Friday, February 3, 2017

বাংলা প্রশ্নপত্রের আবশ্যিক ব্যাবচ্ছেদঃ বাংলা

এবারে মাধ্যমিক পরীক্ষাটি শুরু হয়েছে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র দিয়ে।  পরীক্ষার ঠিক পরপরই অন্যসব বিষয়কে ছাপিয়ে উঠে এসেছে প্রশ্নপতত্রের ভাষা।

সর্বাধিক সমালোচিত হয়েছে ২ নং প্রশ্নটি।  যেটি শুরু হয়েছে এভাবে “জাহেদ সাহেব একজন লোভী ডাক্তার। অভাব ও দারিদ্র বিমোচন করতে গিয়ে তিনি সবসময় অর্থের পেছনে ছুটতেন। এক সময় গাড়ি-বাড়ি, ধন-সম্পদ সবকিছুর মালিক হন। তবুও তার চাওয়া পাওয়ার শেষ নেই। অর্থ উপার্জনই তার একমাত্র নেশা। .......”

এখানে সাদামাটা দৃষ্টিতে একজন অভাবী ডাক্তারের দারিদ্রের পেছনে ছুটতে ছুটতে অর্থলোভী হয়ে ওঠার দৃশ্যপট আঁকা হলেও সেটি কি আমাদের সমাজের সহজাত দৃশ্য? আমাদের সমাজে একজন রিক্সাওয়ালা উদয়াস্ত পরিশ্রম করে অর্থ উপার্যন করেন, একজন ট্রাফিক পুলিশ চাঁদা নেন এই দৃশ্যগুলো যত পরিচিত “অর্থলোভী ডাক্তার” কি এতটা সহজাত?

আমি জানি ঠিক আগের লাইনটি পড়ার পরই অনেক পাঠকের মনে “ট্রাফিক পুলিশ”দের জন্য একটি সহানুভূতির জায়গায় আঘাত লেগেছে। রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে সামান্য বেতনে সারাদিন যারা শব্দ-ধূলোর মাঝে কাজ করেন তাদেরকে এভাবে না বললেই কি নয়!?

ঠিক তাই!

আমাদের সমাজে সব পেশাতেই “মানবিক মূল্যবোধের” অবক্ষয় ঘটেছে। সেটা আপনি পুলিশ, ডাক্তার, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, ব্যাবসায়ী থেকে শুরু করে মৌলানা পর্যন্ত বিস্তৃত। খোদ শিক্ষকের মাঝেও কি “অসাধু”র সংখ্যা কম? তাই বলে আপনি যখন একটি পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নে এমন করে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে “দুর্নামঃ করে ফেলেন তাতে যে চিকিৎসক সমাজ মারাত্মক আহত হবেন সেটাই তো স্বাভাবিক। 

যেমনঃ যদি প্রশ্নের লাইনগুলো হত এমনঃ “ জাহেদ সাহেব একজন ঘুষখোর পুলিশ” বা “জাহেদ সাহেব একজন দূর্নীতিপরায়ণ রাজনীতিবিদ” বা “জাহেদ সাহেব একজন লম্পট শিক্ষক”। এ সবগুলো বাক্যই কিন্তু প্রতিটি পেশার মানুষের জন্য চরম অবমাননাকর যা কোনভাবেই “মাধ্যমিকের” প্রশ্নপত্রের ভাষা হতে পারেনা।

২ নং প্রশ্নটা নিয়েই প্রশ্ন
 বেশী উঠেছে কিন্তু সমস্যা আরো আছে...

যেমন ধরুণ; ১ নং প্রশ্নটির ক্ষেত্রে।
প্রশ্নটি এমনঃ “কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে এসেছে মাইনুল। এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত।  এখানে আদিবসীরা সামুদ্রিক বিভিন্ন জিনিসের পসরা নিয়ে বসেছে। দোকানীরা বেশিরভাগই যুবতী। তারা দোকান পরিচালনা করছে। তাদের কলহাস্যে মুখরিত দোকানগুলো।  মাইনুল উপলদ্ধি করলো যে কাজের ক্ষেত্রে আদিবাসী নারী-পুরুষের মাঝে তেমন কোনো ভেদাভেদ নেই”।

পরীক্ষার্থীদের মাধ্যমিকের প্রথম পরীক্ষার প্রথম প্রশ্নটি সে হাতে পেয়েছে, যেখানে তাকে সমুদ্র সৈকতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে (ভালো কথা, পরীক্ষার প্রথমেই একটু রিলাক্সেশন) এরপর সেখানে চট করেই "যুবতী" দের নিয়ে আসা হয়েছে। খুব খেয়াল করে দেখতে হবে! শব্দটি তরুণী বা মহিলা বা স্ত্রীলোক নয়, "যুবতী"!
আসুন এই বিশেষ শব্দটির বাংলা ভাষায় ব্যাবহার দেখি।

বাংলা ভাষায় কিন্তু "সমার্থক শব্দ" বলে একটা বিষয় আছে,
 যেমন: কন্যা শব্দের সমার্থক শব্দ হতে পারে মেয়ে, নন্দিনী, কুমারী, ঝি, বেটি, দুহিতা, ভাযা, দুলালী, আত্মজা, নন্দিনী, পুত্রী, সূতা, তনয়া ইত্যাদি
তো আমরা যদি কাউকে নিজের মেয়েকে পরিচয় করিয়ে বলি? “ আমার মেয়ে” বা “আমার ভাযা” বা “আমার ঝি”, সবগুলোর অর্থ কি এক দাঁড়ায়? দাঁড়ায় না।

আবার এভাবে তরুণী শব্দটিরও প্রতিশব্দ হতে পারে ললনা, রমণী, মহিলা, স্ত্রী, মেয়ে, কামিনী, মহিলা, স্ত্রীলোক, অঙ্গনা, ভাসিনী, কান্তা, সীমন্তনী, অওরত, অঙ্গনা, কলত্র, জানি, জায়া, জেনানা, বধূ, বামা, ভার্যা ইত্যাদি
তবে খেয়াল করে দেখুন এখানে “যুবতী” কিন্তু নেই। যুবতী শব্দটি আসলে ঠিক তরুনীর সমার্থক নয়। যুবতী শব্দটি “যৌবন” এর সাথে 
যতটা জড়িত ততটা কিন্তু অন্য শব্দগুলো নয়। আমরা কিছু কিছু শব্দ ব্যাবহার করতে করতে তার একটা আলাদা মানে তৈরী হয়েছে। আমরা “তরুণী” বললে যা বুঝি “মহিলা” বললে কিন্তু ঠিক সেটা বুঝিনা, আবার “কামিনী” বা “স্ত্রীলোক” এগুলোরও কিন্তু আলাদা করে মানে দাঁড়ায়।  

বাংলা সাহিত্যেও শব্দগুলোর আলাদা আলাদা ব্যবহার আছে। তাই মাধ্যমিকের প্রশ্নে কোনভাবেই শব্দটি “যুবতী” হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়, সেটা 
তরুণীও হতে পারতো।  আদিবাসীরা তো আর সমুদ্র সৈকতে “যৌবনের” পসরা নিয়ে বসেনি, বসেছে সামুদ্রিক জিনিস নিয়ে!
“তাদের কলহাস্যে মখুরিত” বাক্যটিও “যুবতী” শব্দটি ব্যাবহারের পর ঠিক অতটা নিষ্কলুষ থাকেনা, যদি “তরুণীরা কলহাস্য” করে আর “যুবতীরা কলহাস্য” করে তার মানে কি এক দাঁড়ায়।  আমরা নাহয় ধরেই নিলাম সৈকতের দোকানীরা খুব “হাসিখুশি” থাকে!

আবার ২ নং প্রশ্নের দৃশ্যপটের পর ৪ নং প্রশ্নের “রহিম চৌধুরী কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েও সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত। কিছুদিন পূর্বে তাঁর বড় মেয়ের বিয়েতে এলাকার সকলকে দাওয়াত দেন। তিনি ধনী-গরীবের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। তাঁর এ আচরণে এলাকার দরিদ্র জনগণ খুবই সন্তষ্ট”।

এখানে আসলেই খুবই সুন্দর কথা বলা হয়েছে। রহিম সাহেবকে বারবার “তাঁর” (চন্দ্রবিন্দু সহ তার) বলে সম্বোধন করা হয়েছে, তাকে সম্মান দেয়ার ব্যাপারে প্রশ্নকর্তা কোন কার্পণ্য করেননি।  কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের “মালিক” রহিম সাহেবেরা যদিও সচরাচর “সাধারণ” জীবনযাপন করেন না বা “এলাকার সকলকে দাওয়াত দেয়া” সাধারণ জীবনযাপনের সাথে ঠিক যায় কিনা প্রশ্ন থেকে যায় (যেহেতু পত্র পত্রিকায় ৮০ মণ গরু আর ২০ মণ খাশি খাওয়ানোর খবরগুলো তো আর আমরা ইতিবাচকভাবে নিইনা) তথাপি এই দৃশ্যপট প্রশংসনীয়। এটি থেকে হয়ত শিক্ষার্থীরা কিছু অনুপ্রেরণা পাবে, ধনী হলেও তারা গরীবদের কথা ভউলে যাবেনা।

কিছুদিন আগেও প্রাইমারীর পাঠ্যপুস্তক নিয়ে যে কেলেংকারী দেশবাসী দেখেছে এবং এই প্রশ্নপত্র দেখার পর আমাদের শিক্ষাব্যাবস্থা ও এর সাথে জড়িতদের নিয়ে আরো যৌক্তিক ও গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে।  আমাদের শিশুদের আমরা কি শেখাচ্ছি? আমাদের কিশোরদের আমরা কি ধারণা দিতে চাইছি? সৃজনশীল প্রশ্নপত্র নিয়ে আমাদের যে অসীম আশা ছিল সেটির পেছনে কোন অশুভ তৎপরতা চলছে নাতো!?

একটি দেশেকে এগিয়ে যেতে হলে সে দেশের শিশুদের সঠিক শিক্ষাটা যেমন দিতে হয়, সে দেশের কিশোর ও তরুণদের তেমনি সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে হয়।  একটি নির্দিষ্ট পেশা বা গোষ্ঠী বা শ্রেণীকে হেয় করে জাতি হিসেবে বড় হওয়া যায়না এই শিক্ষাটাও ধারণ করতে হয়।
আমাদের শিক্ষামন্ত্রী আমাদের জন্য অনেক করবার চেষ্টা করেছেন, তিনি অত্যন্ত কর্মঠ ও বিজ্ঞজন। আমরা চাই তিনি এই বিষয়গুলোকে আরো গুরুত্ব দিন। সমস্যাকে প্রথমে “সমস্যা” বলে স্বীকার করুণ নইলে আমাদের সমানের দিনগুলো নিয়ে আমাদের স্বপ্নগুলো বড় ফিকে হয়ে আসে।
  

Thursday, February 2, 2017

শিক্ষক আপনি কি শেখালেন!?

মিডয়াতে ডাক্তারেরা "কসাই", এটা মিডিয়া তৈরী করেছে "কাটতি বাড়ানো" সংবাদ এর জন্য, এ গল্প পুরনো...
কিন্তু মাধ্যমিক পরীক্ষার মত একটা পরীক্ষায় যখন "সৃজনশীল" প্রশ্নকর্তা "লোভী ডাক্তার" লিখে প্রশ্ন শুরু করেন তখন আসলেই সেটা একটা অশণী সংকেত!
আমার মাধ্যমিক এ কি প্রশ্ন এসেছে তা আমি এখনো মনে করতে পারি সেই পরীক্ষার একটা প্রশ্নে এমন বাক্য কি "বার্তা" দেয়!?
শিক্ষকদের সাথে কি ডাক্তারদের আলাদা কোন শত্রুতা ছিল কখনো!?
সব পেশাতেই কিছু সমস্যা/সীমাবদ্ধতা/অনিয়ম আছে, সেটা রাজনীতিবিদ, শিক্ষক থেকে পুলিশ হয়ে মৌলানা পর্যন্ত! এবং তার পরেও লোকে তাদের সন্তানদের "ডাক্তার" বানাতে চায়, সবাই " Aim In Life" রচনায় "ডাক্তার" হতে চায়! খোজ নিয়ে জানবেন "সেবা"খাতে ডাক্তারেরা যেটুকু করে তা অন্য কোন সেবাখাত করেনা! না করেনা!!
যেসকল অল্পসংখ্যক ডাক্তারেরা অনেক "আয়" করেন তাদের শ্রম/যোগ্যতা/দক্ষতার জন্যেই সেটা পান, উপরুন্ত সেটা "শিল্পপতিদের" কাছে "নস্যি"!
আপনি কখনোই অন্যকে ছোট করে নিজে বড় তো হতে পারবেনই না বরং নিজেদের সন্তানদের "লোভী" ডাক্তার হতেই "উৎসাহিত" করছেন।
দেশের কয়টা স্কুল কলেজে "যোগ্য" শিক্ষক আছে? তারা কেন স্কুলে না পড়িয়ে বাসায় শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানান? কেন "পরিমলেরা" তৈরী হয়? ভার্সিটিতে কি হয়? কেন হয় এগুলো তো আমরা এভাবে বলিনা?
আর শিল্পপতিরা কবে থেকে সাধারণ জীবনযাপন শুরু করলেন তা তো জানলাম না! (করলে তা অবশ্যই প্রশংশনীয়!)
এহেন উর্বর-অযোগ্য-মানহীন প্রশ্নকর্তা ও সাথে জড়িত সকলকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
না... ডাক্তারদের উচুতে তোলার জন্য নয়, আপনার সন্তানদের "ঠিক" শিক্ষাটা দেয়ার জন্যই এটি জরুরি!

Wednesday, January 25, 2017

ইসলাম সিম্প্যাথেটিক নাকি প্যারাসিম্প্যাথেটিক?

এই প্রশ্ন আমার হঠাত মনে হল গান শুনতে শুনতে! প্রবল ঢিঞ্চাক গান; দেশী রেডিওতে এখন দেদারসে বাজছে দেশীর পাশাপাশি পাশের দেশের গান! সেকথা এখন থাক; বলিলে তো অনেক বলিতে হইবে....!

যাই হোক সেই প্রবল ঢিঞ্চাক গান শুনে আমার আসলেই হার্টবিট বেড়ে গেল; একটা উন্মাদনার আভাসও মস্তিষ্ক জানান দিল; মনে হল আহা এই গান যদি কোন কন্সার্ট বা সেইরকম সাউন্ড সিস্টেমে শোনা যেত তাহলে খুব একটা দারুণ অভিজ্ঞতা হত! সেই গানে ঢোলের ব্যাবহার ছিল খুব; সেটাই মূলত বুকের ধুকপুকানির জন্ম দিচ্ছিল। মনে পড়ল ইসলাম তো বাদ্যযন্ত্রের ব্যাবহার সীমাবদ্ধ রেখেছে সেই চামড়ার ছোট ঢোল বা....  এর মাঝেই এবং নিষিদ্ধ করেছে সেইসব বাদ্যযন্ত্র যেগুলো স্নায়ুকে আলোড়িত করে; সাধারনত সেগুলো অনেক তারযুক্ত বাদ্যযন্ত্রগুলো যেমন গীটার!
তো এইসব গীটার; ড্রাম কি করে? 

এগুলো আমাদের মস্তিষ্ককে আলোড়িত করে; উত্তেজিত করে; আমাদের হার্টবিট বেড়ে যায়; শ্বাস-প্রশ্বাস ঘন ও অগভীর হয়ে যায়; কোন কোন ক্ষেত্রে আমাদের চোখে পিউপিল বড় হয়ে যায়; আমরা ঘামতে থাকি; সব ইন্দ্রিয় সজাগ হয়ে ওঠে... এগুলো সবই হচ্ছে Sympathetic Action; মেডিকেলীয় পরিভাষায় সিম্প্যাথেটেক এর সাথে প্রচলিত ইংরেজী Sympathy এর কোন মিলই নেই তাই শিরোনামে থেমে থাকার সুজোগ নেই!

ইসলাম বলে মুসলামান জীবন-যাপন করবে প্যারাসিম্প্যাথেটিক! মানে!?
Parasympathetic action বা activity বলতে খুব প্রচলিত উদাহরণ হচ্ছে ঘুমের সময়! আরো ভালোভাবে বুঝতে আপনি যখন খুব গভীরভাবে কোনকিছু ভাবেন বা ধ্যানে থাকেন তখন আপনার শ্বাস-প্রশ্বাস হয় আস্তে আস্তে কিন্তু গভীর; হৃদস্পন্দন কমে আসে (লম্বা শ্বাস মানেই লম্বা জীবন! একথা আরেকদিন বলিব! খুবই চমৎকার ব্যাপার!!); শরীরের তাপমাত্রা কমেও আসতে পারে; চোখের পিউপিল ছোট হয়ে আসে (ঘুমের সাথে বা অন্ধকারে তাকানোর সাথে মিলে যায় তাইনা!?);
এসব উদাহরণ যোগী বা ইয়োগীদের (নাছারার দেশ ভারতেই এই যোগী বেশী! ব্যাটারা আবার য়্যুবরাজ'এর মত "ইয়োগী" বানাইছে সেইখান থেকে "ইয়োগা";  বলিউড গার্লরাও এখন ইয়োগা ব্যাবসা করে!) সাথে মিলে যায় তাইনা!? যারা ধ্যান করতে করতে এমন পর্যায়ে পৌছায় যে তাদের শরীরের শ্বসন বা মেটাবোলিজম পর্যন্ত কমে যায়; কয়েকদিন খেতেও হয়না; বাইরের আঘাত-শব্দ-তাপ মোটকথা এই দুনিয়ার কোন স্টিমুলেশন বা প্রভাবক তাকে জাগাতে পারেনা!

তো নামাজ কি সেই ধ্যান না!?
নামাজ কি এমনভাবে পড়তে বলা হয়নাই যে আপনি আল্লাহকে দেখছেন আল্লাহ আপনাকে দেখছেন; এই উদাহরণ কি পৃথিবীতে নাই যে পায়ে গেথে থাকা তীর যেটা ব্যাথার কারণে খোলা যাচ্ছিল না সেটা নামাযরত অবস্থায় টেনে খোলা গেল এবং নামাযী কোন অনুভূতিই পেলেন না! কি অসম্ভব একাগ্রতা! (সুবহানাল্লাহ!) এবং যিনি ব্যাথা কারণে পায়ের তীর খুলতে দিচ্ছিলেন না তিনি সেই ব্যাক্তি যিনি মদিনার প্রবেশপথের পুরো দরজা এক হাতে তুলে নিয়ে ঢাল বানিয়েছিলেন;  ইয়াহুদি নাসারাও বিরাট কাজে ঝাপ দেয়ার আগে তার নাম চিৎকার করে বলে ওঠে "ইয়া আলী"!

তো ইসলাম আসলে সিম্প্যাথেটিক না প্যারাসিম্প্যাথেটিক!
প্যারাসিম্প্যাথেটিক!

*** আমি ইসলাম নিয়ে এমন কথা খুব একটা বলিনা; এমনিতে আমি মূর্খ মানুষ; জ্ঞান কম; নিজেও খুব মানতে পারি তাও না; ভুল হলে শোধরানোর মানসিকতা রাখি। তারপরেও যদি এই কথাগুলো কাউকেও ভাবায় এই চিন্তা থেকেই লেখা। আসলেই "ঠিক" কোন পথ তা আল্লাহই ভালো জানেন!
ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম!

Wednesday, October 5, 2016

০৯.০৮.২০১৬

আমার প্রায় সবসময়ই কোথাও যাবার ক্ষেত্রে কেমন উত্তেজনা-শংকা কাজ করে। এটা ছোটবেলায় হতনা কিন্ত এখন একা যাবার ক্ষেত্রে এমনটা হয়। এমনিতেই আমি ঘরকুনো মানুষ; কাজের জন্যেও পারতপক্ষে আমি কোথাও যাইনা; কাজ বাদ।
যেতেই হবে পরিস্থিতিতে আমার প্রিপারেশন লাগে অনেক; মোট যাত্রা সময়ের চাইতে প্রস্তুতিতে সময় বেশী যায় এমন অবস্থা! আমার মোটামুটিরকম যুক্তিচিন্তা বলে এইটা মানা যায়না; খুবই অপচয়!

আজকেও এমনটা হচ্ছিল। কিন্তু প্রথা ভাংবার জন্যই খুবই ক্যাজুয়াল ছিলাম; সকালে উঠেছি একটু দেরীতে আর ব্যাগপত্রও কিছু আগে থেকে গোছানো ছিলনা! অনেকদিন পর পর ঢাকা যাই বলে অনেক ছোটখাটো কাজ জমে থাকে!

সকালে আধোঘুমে স্বপ্ন দেখলাম আমি বাদ মিস করেছি এবং কোন এক অসীম পথের ধারে অনিশ্চিত বসে আছি; কিন্তু ভাড়াও আমাকে দিতেই হবে! আরো কি কি আতংক ছিল স্বপ্নটায় এখন ভালো মনে পড়ছেনা!

শুধু একটা গানের কলিটা; কি দারুণ সুর ছিল সেটাতে : শুকনো পাতা হয়ে ঝরবো তোমার জানালায় তুমি জানালা খোলাই রেখো

আবার ঘুম ভেঙ্গেই যে লাইনগুলো মাথায় এসে হুড়মুড় করে পড়েছে সেগুলো হচ্ছে:
"ফিরে এসো সুরঞ্জণা!
নক্ষত্রের রুপালী আগুন ভরা রাতে
ফিরে এসো হৃদয়ে আমার!"

তো যেই আমি সবসময় বাসের জন্য অপেক্ষা করি; আমার বাস আসেনা আমার পরে আসা যাত্রীরা বাসে উঠে চলে যায় সেই আমি আজ পুরো বাসকেই প্রায় দশ মিনিট অপেক্ষায় রেখেছি; বাসের চাকা থেমেছে একেবারে ফেরীতে উঠে তাও শেষ যানবাহন-গাংমারী! চমৎকার আবহাওয়া; বৃষ্টি নেই মেঘ আছে; রোদ নেই বাতাস আছে; সাথে আমার আম্মুটাও নেই তাই প্রবল-প্রমত্তা পদ্মার চার্মটুকুও আছে! লাইফ ইস এক্সট্রাওর্ডিনারি টুডে!!!

০৯.০৮.২০১৬

Thursday, June 23, 2016

সহজ-সরল গ্রামের মানুষ

গ্রামের "সহজ-সরল" মানুষগুলো আসলে কত যে "সহজ-সরল" তা আমি আমার জীবদ্দশায় বুঝতাম না।

শহুরে রাজনীতিতে হয়ত "পলিটিক্স" ঢুকে গেছে কিন্তু গ্রামের রাজনীতিতে "ভিলেজ পলিটিক্স" ঢুকে গেছে! "ভিলেজ পলিটিক্স" এমনই জিনিস যে এর উপর "পিএইচডি" চালু করা যায়! (আমি সিরিয়াস!)

এরা কারণে অকারণে মারে-মারা খায়-মারা যায়!
শুনতে খারাপ লাগলেও ইহাই সত্য!

আপনি এদের ভালো করতে চাইলে এরা ভাবে "নিশ্চই মতলব আছে"; চাইলেও এদের ভালো করতে পারবেন না!

এখানকার লোকের "কমন সেন্স" সবচাইতে "আনকমন"; বিশেষকরে নারী বা মহিলাদের অবস্থা ভয়াবহ খারাপ! এদের চিকিতসা করতে গেলেই আপনার "আয়োডিন" নামক মৌলটির কথা বারবার মনে পড়লে বাধ্য!

আমার এলাকা আবার এক কাঠি সরেস! এখানে সবাই নিজেকে "নেতা"জ্ঞান করে! যে সে নেতা না ডাইরেক্ট "বঙ্গবন্ধু"! তো এক এলাকায় সবাই "বঙ্গবন্ধু" হলে কী হয়!?

এই রমযান মাসের ভোরে অনেক কষ্ট নিয়ে এই কথাগুলো লিখছি! এমনিতেই এখানে লোকেদের "বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম" হচ্ছে "মারামারি"; তারপরেও ভেবেছিলাম হয়ত রোজার মাসে শয়তান যেহেতু বন্দী এই "ফিজিক্যাল এ্যসল্ট" কিছুটা কমবে! কিন্তু কীসের কী!?

এখানে লোকেরা ইফাতারের আগে মারামারি করে...
ইফাতার করে মারামারি করে...
সেহরি খেয়ে মারামারি করে...
ইফতার-সেহরি তাদের কাছে মারামারি করবার জন্য আলাদা সময় মাত্র!

Saturday, March 12, 2016

শিশুদের জন্য নিরাপদ কি "আমরা"?


যতদিন এই দেহে আছে প্রাণ,
প্রানপনে সরাবো পৃথিবীর জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি।

কিশোর কবি সুকান্ত চেয়েছিলেন পৃথিবীর যত জঞ্জাল সরিয়ে আমাদের আজকের ও আগামী দিনের শিশুর জন্য ‘বাসযোগ’ ও ‘নিরাপদ’ একটি পৃথিবী রেখে যেতে। আর আজকের বাস্তবাতায় পত্রিকার পাতা খুললে ‘পৃথিবী’ কতটা বাসযোগ্য হয়েছে তার চাইতে বড় হয়ে দেখা দেয় ‘আমরা’ কতটা ‘নিরাপদ’ হতে পেরেছি শিশুদের জন্য, আমাদের চারপাশ কতটা নিরাপদ হয়েছে শিশুদের জন্য!?

গত বছর জুলাই পর্যন্ত করা একটি পরিসংখ্যান বলছে জুলাই ২০১৫ পর্যন্ত ১৯১ জন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, যা গত বছরগুলোতে ছিল ৩৫০ (২০১৪), ২১৮ (২০১৩) ও ২০৯ (২০১২)। বিভিন্ন সংগঠন ও গণমাধ্যমের করা এই পরিসংখ্যান এর প্রতিক্রিয়ায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ  স্বীকার করে নেন “প্রকৃত সংখ্যাটি আরো বেশী”। চলতি বছরের জুলাই নাগাদ পরিসংখ্যান শেষে এ সংখ্যা আরো বাড়বে তা নিঃসন্দেহে আশঙ্কা করা যায়। সেই সাথে আরো আশঙ্কার কথা হচ্ছে এই শিশু নির্যাতনের ‘ভয়াবহতা’ও বেড়ে চলেছে।

আমরা মনে করতে পারি গেল বছরের সিলেটের শেখ মো। সামিউল আলম রাজন (১৩) এর কথা, যাকে সামান্য করণে ‘পিটিয়ে’ হত্যা করা হয়। ময়না তদন্তে তার শরিরে ৬৪ টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েচিল। অতটুকু শরিরে ৬৪ টি আঘাত! এবং এটির ভিডিওচিত্র ধারণ করে তা অন্তর্যালে ছড়িয়ে দেয়া মধ্যযুগীয় মানসকতাকেও হার মানায়। অথবা খুলনার রাকিব (১২) এর কথা। যে নির্যাতন সইতে না পেরে গ্যারেজ পরিবর্তন করেও প্রাণে বাচতে পারেনি। চাকায় বাতাস দেয়ার কম্প্রেসার তার পায়ুপথ দিয়ে ঢুকিয়ে তার শরিরকে ‘ফোলানো’ হয়, এক পর্যায়ে তার ছোট্ট শরির বড়দের মত ফুলে ওঠে এবং পেটের নাড়িভুড়ি (খাদ্যনালী) এমনকি ফুসফুসও ‘ফুলে ফেটে’ গিয়ে তার মৃত্যু হয়!

আমরা একটু থেমে নিতে পারি...

ঠিক কতটা পৈশাচিকতা মানুষের মনে লুকানো থাকলে এভাবে শিশুহত্যা করা যায়!?
আর এমন উদাহরণ এখন অহরহ আমাদের চারপাশে। প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা নিশ্চিতভাবেই আরো অনেক বেশী। আমরা কাছের মানুষেরাই নিজেদের দ্বন্দ্বের জের’এর শিকার বানাচ্ছি শিশুদের; সম্পত্তির জের ধরে একসাথে চারজনকে হত্যা করে বালুতে পুতে ফেলছি, সামান্য মাছ চুরির অপরাধে আওয়ালদের চোখ তুলে মেরে ফেলছি, অপহরণ করে বস্তাবন্দী করে ফেলছি এবং সবচাইতে হতাশার কথা হচ্ছে শিশুর সবচাইতে আপনজন মা-বাবা তারাও সবক্ষেত্রে শিশুর জন্য নিরাপদ নয়। মা হয়ে দুই সন্তানের মুখে বিষ ঢেলে দেয়া, গলাকেটে হত্যা করা এনং সপ্রতি পরকীয়ার জের ধরে দুই শিশুকে শ্বসরোধ করে হত্যা তারই প্রমাণ দেয়।

মেয়েশিশুদের ক্ষেত্রে নির্যাতনের চিত্র আরো ভয়াবহ, সেগুলো নানা সামাজিক কারণে সামনে আসেও কম। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি ৩ জন মেয়ে শিশুর দুই জনই তার শৈশব-কৈশরে যৌণ নির্যানতের স্বীকার! এবং এগুলো বেশীরভাগই ঘটছে তাদের কাছর মানুষ ও আপনজনদের দ্বারা! ছেলে শিশুরাও এর ব্যতিক্রম নয়, তাদের ক্ষেত্রেও নির্যাতনকারী ‘কাছের মানুষ’ বা ‘পরিচিতজন’!

শিশু হত্যা ও নির্যাতনের এই চিত্রই প্রকাশ করে ভেতরে ভেতরে আমাদের মানসিকতা কতটা পৈশাচিক হয়ে উঠেছে। খেয়াল করলেই দেখা যাবে রাজন বা রাকিবের কিন্তু এ বয়সে থাকার কথা স্কুলে, কোনমতেই তাদের এসব জায়গায় থাকার কথা না। রাষ্ট্রযন্ত্রের নানা অদক্ষতাই হোক আর সামাজিক অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণেই হোক ‘শিশুশ্রম’ আমরা বন্ধ করতে পারিনি উপরন্তু রাজনৈতিক সহিংসতায় আমরা শিশুদেরকে ‘ব্যাবহৃত” হতে দেখেছি।

আমরা নিজেরাই শিশুদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছি, আমাদের স্বার্থ আদায়ে আমরা দুর্বল শিশুদের ব্যাবহার করছি। আমাদের মূল্যবোধের চূড়ান্ত অবক্ষয় ঘটেছে। “আগামী দিনের ভবিষ্যত” শিশুদের আমরাই নিজেদের হাতে হত্যা করছি, নির্যাতন করছি যা আমাদের একটি ‘অন্ধকার’ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। যে সমাজে শিশুরাই ভালো করে বেড়ে উঠতে পারেনা তার “সুন্দর ভবিষ্যত” কেবলমাত্র কল্পনাতেই, বাস্তবে ‘অসম্ভব’।

তাই এখনই সময়, খুব বেশী দেরি হয়ে যাবার আগেই আমাদের উচিত আমাদের ভবিষ্যতের দিকে নজর দেয়া। শিশুদের জন্য আমদের চারপাশকে ‘উপযোগী’ করে তোলা, মানসিকতার পরিবর্তন করা, সামাজিক অস্থিরতা কমিয়ে আনা, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করা, সর্বপরি নিজেদের কাছে নিজেদের এই প্রশ্ন রাখা,

শিশুদের জন্য কি নিরাপদ “আমরা”?

@আহমেদুর রহমান সবুজ , ০৩,০৩,২০১৬