মন প্রশ্ন খুজতে চায়, কেন আমাদের দেশের মাটিতে বিশবকাপের মত খেলা উদ্ধোধনীতে “...পোলা তো নয় আগুনের গোলা”, “... দমাদম মাস্তকালান্দার” বাজে?
আমাদের কি ভাল গান নাই, আমরা ভাল গান গাইতে পারছিনা, কোনটাই শোনার মত নয়?
আমি এই যে লিখছি এখনো শুনতে পাচ্ছি, “...ডোন্ট সে আলবিদা, না কাহো আলবিদা...”! আমি আসহায় বোধ করছি...